আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Africa Poem Question Answer | Madhyamik Bengali

 


আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Africa Poem Question Answer | Madhyamik Bengali




আফ্রিকা 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

           সূচিপত্র:


ক) লেখক পরিচিতি
খ) উৎস
গ) গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
ঘ) নামকরন
ঙ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ) প্রশ্নের মান-১
চ) কম-বেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও।(SAQ) প্রশ্নের মান-১
ছ) কম-বেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৩
জ) কমবেশি ১৫০ টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৫


লেখক পরিচিতি


১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ ২৫ বৈশাখ  কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, মা সারদাদেবী। দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন তাঁর পিতামহ। প্রথাগত পড়াশোনায় তাঁর আগ্রহ ছিল না। তথ্যপ্রমাণ থেকে বোঝা যায় ক্যালকাটা ট্রেনিং অ্যাকাডেমি, ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্মাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি, সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল প্রভৃতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বল্পদিনের পড়ুয়া হিসেবে তিনি ফিফথ ইয়ার ক্লাস পর্যন্ত পড়েছিলেন। এভাবে বিদ্যালয়ে পড়ার অনীহা লক্ষ করে পিতা দেবেন্দ্রনাথ যোগ্য শিক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বিষয় বাড়িতেই পড়ার বন্দোবস্ত করেছিলেন। ছেলেবেলাতেই তাঁর কাব্যচর্চা শুরু হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের থেকে বয়সে বড়ো জ্যোতিপ্রকাশ গঙ্গোপাধ্যায়ের উৎসাহে তিনি কবিতা রচনায় হাত দিয়েছিলেন। তাঁর এই কাব্যচর্চার কথা শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন দাদা সোমেন্দ্রনাথ কিংবা  স্কুলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট গোবিন্দচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। একাজে তাঁকে সবথেকে বেশি প্রেরণা জুগিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের নতুন বউঠান জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী কাদম্বরী দেবী এবং এই সময় মূলত তাঁরই উৎসাহে কাব্যগুরু হিসেবে তিনি মেনে নিয়েছিলেন কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীকে। তাঁর লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সন্ধ্যাসঙ্গীত। ১৮৮২ সালে কাব্যটি প্রকাশিত হলে সেকালের বিখ্যাত সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজের গলার মালা খুলে রবীন্দ্রনাথের গলায় পরিয়ে তাঁকে সাদরে বরণ করে নিয়েছিলেন বাংলার কাব্যজগতে। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘প্রভাত সঙ্গীত’, ‘ছবি ও গান',  ও কোমল', 'মানসী', 'সোনার তরী', 'চিত্রা',  'কথা', 'কাহিনী', 'ক্ষণিকা', 'নৈবেদ্য', 'স্মরণ', ‘খেয়া’। ‘গীতাঞ্জলি’, ‘গীতিমাল্য', ‘গীতালি'র মধ্যে এক অপূর্ব অধ্যাত্মচেতনা অনুভব করা যায়। এই পর্বে রচিত কবিতাগুলিকে স্বীকৃতি জানাতেই ১৯১৩ সালে সুইডিশ অ্যাকাডেমি গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য তাঁকে নোবেল পুরস্কারে পুরস্কৃত করে। তারপর থেকে তাঁর বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
১৯৪১ সালে (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ) বার্ধক্যজনিত কারণে  শারীরিক অসুস্থতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা' কবিতাটি ১৩৪৩ বঙ্গাব্দে একটি সাময়িক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে ‘সঞ্চয়িতা’ কাব্যসংকলনের যুক্ত করা হয়।

কবিতার বিষয়বস্তু

সৃষ্টির প্রথম লগ্ন থেকেই আফ্রিকা মহাদেশ এক রহস্যময় প্রকৃতির মধ্যে ঢাকা ছিল। এই রহস্যই তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল ।  তার এই আদিম রূপের কারণে সভ্য সমাজের কাছে সে ছিল উপেক্ষার পাত্র। আর এ কারণেই পশ্চিমি সভ্যতা আফ্রিকাকে সহজেই পদানত করেছিল; ক্রীতদাস জোগানের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল এই অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ। ক্রমশ অরণ্যের গভীরে লুকিয়ে থাকা আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ প্রকাশ পেল তথাকথিত সভ্য দুনিয়ার কাছে। সভ্যতার কথা ভুলে অন্য সব দেশ অমানবিকভাবে আক্রমণ করল আফ্রিকাকে। রক্ত, ঘাম, আর কান্নায় ভিজে গেল আফ্রিকার মাটি। সভ্য দুনিয়ার অসভ্য আগ্রাসন প্রকট হয়ে উঠল আফ্রিকার  পটভূমিকায়। ঔপনিবেশিক শোষণ-পীড়ন আর লাঞ্ছনার শিকার আফ্রিকার সেই অপমানই ব্যথা হয়ে বেজেছে কবির বুকে। তাই তিনি মনে করেন অপমানিত আফ্রিকা ও তার অধিবাসীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নেওয়াটাই সভ্য সমাজের প্রতিটি শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কর্তব্য। এরই মধ্যে দিয়ে ঔপনিবেশিক পাপের প্রায়শ্চিত্ত ঘটবে।

নামকরণের সার্থকতা


নামকরণ হলো কোন সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । যা বিষয়বস্তু সম্পর্কে পাঠককে একটি নতুন দিশা দেখায় ।  আলোচ্য ‘আফ্রিকা' কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ আফ্রিকা মহাদেশের উদ্ভব, তার সমাজ-রাজনৈতিক যন্ত্রণার অভিব্যক্তি এবং অপমানের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন। এ কবিতার মূল বিষয়, মুখ্য ভাব ও কেন্দ্রীয় ইতিহাস—সবই হল আফ্রিকা। কবির বিশ্বাস, আফ্রিকার জন্ম হয়েছিল প্রাচী ধরিত্রীর হৃদয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে। স্রষ্টার আশ্চর্য পরিকল্পনায় ‘প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু’-স্পর্শে, সৌন্দর্য ও ভয়াবহতার ব্যতিক্রমী রসায়নে জন্ম নেয় আফ্রিকা। কিন্তু তারপর থেকে আফ্রিকার ভূমি অপবিত্র হল বহিরাগতদের স্পর্শে। দাস-ব্যবসায়ী ইউরোপীয়দের ‘লোহার হাতকড়ি’বার বার বিধ্বস্ত করল তার প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদকে। এই কবিতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্পষ্ট করেই, পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিকতাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর তীব্র অনাস্থা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেছেন। উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে’, ‘নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে’, ‘এল মানুষ-ধরার দল’, ‘সভ্যের বর্বর লোভ’, ‘নির্লজ্জ অমানুষতা’, ‘অশুভ ধ্বনি’, ‘দিনের অন্তিমকাল’, ‘হিংস্র প্রলাপের মধ্যে' ইত্যাদি শব্দবন্ধ  প্রকৃতপক্ষে সভ্যতার ইতিহাসে সাম্রাজ্যবাদী-ফ্যাসিস্ট শাসকের লেলিহান লোভ ও বাসনার ষড়যন্ত্রে ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছিল । শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়দের কাছে আফ্রিকা যেন তাদের  মৃগয়াভূমি হতে শুরু করলো ।  এই ‘মানহারা মানবীর' দুয়ারে দাঁড়িয়ে তিনি সকলের হয়ে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস প্রকৃতিময় মানবতার বাহক আফ্রিকা সহিতা ও ক্ষমাশীলতার মন্ত্রেই বিশ্বজুড়ে মনুষ্যত্বের পুণ্যবার্তাকে সঞ্চারিত করবে।  এই কবিতাটির ‘আফ্রিকা' নামকরণ সার্থক হয়েছে বলা যায় ।

১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো (MCQ) মান ১


১.১ আফ্রিকা হল একটি—


ক) শহর
খ) মহাদেশ
গ) মহাসাগর
ঘ) উপমহাদেশ


উত্তর মহাদেশ

১.২ স্রষ্টার অসন্তোষ ছিল-


ক) তাঁর সৃষ্টির প্রতি
খ) নিজের প্রতি
গ) আফ্রিকার প্রতি
ঘ) পশ্চিমি দুনিয়ার প্রতি


উত্তর নিজের প্রতি

১.৩ কবি আদিম যুগের যে বিশেষণ ব্যবহার করেছেন তা হল-


ক) উদ্ভ্রান্ত
খ) চেতনাতীত
গ) দৃষ্টি-অতীত
ঘ) অপমানিত


উত্তর উদ্ভ্রান্ত


১.৪ স্রষ্টা নিজের সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন, কারণ—


ক) বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমা
খ) সভ্যের বর্বর লোভ
গ) নিজের প্রতি অসন্তোষ
ঘ) আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাত


উত্তর নিজের প্রতি অসন্তোষ


১.৫ যে প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, সে হল—


ক) দুর্গমের রহস্য
খ) দৃষ্টি অতীত যাদু
গ) যুগান্তরের কবি
ঘ) রুদ্র সমুদ্রের বাহু


উত্তর রুদ্র সমুদ্রের বাহু


১.৭  আফ্রিকা চিনেছিল জলস্থল-আকাশের—


ক) দুর্বোধ সংকেত
খ)দুর্গমের রহস্য
গ) জাদু
ঘ)  বিদ্রূপ


উত্তর দুর্গমের রহস্য


১.৮  প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু আফ্রিকার মনে যা জাগাচ্ছিল, তা হল—


ক)  বিভীষিকা
খ) মন্ত্ৰ
গ) অসন্তোষ
ঘ) ক্রন্দন


উত্তর মন্ত্ৰ


১.৯  আফ্রিকা বিদ্রুপ করছিল—


ক) বিভীষিকা প্রচন্ড মহিমা
খ) কালো ঘোমটার নিচে
গ)  বিরুপ এর ছদ্মবেশে
ঘ) তাণ্ডবের দুন্দু ভিনিনাদে


উত্তর বিরুপ এর ছদ্মবেশে


১.১০ তাণ্ডব' শব্দের অর্থ হল-


ক) অপমান
খ) তছনছ করা
গ) উদ্দাম নাচ
ঘ) হইচই করা


উত্তর উদ্দাম নাচ


১.১১ 'আফ্রিকা' কবিতায় কবি ‘ছায়াবৃতা' সম্বোধন করেছেন কারণ -


ক) আদিম অরণ্যকে
খ) আফ্রিকার কৃয়াঙ্গী ক্রীতদাসীকে
গ) আফ্রিকাকে
ঘ) ঔপনিবেশিক শাসনকে


উত্তর আফ্রিকাকে


১.১২ ওরা এল-


ক) লোহার হাতকড়ি নিয়ে
খ) মানুষ-ধরার দল নিয়ে
গ) অরণ্যপথে
ঘ)  সমুদ্রপারে


উত্তর লোহার হাতকড়ি নিয়ে


১.১৩ 'এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে’-ওরা হল-


ক) ভারতীয়
খ) ইউরোপীয়
গ) আমেরিকান
ঘ) জংলি উপজাতি


উত্তর ইউরোপীয়


১.১৪ শিশুরা খেলছিল -


ক) মায়ের কোলে
খ) পাড়ায় পাড়ায়
গ) গুপ্ত গহ্বরে
ঘ)বাষ্পা কুল অরণ্য পথে


উত্তর মায়ের কোলে


১.১৫ প্রদোষ কাল শব্দের অর্থ হলো


ক) দিনের বেলা
খ) সন্ধ্যা বেলা
গ)রাতের বেলা
ঘ) দুপুর বেলা


উত্তর সন্ধ্যা বেলা


১.১৬ কবি যুগান্তরের কবি কে কোথায় দাঁড়াতে বলেছেন -


ক) আদিম অরণ্যে
খ) মানহারা মানবের দ্বারে
গ) দিনের অন্তিম কালে
ঘ) সমুদ্র তীরে


উত্তর দিনের অন্তিম কালে


১.১৭ ‘দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে’–‘মানহারা মানবীর বলতে বোঝানো হয়েছে—


ক) বিশ্বমাতাকে
খ) ভারতবর্ষকে
গ) ছায়াবৃতাকে
ঘ) আফ্রিকাকে


উত্তর আফ্রিকাকে

আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা 

জ্ঞানচক্ষু

অসুখী একজন

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি

আফ্রিকা কবিতা

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম

বহুরূপী

সিরাজদ্দৌলা

অভিষেক

প্রলয়োল্লাস


আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10

Father's Help Lesson 1 Unit 1

Father's Help Lesson 1 Unit 2

Father's Help Lesson 1 Unit 3

The Passing Away of Bapu Unit 1

The Passing Away of Bapu Unit 2

The Passing Away of Bapu Unit 3

Fable Lesson 2


২. কম-বেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও।(SAQ) প্রশ্নের মান-১


২.১ ) আফ্রিকা কীভাবে ভয়কে হার মানাতে চায়ছিল ?


উত্তর আলোচ্য অংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতার অংশ । প্রকৃতির এইরূপ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আফ্রিকা নিজেকে আরও উগ্র ও বিভীষিকাময় করে তুলে ভয়কে হার মানাতে চাইছিল।


২.২ ‘হায় ছায়াবৃতা,’–আফ্রিকাকে ছায়াবৃতা বলার কারণ কী?


উত্তর আলোচ্য অংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতার অংশ ।  মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আফ্রিকা একদিকে অবশিষ্ট পৃথিবীর আলো থেকে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, অন্যদিকে দুর্গম, আদিম জঙ্গলাকীর্ণ প্রকৃতি তাকে ছায়াবৃতা করে তুলেছিল।


২.৩ ‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে’- ‘ওরা’কারা?


উত্তর আলোচ্য অংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতার অংশ  । ‘আফ্রিকা' কবিতায় ‘ওরা’ বলতে অত্যাচারী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের বলা হয়েছে, যারা আফ্রিকার মানুষদের বন্দি করে ক্রীতদাসে পরিণত করেছিল।


২.৪ 'সভ্যের বর্বর লোভ নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ
অমানুষতা।- তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
অথবা, ‘গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।- উদ্ধৃতাংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করো।


উত্তর আলোচ্য অংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতার অংশ  ।  মানবতার পূজারি রবীন্দ্রনাথ। আফ্রিকার জনজাতি, তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উপর নেমে আসা ঔপনিবেশিক শক্তির তথা সাম্রাজ্যবাদের হিংস্র থাবার প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন। ইউরোপের প্রায় প্রতিটি সভ্য দেশই আফ্রিকায় উপনিবেশ গড়ে তোলে । কিন্তু ক্ষমতালোভী সেই সব দেশ আফ্রিকার সম্পদ লুণ্ঠন করে সেখানকার মানুষকে অত্যাচারে, অপমানে, লাঞ্ছনায় বিধ্বস্ত করে তোলে। তাদের এই বর্বর লোভ কবির কাছে তাদের নির্লজ্জ অমানুষিকতা রূপে প্রতিভাত হয়েছে।


৩. কমবেশি ৬০ শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো মান ৩


৩.১ ‘স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে- স্রষ্টা কে? তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কেন?


উত্তর আলোচ্য অংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখা আফ্রিকা নামক কবিতার অংশ । যিনি সৃষ্টি করেন তিনিই স্রষ্টা এখানে কবি ঈশ্বরকেই ‘স্রষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।
স্রষ্টার ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হয় না যতক্ষণ না তাঁর সৃষ্টিকর্ম তাঁর মনের মত না হয়। সেই সত্যকে কল্পনা করেই কবি বলতে চেয়েছেন সৃষ্টির আদিম লগ্নে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টিকে বারবার ধ্বংস করে নতুন ভাবে গড়ে তুলছিলেন। কিন্তু তা কখনোই তাঁর মনোমতো হচ্ছিল না। এই কারণে তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন।


৩.২ ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে,- 'তোমাকে' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? কে তাকে কোথা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল?


উত্তর আলোচ্য অংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখা আফ্রিকা নামক কবিতার অংশ ।
রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় উদ্ধৃতাংশে ‘তোমাকে' বলতে আফ্রিকা মহাদেশকে বোঝানো হয়েছে।
আদিম পৃথিবীর বুকে ঘটে যাওয়া ’ প্রতি ইঙ্গিতকে বোঝানো হয়েছে। এর ফলেই মূল ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কবি এরই কাব্যিক রূপ দিয়ে বলেছেন রুদ্র সমুদ্র মূল ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে বনস্পতির নিবিড় পাহারায় কৃপণ আলোর অন্তরালে নিক্ষেপ করেছে।


৩.৩ অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,- 'অশুভ ধ্বনি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ‘দিনের অন্তিমকাল' ঘোষণা করার মর্মার্থ বুঝিয়ে দাও।


উত্তর আলোচ্য অংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখা আফ্রিকা নামক কবিতার অংশ । রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা' কবিতাটি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রচিত। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়— যার পরিণাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।  পশুর মতোই ক্ষমতার লোভে মত্ত শ্বেতাঙ্গ শাসকদের রণ হুংকারকে কবিতায় অশুভ ধ্বনি' বলা হয়েছে। — দিনের ‘অন্তিমকাল' বলতে একদিকে যুগান্তের ইঙ্গিত ও ধ্বংসের পূর্বাভাস, অন্যদিকে ক্ষমতালোভী শাসকের নির্দয় শাসনের অবসানের বার্তাকে বোঝানো হয়েছে।


৪. কমবেশি ১৫০ টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৫


৪.১ এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে'—'ওরা'
কারা? পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।


উত্তর আলোচ্য অংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখা আফ্রিকা নামক কবিতার অংশ । ‘ওরা’ বলতে পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের বোঝানো হয়েছে।
‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে' এই উক্তির সাহায্যে রবীন্দ্রনাথ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকে ও তার নগ্ন রূপকে তুলে ধরেছেন। সৃষ্টির প্রথম থেকে বিচ্ছিন্ন আফ্রিকা  দুর্গমের রহস্য সন্ধানে মগ্ন ছিল। তার চেতনাতীত মনে জাগ্রত হচ্ছিল নতুন মন্ত্র। নিজেকে উগ্র বিভীষিকাময় তাণ্ডবে শামিল করে শঙ্কাকে সে হার মানাচ্ছিল একটু একটু করে। সভ্য সমাজের উপেক্ষার পাত্র ছিল আফ্রিকা। তারপর একদিন ঔপনিবেশিক তাদের গ্রাস করল আফ্রিকার স্বাভাবিক সারল্যকে। দাস ব্যাবসার মতো চরম পাশবিকতা নিয়ে উপস্থিত হয় মানুষরূপী হিংস্র বর্বরের দল। যাদের হাতকড়িতে আবদ্ধ হল আফ্রিকার অসহায় মানুষ। এই সাম্রাজ্যবাদী শাসকের বর্বর লোভ নগ্ন করেছিল নিজেদের অমানবিকতাকে। আফ্রিকার অধিবাসীদের মানবিকতাকে উপেক্ষা করে শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদীরা দিনের পর দিন আফ্রিকার সভ্যতা, সংস্কৃতিকে দলেছে, পিষেছে, ধ্বংস করেছে। এক কথায় নানান ভাবে সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসনে আফ্রিকার শৃঙ্খলিত হওয়ার ঘটনাকে কবি উদ্ধৃত পঙ্ক্তিতে ব্যক্ত করেছেন।

৪.২  ‘চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে – কাকে এ কথা বলা হয়েছে? কীভাবে তার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন মুদ্রিত হল?


উত্তর আলোচ্য অংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখা আফ্রিকা নামক কবিতার অংশ । অপমানিত আফ্রিকাকে এ কথা বলা হয়েছে।
— রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘অপমানিত ইতিহাস' বলতে সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের দ্বারা শোষিত আফ্রিকার বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার ইতিহাসকে বুঝিয়েছেন। সৃষ্টির সূচনা থেকেই আফ্রিকা বন জঙ্গলে ঢাকা , তথাকথিত উন্নত সভ্যতার আলো থেকে বহুদূরে ছিল। সভ্য ইউরোপীয় সভ্যতার চোখেও আফ্রিকা ছিল দীর্ঘ দিন বঞ্চিত । তথাকথিত সভ্য পাশ্চাত্য সভ্যতা আফ্রিকার নিজস্ব জীবনধারা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ইত্যাদিকে স্বীকার করত না। কিন্তু ঊনবিংশ শতকে ইউরোপীয়রা আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন শুরু করে এবং এই শতকের শেষে প্রায় পুরো আফ্রিকা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। আফ্রিকার সম্পদের সন্ধান পেতে এই শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক তথা সাম্রাজ্যবাদীর দল শুরু করল মানবিক লাঞ্ছনা। আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ সরল মানুষগুলোকে লোহার


৪.৩ 'বিদ্রুপ করছিলে ভীষণকে বিরুপের ছদ্মবেশে, শঙ্কাকে চাচ্ছিল হার মানাতে'—ভীষণকে বিদ্রুপ করা বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ‘আফ্রিকা' কবিতায় বিরূপের ছদ্মবেশে শঙ্কাকে হার মানানোর তাৎপর্য কবিতা অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও ।


উত্তর আলোচ্য অংশটি আফ্রিকা নামক কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্বারা রচিত উপরিক্ত মন্তব্যের দ্বারা লেখক বোঝাতে চেয়েছেন বিদ্রুপ করেছিল এখানে বিদ্রুপ বলতে আফ্রিকার কথা বোঝানো হয়েছে। বনস্পতির নিবিড় পাহারায় কৃপণ আলোর অন্ধকারে জন্ম নেওয়া নবজাতক আফ্রিকা যখন রহস্যময় দুর্বোধ্য প্রকৃতির সাথে পরিচিত হচ্ছিল তখন তার অন্তঃজগতে ভীতি জাগ্রত হয়েছিল। সেই ভয়ংকর ভীষণ ভীতিকে হার মানাতে চেয়ে তাকে আফ্রিকা বিদ্রুপ করেছে। প্রকৃতির রহস্যময়তার সাথে একাত্ম হয়ে, নিজের জন্মদাত্রী প্রকৃতি মায়ের কাছে বিরূপের ছদ্মবেশে তার আত্মপ্রকাশ।
মা-হারানো শিশুর মতোই জন্মকাল থেকে এশিয়া মহাদেশ থেকে আলাদা হয়ে পড়ে আফ্রিকা। অরণ্যময়, দুর্গম আফ্রিকা অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে ছিল। সভ্যতার সামান্যতম আলোক সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। কিন্তু থেমে থাকলে চলবে না। থেমে থাকা মানে মৃত্যু। তাই অবজ্ঞা, অশিক্ষা, অজ্ঞানতা, অসহায়তার হাত থেকে মুক্তি


Post a Comment

0 Comments