সিরাজদ্দৌলা প্রশ্ন উত্তর class 10 । সিরাজদ্দৌলা নাটক । সিরাজদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর । সিরাজদ্দৌলা নাটকের বিষয়বস্তু ।

 







      সূচিপত্র

  • লেখক পরিচিতি
  • বিষয়সংক্ষেপ
  • উৎস
  • নামকরণ
  • রচনাধর্মী প্রশ্ন


এই নাটকটি থেকে কোন MCQ/ SAQ পড়ার দরকার নেই কারণ এই নাটক থেকে শুধুমাত্র রচনাধর্মী প্রশ্ন মান 5 আসবে ।


সিরাজদ্দৌলা 

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত


লেখক পরিচিতি


বাংলা নাটক আজ সারা বিশ্বে অন্যতম ।  যাদের হাত ধরে তার এই সাফল্য, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন রবীন্দ্রপরবর্তী যুগের বিখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। ১৮৯২ সালে খুলনা জেলার সেনহাটিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছাত্রাবস্থাতেই শচীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। এজন্য তাঁর পড়াশোনাতেও সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। জাতীয় বিদ্যালয়ে পাঠকালে তিনি সখারাম দেউস্কর, অতুলচন্দ্র গুপ্ত প্রভৃতি বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে আসেন এবং বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত হন। শিক্ষক সখারাম দেউস্করের কাছে তিনি সাংবাদিকতার পাঠ নেন এবং ‘হিতবাদী’ পত্রিকায় সখারামের সহযোগী ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি ‘বিজলি’, ‘আত্মশক্তি’, ‘কৃষক’ ভারত পত্রিকার ভার সম্পাদক ও সহসম্পাদক রূপে সামলেছেন। তাঁর তিরিশ বছরের নাট্যকালকে স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এই দুই কালসীমায় ভাগ করা হয়।
১৯২৯ সালে তাঁর প্রথম নাটক ‘রক্তকমল' প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক নাটক হল ‘গৈরিক পতাকা’, ‘সিরাজদ্দৌলা’, ‘রাষ্ট্রবিপ্লব’, ‘ধাত্রীপান্না’ প্রভৃতি। শচীন্দ্রনাথের মঞ্চসফল সামাজিক নাটকগুলি হল ‘স্বামী-স্ত্রী’, ‘তটিনীর বিচার’, ‘সংগ্রাম ও শান্তি, ‘প্রলয়’, ‘নার্সিংহোম’, ‘মাটির মায়া’, ‘জননী’, ‘ঝড়ের রাতে’ প্রভৃতি। স্বাধীনতা-পরবর্তী যুগে শুরু হয় তাঁর নাট্য-জীবনের দ্বিতীয় পর্ব।
শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ঐতিহাসিক নাট্যকার উপাধি পেয়েছিলেন । তিনি ১৯৬১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।


উৎস


‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের মূল নাটক ‘সিরাজদ্দৌলা’র দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্য থেকে নেওয়া হয়েছে ।


বিষয়বস্তু


শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ঐতিহাসিক নাটক ‘সিরাজদ্দৌলা’-র দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যটি আমাদের পাঠ্য নাটক হিসেবে গৃহীত। এই অংশে আমরা দেখি বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজের অসহায়তা, এ যেন ট্র্যাজিক নায়কের করুণ পরিণতি। মুর্শিদাবাদে সিরাজের দরবার কক্ষে একদিকে যেখানে হাজির মোহনলাল, মীরমদন ও গোলাম হোসেনের মতো নবাবের একদল হিতাকাঙ্ক্ষী, অন্যদিকে ছিলেন মীরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ যারা মূলত কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটকে সমর্থন করে নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মিলিতভাবে চেষ্টা চালান । ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা-ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নবাবের সাহায্যপ্রার্থী ছিলেন। নবাব উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ হাজির করে ওয়াটকে দরবার থেকে বের করে দিলে ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে যারা নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই মীরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখ নবাবের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। নবাব তখন মীরজাফর, জগৎশেঠদের মুখোশ খুলতে থাকেন। অন্যদিকে মোহনলাল, মীরমদন প্রমুখ নবাবের অনুগতরা তর্কে প্রবৃত্ত হলে রাজসভা দুটো শিবিরে ভাগ হয়ে যায়। ষড়যন্ত্রকারীদের উপযুক্ত সময়ে শাস্তি না দিয়ে নবাব ভীষণ ভুল করেন। শাস্তির বদলে খারাপ ভাষা প্রয়োগ করে পরিবর্তন করতে চায় । সিরাজ নিজের দেশের প্রতি যে ভালোবাসা ফুটে উঠেছে তা উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। গোলাম হোসেন ছাড়া সবাই যখন দরবার ত্যাগ করেছেন তখন সেখানে হাজির হন সিরাজের মাসি ঘসেটি বেগম। পুত্রশোক ও বন্দি জীবনের জ্বালা জুড়োতে তিনি যখন সিরাজের মৃত্যু কামনা করছিলেন, তখন সেখানে সিরাজের স্ত্রী লুৎফা হাজির হন এবং ঘসেটির ক্ষোভ কিছুটা প্রশমন করেন। ঘসেটির অভিশাপ আর পলাশির যুদ্ধের আসন্ন পরিণতির কথা চিন্তা করে নবাবের হৃদয়ের হাহাকারের মধ্যে দিয়ে নাট্যাংশটি শেষ হয়।


নামকরণ


সাহিত্যের মতো নাটকেও নামকরণ বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । পাঠ্য নাট্যাংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা” নামক মূল নাটক থেকে গৃহীত।  লেখক এই অংশটিরও নামকরণ করেছেন সিরাজদ্দৌলা। এখন আলোচনার বিষয় এই নামকরণ কতটা সার্থক ও যুক্তিযুক্ত । নাটকের এই অংশ বিশেষে আমরা দেখেছি কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজকে ঘিরেই কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। নবাবের দরবারে উপযুক্ত প্রমাণসহ নবাব তাঁর ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ খুলে তাদের বিতাড়িত করতে চাওয়ায় যেন মৌচাকে ঢিল পড়ার অবস্থায় পৌঁছায় শত্রুপক্ষ এতে বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে দরবার ত্যাগ করতে উদ্যত হয়। নবাব তখন নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়ে সকলকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার আহ্বান জানান এবং সকলে রাজিও হন। তারপর সেখানে হাজির হন অন্যতম ষড়যন্ত্রী ঘসেটি বেগম। তাঁর অভিশাপ নবাবকে দুর্বল করে দেয়। নবাবের স্ত্রী লুৎফা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। ঘরেবাইরে ষড়যন্ত্রের মাঝে পড়ে তাঁর সিংহাসন আজ টলমল করছে। নাটকের এই অংশের কাহিনি সিরাজকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। তাঁরই বিড়ম্বিত ভাগ্যের ছবি প্রতিভাত হয়েছে নাটকে। তাই নামকরণ যথাযথ ও সার্থক হয়েছে।


রচনাধর্মী প্রশ্ন


১. কম-বেশি ১২৫ শব্দের মধ্যে উত্তর লেখ ।


১.১  'এই পত্র সম্বন্ধে তুমি কিছু জান ?’– কে, কার উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন করেছেন? পত্রটি সম্বন্ধে যা জান লেখো।


অথবা, 'মুন্সিজি, এই পত্রের মর্ম সভাসদদের বুঝিয়ে দিন।–পত্রটির মর্ম আলোচনা করো।


উত্তর আলোচ্য অংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশের অন্তর্গত উপরোক্ত মন্তব্য দ্বারা লেখক যে আলোচনা করেছেন রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের অন্যতম নাট্যকার ও নাট্যসংস্কারক শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা ‘সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে স্বয়ং সিরাজ তাঁর রাজদরবারে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রেরিত প্রতিনিধি ওয়াটসের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন করেছেন।

শত্রু পরিবেষ্টিত হয়েই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের সিংহাসন লাভ। সিংহাসন লাভের সময় থেকেই নবাবের চারিপাশে একদিকে নিজ আত্মীয় ও রাজকর্মচারীরা আর অন্যদিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিনিয়ত স্বার্থসিদ্ধির জন্য চক্রান্তের জাল বুনে চলেছিল। আলিনগরের সন্ধির শর্ত রক্ষার্থে তাঁর দরবারে নিয়োজিত ওয়াটস্ ও কোম্পানির নৌসেনাপতি ওয়াটসনের মধ্যে চক্রান্তপূর্ণ যে দুটি চিঠির আদানপ্রদান হয়েছিল তা নবাবের হস্তগত হয়। উদ্ধৃত অংশে ওয়াটসনের চিঠিটির কথা বলা হয়েছে। সেখানে চিঠির শেষের দিকের কয়েকটি ছাত্রে চক্রান্তের স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়। নবাবের আদেশে মুনশি অনুবাদ করে যা শোনায় তার সারমর্ম হল, ক্লাইভের পাঠানো সৈন্য শীঘ্রই কলকাতায় পৌঁছোবে। সেনাপতি ওয়াটসন খুব শীঘ্রই মাদ্রাজে জাহাজ পাঠাবেন এবং কলকাতায় আরও সৈন্য ও জাহাজ পাঠানোর কথা জানাবেন। তাঁর উদ্যোগে বাংলায় আগুন জ্বলে উঠবে। অতএব এই চিঠির মূল উদ্দেশ্য সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে বাংলা দখল ।

১.২‘তোমাদের কাছে আমি লজ্জিত।–কে, কাদের কাছে লজ্জিত? লজ্জা পাওয়ার কারণটি উল্লেখ করো।


উত্তর  আলোচ্য অংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশের অন্তর্গত উপরোক্ত মন্তব্য দ্বারা লেখক যে আলোচনা করেছেন । আমাদের পাঠ্য শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশের দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে রাজদরবারে ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা-সহ সমস্ত ফরাসিদের কাছে নিজের অক্ষমতার জন্য নবাব স্বয়ং লজ্জিত বলে জানিয়েছেন।
ইংরেজ, ডাচ, পোর্তুগিজদের মতো ফরাসিরাও দীর্ঘকাল বাংলাদেশে বাণিজ্য করেছে। ঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতা থাকায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। বাংলাতেও সেই শত্রুতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু নবাবের সুনজরে থাকার জন্য ফরাসিরা নিরুপদ্রবেই ছিল। ঘরে বাইরে নবাব নানান সমস্যায় জর্জরিত থাকার সুযোগে ইংরেজরা চন্দননগর আক্রমণ করে ফরাসিদের বাণিজ্যকুঠি নিজেদের অধিকারে আনে এবং গোটা চন্দননগরের অধিকার নবাবের কাছে দাবি করেন। ফরাসিরাও নবাবের সাহায্য প্রার্থনা করে আবেদন জানান। নবাবের কলকাতা জয় ও শওকত জঙ্গের সাথে সংগ্রামে অর্থবল ও লোকবল কমে আসে। মন্ত্রীমণ্ডলও যুদ্ধের পক্ষপাতী ছিল না। সমস্যা জর্জরিত সম্রাট নতুন করে আর ইংরেজদের সাথে বিবাদে জড়াতে চাননি। নবাবের এই অক্ষমতার জন্য ফরাসিদের কাছে তিনি লজ্জিত।

১.৩ ‘এই মুহূর্তে তুমি আমার দরবার ত্যাগ করো।—বক্তা কাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলি বলেছেন?
এরূপ উক্তির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।


উত্তর  আলোচ্য অংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশের অন্তর্গত উপরোক্ত মন্তব্য দ্বারা লেখক যে আলোচনা করেছেন । শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের নাট্যাংশ ‘সিরাজদ্দৌলা'র কেন্দ্রীয় চরিত্র নবাব সিরাজ তাঁর রাজদরবারে কোম্পানির নিয়োজিত ইংরেজ রাজকর্মচারী ওয়াটসকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলি বলেছিলেন।
বাংলার মসনদে তরুণ নবাব সিরাজ আসীন হওয়া থেকেই ইংরেজরা নবাবের অন্য শত্রুদের সাথে হাত মিলিয়ে তাঁকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছিল। সহ্যের সীমা ছাড়ালে সিরাজ কলকাতা আক্রমণ করে জয়ী হন এবং কলকাতার নতুন নামকরণ করেন আলিনগর। কিছুদিনের মধ্যেই ইংরেজরা কলকাতা পুনরুদ্ধার করে আলিনগরের সন্ধি করে। সন্ধির শর্ত রক্ষার্থে কোম্পানি নবাবের দরবারে ওয়াটকে নিযুক্ত করে। ওয়াটস্ নবাবের দরবারে থেকে নবাবের সভাসদদের তাঁর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করেন এবং কলকাতায় ইংরেজদের নবাবের আদেশ লঙ্ঘনে উৎসাহ দেন। এ কথা নবাবের অজানা নয়। প্রমাণ হিসেবে নবাব ওয়াটসনের ও ওয়াটসের চিঠি দরবারে পেশ করান—যেখানে ষড়যন্ত্রের ছবি স্পষ্ট। ওয়াটস্ নবাবের কাছে বলেন 'Punish me' এবং 'I can only say that I have done my duty' –এতেই নবাব উত্তেজিত হয়ে কথাগুলি বলেন।

১.৪  'আমার এই অক্ষমতার জন্যে তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।—বক্তা কাদের কাছে কোন্ অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন?


উত্তর  আলোচ্য অংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশের অন্তর্গত উপরোক্ত মন্তব্য দ্বারা লেখক যে আলোচনা করেছেন । নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লিখিত। বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলার জীবনকাহিনি এবং নবাব তথা বাংলার ট্র্যাজিক পরিণতি এই নাটকের বিষয়বস্তু। উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা সিরাজদ্দৌলা, ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন। দীর্ঘকাল ধরেই ইংরেজদের সঙ্গে ফরাসিদের বিবাদ। সেই বিবাদের সূত্রপাত সাগরপারে হলেও, তার সূত্র ধরেই এদেশেও উভয়পক্ষের মধ্যে রেষারেষি ছিল অব্যাহত। ইংরেজরা সিরাজদ্দৌলার অনুমতি ব্যতীতই চন্দননগর আক্রমণ ও অধিকার করে। সেখানকার সব ক-টি ফরাসি বাণিজ্য কুঠি অধিগ্রহণের দাবি জানায়। এর সুবিচারের আশায় ফরাসিরা নবাবের শরণাপন্ন হলেও সিরাজদ্দৌলা তাদের সাহায্য করতে পারেননি। এখানে তিনি নিজের সেই অক্ষমতার কথাই বলেছেন।
বক্তা নবাব সিরাজদ্দৌলা ফরাসিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। কারণ, ফরাসিরা তাঁর সঙ্গে কখনোই দুর্ব্যবহার করেনি। তাই তাদের প্রতি সম্পূর্ণ সহানুভূতি থাকলেও এবং তাদের অভিযোগ ন্যায়সংগত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি তাদের সাহায্য করতে অপারগ। নিজের অক্ষমতায় এবং নিষ্ক্রিয়তায় আন্তরিকভাবে লজ্জিত সিরাজ ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন।


১.৫  'আপনাদের কাছে এই ভিক্ষা যে, আমাকে শুধু এই আশ্বাস দিন'- কাদের কাছে বক্তা ‘ভিক্ষা' চান? তিনি কী আশ্বাস প্রত্যাশা করেন?

উত্তর  আলোচ্য অংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশের অন্তর্গত উপরোক্ত মন্তব্য দ্বারা লেখক যে আলোচনা করেছেন । প্রখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা' নাটক থেকে গৃহীত উক্তিটির বক্তা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজের। তিনি তাঁর সভাসদ জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, দুর্লভ রায়, মীরজাফর প্রমুখর কাছে ক্ষমা চান। নবাবের সভাসদ জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, দুর্লভ রায়, মীরজাফর প্রমুখ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে হাত মিলিয়ে তাঁকে বাংলা মসনদ থেকে উৎখাত করতে চাইছিলেন। এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় মীরজাফরকে লেখা ওয়াটসের একটি চিঠি যখন নবাবের হাতে আসে। তবুও নবাব তাঁদের শাস্তি বিধান না করে সৌহার্দ্যের ডাক দেন। নবাবের অকপট স্বীকারোক্তি। মীরজাফরদের চক্রান্ত অন্যায় হলে তাঁর নিজের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ আছে। নবাব বুঝেছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে দেশীয় শক্তিকে একত্রিভূত করতে গেলে মীরজাফরদের সহায়তা প্রয়োজন। আর এজন্যই বাংলাকে ইংরেজদের হাত থেকে বাঁচাতে সিরাজ তাঁর সভাসদদের কাছ এই প্রার্থনা অনুরোধ করেছিলেন ।


আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা 

জ্ঞানচক্ষু

অসুখী একজন

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি

আফ্রিকা কবিতা

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম

বহুরূপী 

সিরাজদ্দৌলা

অভিষেক

প্রলয়োল্লাস


আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10

Father's Help Lesson 1 Unit 1

Father's Help Lesson 1 Unit 2

Father's Help Lesson 1 Unit 3

The Passing Away of Bapu Unit 1

The Passing Away of Bapu Unit 2

The Passing Away of Bapu Unit 3

Fable Lesson 2



১.৬ ‘জাতির সৌভাগ্য-সূর্য আজ অস্তাচলগামী;'-
কোন্ জাতির কথা বলা হয়েছে? তার 'সৌভাগ্য-সূর্য' আজ অস্তাচলগামী বলার কারণ কী?

উত্তর আলোচ্য অংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশের অন্তর্গত উপরোক্ত মন্তব্য দ্বারা লেখক যে আলোচনা করেছেন । শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশে যে ‘জাতির’ প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে তা ‘বাঙালি জাতিকে’-ই বুঝিয়েছে। — উদ্ধৃত উক্তিটি আমরা ‘সিরাজদ্দৌলা' নাটকে সিরাজের কণ্ঠে পাই। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে বাণিজ্য করতে এসে ভারতীয়দের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এদেশের রাজ্যনীতি ও অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে এবং পলাশির যুদ্ধে সিরাজকে পরাস্ত করে তারা বণিকের মানদণ্ডকে রাজদণ্ডে পরিণত করে। এই পরাজয়ের পিছনে কোম্পানির শক্তির চেয়ে নবাবের সভাসদদের সম্মিলিত অশুভ শক্তির অবদান বেশি ছিল, নবাব তা ভালোভাবেই অনুধাবন করেছিলেন। তাই মীরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ প্রমুখের চক্রান্তের কাছে নবাবকে অসহায় লেগেছে। সব জেনেশুনেও নবাব তাদের শাস্তি দিতে পারেনি। নবাব জানতেন যে এককভাবে নয় সম্মিলিতভাবেই কোম্পানির শক্তিকে পরাস্ত করতে হবে। বাংলার মান-মর্যাদা-স্বাধীনতা রক্ষার্থে নবাব হিন্দু-মুসলমানসহ সম্মিলিত ভারতবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন। নবাব জানত পলাশির যুদ্ধে পরাজয় মানে ভারতীয়দের স্বাধীনতার অবসান।

১.৭ 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে লুৎফা চরিত্রটি আলোচনা করো।


উত্তর  আলোচ্য অংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশের অন্তর্গত উপরোক্ত মন্তব্য দ্বারা লেখক যে আলোচনা করেছেন । আমাদের পাঠ্য শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে যে দুটি নারী চরিত্র আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সিরাজপত্নী লুৎফা। নাট্যাংশে লুৎফাকে আমরা প্রথম দেখতে পাই ঘসেটি বেগমের সাথে নবাবের মতিঝিলের অধিকার নিয়ে যখন বাদানুবাদ চলছিল তখন। ঘসেটির কথায় শওকতের মতো নবাবকে কেউ যেদিন হত্যা করবেন সেদিনই তিনি শান্তি পাবেন। স্বামীর বিরুদ্ধে এই অভিসম্পাত শুনে লুৎফা অনুরোধের সুরে ঘসেটিকে এমন কথা বলতে বারণ করেন। ঘসেটির ভর্ৎসনা সত্ত্বেও লুৎফা তাঁর উদ্দেশ্যে একটা কটু কথাও উচ্চারণ করেননি, এটি তার বিনয়। স্বামীর প্রতি লুৎফা একনিষ্ঠ, তাই স্বামীর বিপদের বিষয়ে সে উদ্‌বিগ্না। বিভিন্ন সময়ে তিনি স্বামীর পাশে থেকে, কাজে সাহায্য করেছেন। ঘসেটির প্রতিহিংসা থেকে বাঁচাতে নবাবকে মতিঝিল ফিরিয়ে দেবার কথা বলেছেন। স্বল্প রাজত্বকালে নানান সমস্যায় দীর্ণ সিরাজকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে যোগ্য সঙ্গিনীর পরিচয় দিয়েছেন। লুৎফা হলেন সেই নারী যিনি ট্র্যাজিক নায়কের পাশে থেকে তাকে ভালোবাসা-সেবা-সাহস ও আস্থা জুগিয়েছেন যাতে হতাশ সমস্যাদীর্ণ নবাবের যন্ত্রণার ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ পড়েছে।


১.৮  সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশ অবলম্বনে সিরাজদ্দৌলার চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।


উত্তর  আলোচ্য অংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশের অন্তর্গত উপরোক্ত মন্তব্য দ্বারা লেখক যে আলোচনা করেছেন । বিংশ শতাব্দীতে নাট্যকাররা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে মুক্তি-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক রূপে ভেবে নাটক রচনায় ব্রতী হন। শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা' নাটকের সিরাজ সেরকমই এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রের যে গুণগুলি সহজেই আমাদের আকর্ষণ করে, সেগুলি হল—
সিরাজ তাঁর নিজের বিরুদ্ধে যাবতীয় ষড়যন্ত্রকে কখনোই ব্যক্তিগত আলোকে দেখেননি। বরং বাংলার বিপর্যয়ের দুশ্চিন্তাই তাঁর কাছে প্রধান হয়ে ওঠে। বাংলাকে বিদেশি শক্তির হাত থেকে বাঁচাতে তিনি অধস্তনের কাছে ক্ষমা চাইতে বা শত্রুর সঙ্গে সন্ধিতেও পিছপা হন না।
সিরাজ বুঝেছিলেন বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়— হিন্দু-মুসলমানের মিলিত প্রতিরোধই পারে বাংলাকে ব্রিটিশদের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে। সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত এই জাতীয়তাবোধ সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত।
নবাব বুঝেছিলেন ষড়যন্ত্রীরা যেমন ভুল করেছে, তেমনি অনেক ত্রুটি আছে তাঁর নিজেরও। বাংলার বিপদের দিনে তাই তিনি নিজের ভুল স্বীকারে দ্বিধাগ্রস্ত হন না।
সিরাজ তাঁর শত্রুদের চক্রান্ত বুঝতে পারলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তেমনই ঘসেটি বেগমের অভিযোগেরও তিনি প্রতিবাদ করতে পারেন ।


১.৯  ... তাই আজও তার বুকে রক্তের তৃষা; জানি
না, আজ কার রক্ত সে চায়। পলাশি, রাক্ষসি পলাশি।- 'পলাশি নামকরণের কারণ নির্দেশ করে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।


উত্তর আলোচ্য অংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশের অন্তর্গত উপরোক্ত মন্তব্য দ্বারা লেখক যে আলোচনা করেছেন । নদিয়া জেলার ভাগীরথীর পূর্বতীরে বাংলার ঐতিহাসিক স্থান পলাশি। লাল পলাশের রঙে রঙিন হয়ে থাকত বলেই জায়গাটির এমন নাম। বাংলার ইতিহাসে পলাশি সেই রঙ্গমঞ্চ, যেখানে এক লজ্জাজনক ও কলঙ্কময় অধ্যায় অভিনীত হয়েছিল। পলাশের লাল রঙের সাথে রক্তের রং একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। শচীন্দ্রনাথের নাটকে পলাশির শেষ পরিণতি কী হবে তা না জেনেই আগে সিরাজ উক্তিটি করেছেন। সিরাজ জানতেন কোম্পানির সাথে যুদ্ধে বিজয়ী হওয়া কঠিন। নবাব ঘরেবাইরে শত্রুবেষ্টিত হয়ে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। ষড়যন্ত্রে সংশয়াচ্ছন্ন সিরাজ মানসিক দিক থেকে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিলেন। ঘসেটি বেগমের অভিসম্পাত তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাই নাট্যাংশের শেষ সংলাপে নবাবের দ্বন্দ্বদীর্ণ ক্ষতবিক্ষত মনের পরিচয় মেলে। মানসিক টানাপোড়েনে আহত নবাব আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পলাশে রাঙা পলাশির লালের নেশা ঘোচেনি, তাই সে রক্তের পিয়াসি। কিন্তু কার রক্ত তা অজানা, কারণ যুদ্ধের পরিণতি সম্পর্কে তিনি ছিলেন অনিশ্চিত।

আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা 

জ্ঞানচক্ষু

অসুখী একজন

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি

আফ্রিকা কবিতা

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম

বহুরূপী 

সিরাজদ্দৌলা

অভিষেক

প্রলয়োল্লাস


আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10

Father's Help Lesson 1 Unit 1

Father's Help Lesson 1 Unit 2

Father's Help Lesson 1 Unit 3

The Passing Away of Bapu Unit 1

The Passing Away of Bapu Unit 2

The Passing Away of Bapu Unit 3

Fable Lesson 2






Post a Comment

0 Comments