সূচিপত্র
- কবি পরিচিতি
- কবিতার বিষয়বস্তু
- অনুবাদক
- উৎস
- নামকরণ
- বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) মান ১
- অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী মান ১
- সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন মান ৩
- রচনাধর্মী প্রশ্ন ৫
অসুখী একজন
পাবলো নেরুদা
কবি পরিচিতি
পাবলো নেরুদা ছিলেন দক্ষিণ আমেরিকার 'চিলি' নামক দেশের বিখ্যাত কবি ও রাজনীতিবিদ। চিলির পারাল শহরে ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই নেফতালি রিকার্দো রেইয়েস বাসওআল্লা ওরফে পাবলো নেরুদার জন্ম হয়েছিল।
১৯১০ সালে পাবলো নেরুদা তেমুকোর স্কুলে ভরতি হন। সেখানে তিনি প্রাচীন সাহিত্য, বিশেষ করে গ্রিক ও লাতিন নিয়ে পড়াশোনা করেন ১৯২০ সাল পর্যন্ত। ১৯১৭ সালের ১৮ জুলাই তেমুকো শহরেরই খবরের কাগজ 'লা মানিয়ানা'-তে তাঁর কবিতা প্রথম ছাপা হয়। ১৯২০ সালের অক্টোবরে তিনি 'পাবলো নেরুদা' ছদ্মনাম নেন। 'নেরুদা' এই নামটির উৎস হলেন তার প্রিয় কবি পল ভেরলেইন। পাবলো নেরুদাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রভাবশালী কবি মনে করা হয়। তাঁর রচনা একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে নেরুদাকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। যদিও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে এই পুরস্কার প্রদান নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯২৫ সালে 'বাবায়ো দে বাসতোস্' নামে তিনি একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। এই বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতাবলি 'এ-বিশ্বের অধিবাসী' এবং 'মানুষের অন্তহীন প্রশ্ন' প্রকাশিত হয়। বিখ্যাত কলম্বিয়ান ঔপন্যাসিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস একসময় নেরুদাকে 'বিংশ শতাব্দীর সকল ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি' বলে অভিহিত করেছিলেন।১৯৩৫ সালের জুলাই মাস থেকে কবির জীবন ঘটনাময় ঘাতপ্রতিঘাতে ভরা। এ বছরেই স্পেনের গৃহযুদ্ধে, ফ্যাসিস্টবাহিনীর হাতে নিহত হন ।
কবিতার বিষয়বস্তু
আমাদের পাঠ্য ‘অসুখী একজন কবিতাটি শুরু হয়- কথক তাঁর প্রিয়তমাকে কেন্দ্র করে। কথক তাঁর প্রিয়তমাকে দুয়ারে অপেক্ষমান রেখে দূরে-বহুদূরে চলে গেলেন। প্রিয়তম ফিরে আসবে এই সরল বিশ্বাসে অপেক্ষায় প্রহর গুণতে থাকে কথকের প্রিয়তমা। সে জানেই না যে তার প্রিয়তম আর কখনও ফিরে আসবে না। পাঠ্য কবিতায় সময়ের বহমানতা প্রকাশ করেছেন সপ্তাহ, মাস, বছর কেটে যায়। সময়ের সাথে সাথে ফিকে হয়ে আসে কথকের স্মৃতি। কথকের পায়ের চিহ্ন ধুয়ে যায়, সেখানে ঘাস জন্মায়। এইভাবে প্রতিদিনকার অপেক্ষার মুহূর্তগুলো একটার পর একটা পাথরের মতো জমতে জমতে ভারী হয়ে নেমে আসে অপেক্ষারত মেয়েটির মাথার উপর। তারপর আসে প্রাণঘাতী যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের বীভৎসতা রক্তস্নাত আগ্নেয় পাহাড়ের মতো, যার নিষ্ঠুরতার হাত থেকে বাদ যায়নি শিশুরাও। খুন হয় বাড়ির সকল লোকেরা । সমস্ত স্মৃতি মুছে যায়। কিন্তু এতসবের মধ্যেও বেঁচে থাকে কবির প্রিয় সেই মেয়েটি। কারণ প্রেম শাশ্বত, তার মৃত্যু নেই। চিরন্তন প্রেম মানুষকে মরতে মরতে বাঁচতে শেখায়। যুদ্ধের আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে বাদ যায় না দেবালয়ও। শান্ত ধ্যানমগ্ন দেবতারা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে। এই দুঃসময়ে দেবতারাও মানুষকে বাঁচাতে ও স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হন। যুদ্ধের সময়ে কবির ফেলে আসা বাড়ি, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি, জলতরঙ্গ সবকিছুই ধ্বংস হয়। শুধু শহরের জায়গায় ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের বীভৎস মাথা। ধ্বংসের তীব্রতাকে স্পষ্ট করে দেয় কালো রক্তের দাগ। আর এই ধ্বংসের মধ্যে জেগে থাকে মৃত্যুহীন ভালোবাসা। যে ভালোবাসা নিয়ে কবির জন্য অপেক্ষা করে থাকে তার ভালোবাসার প্রিয়তমা।
অনুবাদক
১৯৪৮ সালের ২৩ শে জুলাই মুরশিদাবাদের বহরমপুরে, সাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্যের জন্ম। তাঁর বাবা ছিলেন বিখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব বিজন ভট্টাচার্য এবং মা স্বনামধন্য সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী নবারুণ ভট্টাচার্য রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— ‘এই উপত্যকা আমার দেশ না’ (কাব্যগ্রন্থ), ‘হারবার্ট’ (উপন্যাস), ‘কাঙাল মালগট’ (উপন্যাস), ‘রাতের সার্কাস' (কাব্যগ্রন্থ), ইত্যাদি ।
উৎস
বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে পাবলো নেরুদার লেখা 'Extra- vagaria' কাব্যগ্রন্থের 'La Desdichada' কবিতাটি নবারুণ ভট্টাচার্য, ‘অসুখী একজন' নামে অনুবাদ করেন। কবিতাটি তাঁর অনূদিত ও সংকলিত ‘বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে' বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়।
নামকরণ
পাবলো নেরুদার রচিত ‘অসুখী একজন' কবিতায় দেখা যাচ্ছে যে কথক তার ভালোবাসার প্রিয়জনকে অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দূরে-বহুদূরে চলে যান। কবির সেই প্রিয়জনের অপেক্ষা শেষ নেই । সে জানেই না যে তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না। প্রিয়তমের স্মৃতি বুকে নিয়ে অতৃপ্ত প্রিয়তমার অপেক্ষা করতে করতে তাঁর স্মৃতিগুলো তার কাছে ফিকে হতে থাকে। দীর্ঘ অদর্শনজনিত বেদনার ফলে সময়গুলো তার মাথার উপরে চেপে বসে পাথরের মতো ভারী হয়ে যায়। এরপর ভয়ংকর যুদ্ধে বাড়ির অন্যেরা এমনকি শিশুরা পর্যন্ত মারা যায়, কিন্তু সেই অপেক্ষমান মেয়েটির মৃত্যু হয় না। যুদ্ধের ফলে সমতলসহ দেবালয়, কবির স্বপ্নের বাড়ি, বারান্দা, গাছ ঝুলন্ত বিছানা সব চূর্ণ হয়ে জ্বলে যায়। শহর ধ্বংস হয়, চারিদিয়ে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের কালো দাগ। এতসবের মধ্যেও মেয়েটি তার ভালোবাসার উপর বিশ্বাস রেখে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে যায়। অন্তরের অপেক্ষা ও স্বপ্নের বিনাশ নেই। তবু মেয়েটির সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। তাই ‘অসুখী একজন’ কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বলা যায় ।
১. সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ) মান ১
১.১ “অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ?
ক) The Captain's Verse
খ) The Yellow Heart
গ) Extravagaria
ঘ) Still Another Day
উত্তর The Yellow Heart
১.২ অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল-
ক) দরজায়
খ) ছাদে
গ) বারান্দায়
ঘ) রাস্তায়
উত্তর দরজায়
১.৩ পাবলো নেরুদার প্রকৃত নাম হল—
ক) নেফতালি রিকার্দো রেইয়েস বাসওআলতো
খ) রিকার্দো বাসওআলতো
গ) রেয়েন্স রিকার্দো নেফতালি বাসোয়ালতো
ঘ) পল ভেরলেইন নেরুদা
উত্তর নেফতালি রিকার্দো রেইয়েস বাসওআলতো
১.৪ ‘সে জানত না’–‘সে’ হল—
ক) পরাজিত সৈনিক
খ) কবিতার কথক
গ) কবির ভালোবাসার জন
ঘ) কবির মা
উত্তর কবির ভালোবাসার জন
১.৫ ‘অসুখী একজন' কবিতায় একটা কী চলে গেল বলতে কবি কোন জন্তুর উল্লেখ করেছেন ?
ক) মানুষ
খ) কুকুর
গ) হরিণ
ঘ) বেড়াল
উত্তর কুকুর
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
১.৬ ‘সে জানত না’–সে কী জানত না?
ক) কথক ফিরে আসবে
খ) কথক আর কখনও ফিরে আসবে না
গ) কথক কখন আসবে
ঘ) কথক শীঘ্রই ফিরে আসবে
উত্তর কথক আর কখনও ফিরে আসবে না
১.৭ ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি কটা সপ্তাহ কেটে যাওয়ার উল্লেখ করেছেন ?
ক) একটি
খ) দুটি
গ) চারটি
ঘ) তিনটি
উত্তর একটি
১.৮ কে হেঁটে চলে গেল?
ক) গল্পের কথক
খ) প্রিয়তমা
গ) একটি কুকুর
ঘ) গির্জার এক নান
উত্তর গির্জার এক নান
১.৯ ‘অসুখী একজন' কবিতায় জন্মানোর কথা বলেছেন ?
ক) ঘাস
খ) দুটি
গ) গাছ
ঘ) তিনটি
উত্তর ঘাস
১.১০ ‘অসুখী একজন' কবিতায় একটার পর একটা বছর গুলো কীভাবে নেমে এল বলে কবি মনে করেছেন ?
ক) পাথরের মতো
খ) বোমারুর মতো
গ) ফুলের মতো
ঘ) ঘাসের মতো
উত্তর পাথরের মতো
১.১১ বৃষ্টি কী ধুয়ে দিয়েছিল?
ক) রাস্তার ধুলো
খ) কথকের পায়ের দাগ
গ) রক্তের দাগ
ঘ) শিশুদের শব
উত্তর রক্তের দাগ
১.১২ তারপর যুদ্ধ এল'- 'যুদ্ধ এল'-র অর্থ—
ক) যুদ্ধ শেষ হল
খ) যুদ্ধ হবে এমন
গ) যুদ্ধ শুরু হল
ঘ) যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায়
উত্তর যুদ্ধ শুরু হল
১.১৩ তারপর যুদ্ধ এল'-
ক) পাহাড়ের আগুনের মতো
খ) রক্তের সমুদ্রের মতো
গ) আগ্নেয় পাহাড়ের মতো
(ঘ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো
উত্তর রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো
১.১৪ ‘অসুখী একজন' কবিতায় সব ধ্বংস হলেও অপেক্ষমান সেই মেয়েটির কী হল না—
ক) অসুখ হল না
(গ) খুন হল না
(খ) মৃত্যু হল না
ঘ) জ্বলে গেল না
উত্তর মৃত্যু হল না
১.১৫ ‘অসুখী একজন' কবিতায় কীসে সমস্ত সমতল ধ্বংস হল?
ক) ভূমিকম্পে
খ) ধসে
(গ) আগুনে
ঘ) বন্যায়
উত্তর আগুনে
১.১৬ ‘অসুখী একজন' কবিতায় দেবতাদের চেহারা ছিল—
ক) শান্ত-হলুদ
খ) লাল-নীল
গ) অশান্ত-নীল
(ঘ) ধীর-হলুদ
উত্তর শান্ত-হলুদ
১.১৭ ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না'—কারা স্বপ্ন দেখতে পারল না?
ক) দেবতারা
খ) শয়তানরা
গ) মানুষেরা
ঘ) যক্ষরা
উত্তর দেবতারা
১.১৮ ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি বারান্দার যে বিছানাটিতে ঘুমিয়েছিলেন সেটি ছিল—
ক) জ্বলন্ত
খ) উড়ন্ত
গ) বাড়ন্ত
ঘ) ঝুলন্ত
উত্তর ঝুলন্ত
২. অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন মান
২.১ 'অসুখী একজন' কবিতায় কবির পায়ের দাগ কীসে ধুয়ে গিয়েছিল?
উত্তর নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কথকের পায়ের দাগ বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়েছিল। স্মৃতির মলিনতা অর্থে উপমাটি ব্যবহৃত হয়েছে।
২.২ 'অসুখী একজন কবিতায় কবি পরিত্যক্ত রাস্তায় কী জন্মানোর কথা বলেছেন?
উত্তর ‘অসুখী একজন' কবিতায় পরিত্যক্ত রাস্তায় কবি ‘ঘাস’ জন্মানোর কথা বলেছেন।
২.৩ 'নেমে এল তার মাথার ওপর। কার মাথার উপর কী নেমে আসার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন' কবিতায় কথকের জন্য অপেক্ষা করতে করতে তার প্রিয়তমার মাথার উপর পাথরের মতো ভারী একটার পর একটা বছর নেমে এল।
২.৪ ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি ‘পাথরের মতো' বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর পাবলো নেরুদা তাঁর ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কথকের জন্য তাঁর প্রেমিকার অন্তহীন অপেক্ষা আর দুঃসহ বেদনাকে পাথরের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
২.৫ ‘তারপর যুদ্ধ এল–কোন্ কবিতার লাইন ? "যুদ্ধ এল'-এর অর্থ কী ?
উত্তর 'তারপর যুদ্ধ এল’–এটি ‘অসুখী একজন’ কবিতার পড়ক্তি। এখানে 'যুদ্ধ এল' বলতে বোঝানো হয়েছে, কথকের দেশে যুদ্ধ শুরু হল।
২.৬ ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি যুদ্ধে কাদের খুন হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন?
উত্তর ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি যুদ্ধে, শিশু ও বাড়িদের খুন হওয়ার কথা বলেছেন।
২.৭ 'অসুখী একজন' কবিতায় উল্লিখিত যুদ্ধে অপেক্ষাতর মেয়েটির কী হল?
উত্তর 'অসুখী একজন' কবিতায় উল্লিখিত ভয়াবহ যুদ্ধের বিধ্বংসী মত্ততা অতিক্রম করে শুধু আশ্চর্যজনক ভাবে বেঁচে রইল, সেই অপেক্ষাতর মেয়েটি।
২.৮ 'অসুখী একজন' কবিতায় কবি দেবতাদের চেহারার কী বর্ণনা দিয়েছেন?
উত্তর 'অসুখী একজন' কবিতায় দেবতাদের ছবি শান্ত-হলুদ ।
২.৯ 'তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।- তারা বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর ‘অসুখী একজন' কবিতা থেকে গৃহীত ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না' এই উক্তিটিতে 'তারা' বলতে শান্ত-হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে।
৩. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন কমবেশি ৬০ শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো 1 + 2 = 3
৩.১ ‘আমি তাকে ছেড়ে দিলাম— কবি কাকে ছেড়ে দিলেন? তাকে তিনি কীভাবে রেখে এসেছিলেন?
উত্তর আলোচ্য অংশটি পাবলো নেরুদার লেখা অসুখী একজন কবিতার থেকে নেওয়া হয়েছে । কবিতা থেকে গৃহীত অংশে কথক তাঁর প্রিয় নারীকে অপেক্ষায় রেখে, নিজ বাসভূমি ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন। স্বদেশ ছেড়ে দূর থেকে দূরতর কোনো স্থানে চলে যাওয়ার সময় তিনি দরজায় তাঁর অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে যান কোনো এক প্রিয়জনকে। যদিও সে জানত না যে কবি আর কখনো ফিরে আসবে না। এইভাবেই কবি এক চিরকালীন বিদায় মুহূর্তের ছবি
এঁকেছেন।
৩.২ ‘বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ ঘাস জন্মালো রাস্তায়—উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি পাবলো নেরুদার লেখা অসুখী একজন কবিতার থেকে নেওয়া হয়েছে । উদ্ধৃতিটি কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে জীবন ও জীবিকার তাগিদে বহুদূরে পাড়ি দেন। থমকে যায় মেয়েটির জীবন কিন্তু সময় থেমে থাকে না, তাই কথকের চলে যাওয়াতে জীবনের সে যেই পথ থেকে গিয়েছিল সে পথে পায়ের দাগ বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় নতুন নতুন ঘাস জন্মানোর কথা এখানে বলা হয়েছে
৩.৩ 'সেই মেয়েটির মৃত্যু হল না।–কোন মেয়েটির কেন মৃত্যু হল না?
উত্তর আলোচ্য অংশটি পাবলো নেরুদার লেখা অসুখী একজন কবিতার থেকে নেওয়া হয়েছে । পাবলো নেরুদার রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় প্রিয়তম কথকের জন্য অপেক্ষারত যে মেয়েটির উল্লেখ পাওয়া যায়, তার কথা বলা হয়েছে।
মেয়েটি জানত না যে তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না । জীবন আপন ছন্দে চলল, ক্রমে সপ্তাহ-বছর অতিক্রান্ত হল। কবির পদচিহ্ন বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল, তবু অপেক্ষা চলল। এরপর যুদ্ধের গ্রাসে নগর, দেবালয় চূর্ণবিচূর্ণ হল এবং মৃত্যু হল শিশুসহ অনেক মানুষের। শুধু অপেক্ষমান মেয়েটির মৃত্যু হল না কারণ ভালোবাসা অমর ।
৩.৪ ‘আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়। মেয়েটি কে? সে অপেক্ষা করে কেন?
উত্তর পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন’ কবিতায় ‘সেই মেয়েটি’ হল কথকের প্রিয়তমা, যাকে রেখে কবি বহুদুরে চলে গিয়েছিলেন। → কবি যে আর ফিরে আসবেন না এ কথা তার প্রিয়তমা জানত না। তার অপেক্ষার বোঝা গভীর থেকে গভীরতর হলেও সে ভেঙে পড়েনি। এই মেয়েটিকে ধ্বংস যেন স্পর্শ করতে পারে না, মৃত্যু-যুদ্ধ-হিংসা, দাঙ্গার স্পর্শ পেরিয়েও তাই সে অমলিন থাকে। কারণ ভালোবাসার কখনও মৃত্যু হয় না; সে সময় থেকে সময়ান্তরে অপেক্ষা করে, বয়ে চলে নিজস্ব ধারায়।
৪. কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো
৪.১ ‘আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়। অপেক্ষমান এই নারীর মধ্যে দিয়ে কবি মানবীয় ভালোবাসার যে অনির্বাণ রূপটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর পাবলো নেরুদা তাঁর ‘অসুখী একজন’কবিতার অপেক্ষমান নারীর মধ্যে ভালোবাসার অনির্বাণ রূপটি ফুটিয়ে তুলেছেন। কথক তার প্রিয় নারীকে রেখে চলে যান বহুদূরে। সে জানত না যে, তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না। সময় চলমান, জীবনও তার সাথে চলমান। সপ্তাহ-বছর কেটে যায়। কথকের পদচিহ্ন জলে ধুয়ে গিয়ে তার উপর ঘাস জন্মায়। তবুও সে নারীর অপেক্ষার শেষ নেই ।
এইভাবে অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে মুহূর্তগুলো একটার পর একটা পাথরের মতো ভারী হয়ে নেমে আসে মেয়েটির মাথার উপর।
যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ল সে শহরে। সে আগুনের করাল গ্রাসের হাত থেকে বাদ গেল না শিশু কিংবা দেবতারাও। শান্ত হলুদ দেবতারা তাদের মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে। কবির স্বপ্নের বাড়ি-ঘর সব চূর্ণ হয়ে যায়, পুড়ে যায় আগুনে। যেখানে শহর ছিল সেখানে চারিদিকে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা, আর রক্তের একটা কালো দাগ। কিন্তু এতসবের মধ্যেও কবির প্রিয়তমা বেঁচে রইল কারণ প্রেম শাশ্বত, তার মৃত্যু নেই। এই প্রেম মানুষকে মরতে মরতে বাঁচতে শেখায়। এই ধ্বংসের মধ্যেও বেঁচে থাকে মেয়েটির অনির্বাণ ভালোবাসা, বেঁচে থাকে ভালোবাসার মানুষের জন্য তার প্রতীক্ষা।
৪.২ ‘আমি তাকে ছেড়ে দিলাম’—কোন্ কবিতার অংশ? আমি কে? তাঁর ‘ছেড়ে’ আসার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি পাবলো নেরুদার লেখা অসুখী একজন কবিতার থেকে নেওয়া হয়েছে । পাঠ্য কবিতায় ‘আমি’ বলতে কবিকে বোঝানো হয়েছে। কবি এখানে কথকের ভূমিকায় স্মৃতি চারণার মাধ্যমে বর্তমানে এসে উপস্থিত হয়েছেন।
কবির ব্যক্তিজীবনের ছায়া পড়েছে কবিতাটিতে। কখনও কর্মসূত্রে কখনও বা রাজনৈতিক কারণে তাঁকে জীবনে বহুবার স্বদেশভূমি ছেড়ে আত্মগোপন করতে হয়েছে। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার যন্ত্রণা ও অনুভূতি কবি জীবিকা ও জীবনের তাগিদে স্বদেশভূমি ত্যাগ করে প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে বহু দুরে চলে যান। কবি যে ফিরে আসবেন না তা অপেক্ষমান প্রিয়তমার জানা ছিল না। কবি দেশত্যাগ করার সত্ত্বেও প্রিয়তমার জীবন আপন গতিতেই চলে। এভাবেই সপ্তাহ থেকে বছর কেটে যায়। কবির পদচিহ্ন বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়, সেখানে ঘাস জন্মায়। বিচ্ছেদের বছরগুলো একটার পর একটা পাথরের মতো মাথায় নেমে আসে। এরপর যুদ্ধ শুরু হয়, ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি, মৃত্যু হয় শিশুদেরও। ক্রমে ধ্বংসের সেই আগুনে দেবালয়, কবির স্বপ্নের বাড়ি এবং শহর সবকিছু ছারখার হয়ে যায়। তবু এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকে মেয়েটির ভালোবাসা। তার অপেক্ষা, চিরন্তন ভালোবাসা যা ধ্বংসস্তূপে আলোর মতো, মানবহৃদয়ের বিশদ্ধতাকে জ্বালিয়ে রাখে।
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
0 Comments