সূচিপত্র
- লেখক পরিচিতি
- বিষয়সংক্ষেপ
- উৎস
- নামকরণ
- বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন
- অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- রচনাধর্মী প্রশ্ন
বহুরূপী
সুবোধ ঘোষ
লেখক পরিচিতি
বাংলা কথা সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ বিহারের হাজারীবাগে ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে বহর গ্রামে আগে বাস করত । তিনি হাজারীবাগের সেন্ট কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন । দার্শনিক মহেশ ঘোষ এর লাইব্রেরীতে পড়াশোনা করেছেন বহু বিচিত্র কর্ম অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছিল । তার কর্মজীবন শুরু হয় বাসের কন্ডাক্টার হিসেবে । পরে সার্কাস দলের ক্লাউনের ভূমিকায় নেমেছেন মুম্বাই মিউনিসিপ্যালিটি তে ঝাড়ুদারের কাজ করেছেন তিনি । পূর্ব আফ্রিকায় ঠিকাদারের কাজ নিয়ে গিয়েছিল তাকে । ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে আনন্দবাজার পত্রিকায় রবিবাসরীয় বিভাগে সহকারী হিসেবে যোগ দেন তারপর সিনিয়র এডিটর ও অন্যতম সম্পাদকীয় লেখক হন । তিনি নিজেই বলেছিলেন লেখক হবার আগে জীবনের আলো ছায়া অন্ধকারের অনেক রূপ তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন । ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম গল্প অযান্ত্রিকের প্রকাশের সঙ্গেই বাংলা সাহিত্য জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে ফেলে । তিনি তার সাহিত্যকর্মের জন্য আনন্দ পুরস্কার পেয়েছিলেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী নিয়ে পদক লাভ করেন । বাংলা সাহিত্যের এই প্রতিভাবক লেখক ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ মাত্র ৭০ বছর বয়সেই ইহলোক ত্যাগ করেন ।
উৎস
বহুরূপী গল্পটি সুবোধ ঘোষের কিশোর গল্প নামক গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে । যদিও পরবর্তীকালে গল্পটি সুবোধ ঘোষের গল্প সমগ্র তে ও সংকলিত হয়েছে।
বিষয়সংক্ষেপ
গল্পের মুখ্য চরিত্র একজন বহুরূপী, যার ভাতের হাঁড়িতে প্রায় দিনই শুধু জল ফোটে। হরি নামে পরিচিত এই ব্যক্তিটি নিজের পেশার প্রতি অসম্ভব যত্নবান, যদিও পেশা থেকে তাঁর আয় খুবই সামান্য। পাড়ার যুবকদের প্রিয় হরিদা কখনও পাগল, বাইজি বা বাউলের ভূমিকায়, কখনও-বা | কাপালিক, কাবুলিওয়ালা বা পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষের মনোরঞ্জন করেন। এই যুবকদের মুখেই তিনি একদিন একজন সন্ন্যাসীর কথা। শোনেন যে হিমালয়বাসী সর্বত্যাগী হওয়া সত্ত্বেও, ধনী ব্যক্তি জগদীশবাবুর কাছ থেকে কাঠের খড়মে সোনার বোল ও একশো টাকা নিতে পিছপা হয়নি। তখনই হরি জগদীশবাবুকে প্রকৃত সন্ন্যাসী কেমন হয়, তা দেখানোর পরিকল্পনা করেন। চাঁদের আলোয় উজ্জ্বল এক সন্ধ্যায় পাড়ার যুবকদের উপস্থিতিতে হরি বহুরূপী বিরাগী সন্ন্যাসীর বেশে জগদীশবাবুর কাছে যান। জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর রূপে ও উপদেশে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চান। গরিব বহুরূপী হরির কাছে একশো টাকা ছিল স্বপ্নের মতো। তবুও পাছে বিরাগীর অভিনয়ে ত্রুটি হয়, তাই তিনি সেই টাকা নেন না। তাঁর মতে, “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।' পরে তিনি পাড়ার যুবকদের কাছে বলেন যে, জগদীশবাবুর কাছ থেকে কিছু বকশিশ আনতে অবশ্যই তিনি যাবেন। গল্প পড়ে মনে হয়, বিরাগীর মতো দার্শনিক ও সন্ন্যাসী হয়তো হরির অন্তরেই বসবাস করে। তাই হরি সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশ ধারণ করতে গিয়ে প্রকৃত সন্ন্যাসী হয়ে ওঠেন, কিন্তু তথাকথিত সন্ন্যাসী সর্বত্যাগী হয়েও অন্তর্মনের মোহ-মায়া-লোভ ত্যাগ করতে পারেন না।
নামকরণ
সাহিত্যে নামকরণ একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নামকরণের সাহায্যে লেখক তাঁর সৃষ্টিকে পাঠকের কাছে তুলে ধরেন। পাঠকও নামের প্রতি আকৃষ্ট হয় ও লেখকের সৃষ্টির রসাস্বাদন করেন। নামকরণের ক্ষেত্রে লেখকরা বিষয়, চরিত্র, ঘটনা বা ভাবকে প্রাধান্য দেন। রূপক ও ব্যঞ্জনার্থেও নামকরণ হয়ে থাকে। এখন আমাদের বিচার্য এই যে ‘বহুরূপী' গল্পটির নামকরণ কতটা সার্থক নামকরণের আঙ্গিক হয়েছে।
সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী' গল্পের মূল বিষয়বস্তু আবর্তিত হয়েছে হরিকে কেন্দ্র করে। হরি পেশায় বহুরূপী। পাগল, বাইজি, বাউল, কাপালিক, পুলিশ ইত্যাদি সেজে তিনি মানুষের মনোরঞ্জন করে। কিন্তু হরি যেন অন্তর থেকেও বহুরূপী। তাঁর বিবেক, তাঁর চিন্তাশীলতা, কোথায় যেন তাঁকে অতিসাধারণ দরিদ্র ব্যক্তি থেকে এক ব্যতিক্রমী উচ্চতা দান করে। জগদীশবাবুর সামনে তিনি বিরাগী সন্ন্যাসীর ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই বিরাগ যদি শুধু অভিনয় হত, যদি অন্তরে তার মোহমুক্তি না-ঘটত, তবে তিনি কখনোই একশো এক টাকা প্রণামী গ্রহণের লোভ কাটাতে পারতেন না। তাই হরির শিল্পী-হৃদয়ের সঙ্গে বাহ্যিক ছদ্মবেশের কখন যেন অদলবদল ঘটে যায়। মনে হয়, হয়তো-বা বিরাগীই সকলের সামনে হরির ভূমিকায় অভিনয় করেন। তা না-হলে অমন দার্শনিক উপলব্ধি, অমন গভীর তত্ত্বজ্ঞান, সাধারণ বহুরূপী হরি কীভাবে জানবে? পাঠকের চোখে হরির বিরাগীর ভূমিকায় অভিনয় ও বাস্তবের আর যেন কোনো সীমারেখা থাকে না। হরির বহুরূপী জীবনটাও যেন হয়ে ওঠে বহুরূপের সমাহার। তাই গল্পের শেষে হরি নিজের জীবন সম্পর্কে অমোঘ উক্তিটি করে—‘খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর চেয়ে বেশি কী আশা করতে পারে?’–এই মূল্যায়ন তাঁর ব্যক্তিসত্তার গভীরে আলোকপাত করে। তিনি বিভিন্ন সময়ে, বহুরূপে সকলের সামনে হাজির হলেও, তাঁর অন্তর্গত জীবনবোধের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। তিনি একাধারে শিল্পী ও সন্ন্যাসী। তাই তিনি রূপে বহুরূপী হলেও আসলে এক যথার্থ খাঁটি মানুষ। সমাজের সর্বস্তরে খাঁটি মানুষের ছদ্মবেশে শতসহস্র ভণ্ড বহুরূপীর ভিড়ে, গল্পের হরিদা বহুরূপী সেজেও একজন সার্থক মানুষের প্রতিভূ হয়ে ওঠেন। তাই গল্পটির ‘বহুরূপী' নামকরণ যথাযথ ও তাৎপর্যবাহী বলেই আমাদের মনে হয়।
১ . সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখ
১.১ হরিদা ছিলেন পেশায় একজন-
ক)চায়ের দোকানদার
খ)বহুরূপী
গ) বাইজি
ঘ)পুলিশ
উত্তর বহুরূপী
১.২ যার বাড়িতে সন্ন্যাসী এসেছিলেন তার নাম -
ক)হরি বাবু
খ)অনাদি বাবু
গ)জগদীশবাবু
ঘ) ভবতোষ বাবু
উত্তর জগদীশবাবু
১.৩ জগদীশ বাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীর বয়স
ক) ১০০ বছর
খ)১০০০ বছর
গ) ১০০০ বছরের ও বেশি
ঘ)১০০ বছরেরও বেশি
উত্তর ১০০০ বছরের ও বেশি
১.৪ হরিদার ঘরে আড্ডা দিত -
ক)পাঁচ জন
খ)তিনজন
গ)চারজন
ঘ)ছয়জন
উত্তর চারজন
১.৫ মাঝে মাঝে সত্যিই হরিদা যা করতেন তা হল-
ক)রোজগার
খ)বিরাগ
গ)উপোস
ঘ) সন্দেহ
উত্তর উপোস
১.৬ বাসের ড্রাইভার এর নাম ছিল -
ক)ভবতোষ
খ)অনাদি
গ)কাশীনাথ
ঘ)জগদীশ
উত্তর কাশীনাথ
১.৭ বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল-
ক) আট টাকা দশ আনা
খ) আট টাকা তিন আনা
গ)দশ টাকা আট আনা
ঘ)তিন টাকা আট আনা
উত্তর আট টাকা দশ আনা
১.৮ হরিদা পুলিশ সেজে দাঁড়িয়ে ছিলেন -
ক) লিচু বাগানে
খ) দালানে
গ) স্কুলে
ঘ) বাসস্ট্যান্ডে
উত্তর লিচু বাগানে
১.৯ জগদীশ বাবু কেমন স্বভাবের মানুষ ছিল -
ক) উদার
খ) কপট
গ) কৃপণ
ঘ) বিকৃত
উত্তর কৃপণ
১.১০ জগদীশ বাবুর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল -
ক) বারো লক্ষ টাকা
খ) কুড়ি লক্ষ টাকা
গ) আঠারো লক্ষ টাকা
ঘ) এগারো লক্ষ টাকা
উত্তর এগারো লক্ষ টাকা
১.১১ বিরাগী আসলে ছিলেন -
ক)হরিদা
খ) সন্ন্যাসী
গ) পাগল
ঘ) জগদীশ বাবু
উত্তর হরিদা
১.১২ সন্ন্যাসী সারা বছর খেতেন -
ক) একটি বেল
খ ) একটি আমলকি
গ) একটি হরীতকী
ঘ) একটি বহেড়া
উত্তর একটি হরীতকী
১.১৩ সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস দুর্লভ জিনিসটি হল-
ক ) সন্ন্যাসীর আশীর্বাদ
খ) সন্ন্যাসীর সন্নিধ্য
গ) সন্ন্যাসীর উপদেশ
ঘ) সন্ন্যাসীর পদধূলি
উত্তর সন্ন্যাসীর পদধূলি
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
২. কমবেশি কুড়িটি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও
২.১ আক্ষেপ করেন হরিদা হরিদার এই আক্ষেপের কারণ কী ?
উত্তর হরিদা জগদীশ বাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর কথা শুনে তার পায়ের ধুলো নিতে চান কিন্তু সন্ন্যাসী চলে যাওয়ায় হরিদার আক্ষেপে পরিণত হয় ।
২.২ চমকে উঠলেন জগদীশ বাবু - জগদীশ বাবুর চমকে ওঠার কারণ কী ?
উত্তর সাদা উত্তরীয় জড়ানো ছোট সাদা থান মাথায় সাদা চুল পায়ে ধুলো মাখা বিরাগীকে দেখে জগদীশ বাবু চমকে যান ।
২.৩ জগদীশ বাবুকে বিরাগী কী উপদেশ দেন ?
উত্তর বিরাগী জগদীশ বাবুকে বলেন ধন জন যৌবন আসলে সব বঞ্চনা । যে মন প্রাণ দিয়ে আপন হতে চেষ্টা করবে সেই ঐশ্বর্য লাভ করবে।
২.৪ অদৃষ্ট কখনো হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না - হরিদার কোন ভুলের কথা এখানে বলা হয়েছে ?
উত্তর জগদীশ বাবুর দেওয়া প্রণামী টাকা অবলীলায় ফেরত দিয়ে দেন বিরাগী হরিদা । অভাবের সংসারে হঠাৎ পাওয়া এই টাকা ফেরত দেওয়াকেই হরিদার ভুল হয়েছে বলে বলা হয়।
২.৫ নইলে আমি শান্তি পাবো না - বক্তা কি না হলে শান্তি পাবেন না ?
উত্তর সুবোধ ঘোষের বহুরূপী গল্পে জগদীশ বাবু বিরাগীর বেশধারী হরিদাকে কিছু উপদেশ শুনিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে বলেছিলেন যে না হলে তিনি শান্তি পাবেন না ।
২.৬ জগদীশ বাবু কিভাবে সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন ?
উত্তর বহুরূপী গল্পে জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খরমে সোনার ভুল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরলেন । তখন সন্ন্যাসী হরফ পড়ার জন্য বাধ্য হয়ে পা এগিয়ে দিয়ে তা পড়লেন আর সেই ফাঁকে জগদীশবাবু পায়ের ধুলো নিয়ে নিলেন ।
২.৭ পুলিশ সেজে হরিদা কি করেছিল ?
উত্তর হরিদা একবার পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভেতরে স্কুলের চারটি ছেলেকে ধরেছিল। তারপর স্কুলের মাস্টারমশাই এসে ক্ষমা চেয়ে আট আনা ঘুষ দেওয়ায় নকল পুলিশ হরিদা, তাদের ছেড়ে দেন।
২.৮ হরিদার জীবন এইরকম বহুরূপের খেলা দেখিয়েই একরকম চলে যাচ্ছে - কিরকম খেলা দেখিয়ে হরিদ্বার জীবন চলে যাচ্ছে ?
উত্তর হরিদা পেশায় ছিলেন বহুরূপী । তিনি কখনো পাগল সাজেন তো কখনো বাউল আর কখনো বা বোঁচকা কাঁধে কাবলিওয়ালা । এরকম বহুরূপীর খেলা দেখিয়ে হরিদার জীবন চলে যাচ্ছে।
২.৯ হরিদা কোথায় থাকেন ?
উত্তর হরিদা শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভেতরে একটা ছোট্ট ঘরে থাকেন ।
২.১০ জগদীশবাবু তীর্থ ভ্রমণের জন্য কত টাকা বিরাগীকে দিতে চেয়েছিলেন ?
উত্তর বহুরূপী গল্প সুবোধ ঘোষের লেখা এখানে জগদীশ বাবু বিরাগী রূপী হরিদাকে তীর্থ ভ্রমণের জন্য একশো টাকা দিতে চেয়েছিলেন।
৩. কমবেশি ৬০ টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখ ।
৩.১ 'বাঃ, এ তো বেশ মজার ব্যাপার?-কোন্ ঘটনাকে মজার ব্যাপার বলা হয়েছে? ঘটনাটি মজার কেন ?
উত্তর 'বহুরূপী' গল্প অনুসারে জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয় থেকে যে সন্ন্যাসী এসেছিলেন, তিনি এতই উঁচু দরের যে, কাউকে পদধূলি গ্রহণের ঘটনার পরিচয়
অনুমতি পর্যন্ত দিতেন না। শেষপর্যন্ত জগদীশবাবু তাঁর কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে পায়ের সামনে ধরলে সন্ন্যাসী পা এগিয়ে দিয়েছিলেন। এভাবে একমাত্র জগদীশবাবুই তাঁর পদধূলি পেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
মুখ্য চরিত্র হরিদার মতে, ঘটনাটি মজার। কারণ, সর্বস্বত্যাগী হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীও সোনার আকর্ষণ অগ্রাহ্য করতে পারেননি।
৩.২ ‘আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?'—কাকে এ কথা বলা হয়েছে? তাঁকে এ কথা বলা হয়েছে কেন?
উত্তর সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী' গল্পে বিরাগী-বেশী হরিদা জগদীশবাবুকে কথাগুলি বলেছিলেন।
এক সন্ধ্যায় হরিদা বিরাগীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে হাজির হন । জগদীশবাবু তখন বারান্দায় চেয়ারের ওপর বসেছিলেন। বিরাগীকে দেখতে পেয়ে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। তখন বিরাগী আলোচ্য উক্তিটি করে জগদীশবাবুকে জানান, জগদীশবাবু নিশ্চয়ই সম্পত্তির অহংকারে নিজেকে ভগবানের চেয়েও বড়ো মনে করেন। তা না-হলে তিনি অবশ্যই বিরাগীকে অভ্যর্থনা জানাতে বারান্দা থেকে নেমে আসতেন ।
৩.৩ ‘বিরাগীর পায়ের কাছে থলিটাকে রেখে দিয়ে ব্যাকুল স্বরে প্রার্থনা করে জগদীশবাবু—বিরাগী কে? তার কাছে জগদীশবাবুর প্রার্থনার কারণ কী?
উত্তর ‘বিরাগী' হলেন সর্বত্যাগী সাধুবেশী বহুরূপী হরিদা। ধনী ও কৃপণ জগদীশবাবু সাধুসঙ্গ করে পুণ্য অর্জন করতে চান । জগদীশবাবুর প্রার্থনা ছদ্মবেশী বিরাগীকে দেখে ও তাঁর মুখে দার্শনিক উক্তি শুনে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান। বিরাগীকে নিজের বাড়িতে কয়েকদিন থাকতে অনুরোধ জানিয়েও যখন লাভ হয় না, তখন জগদীশবাবু তাঁকে একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চান । এই প্রণামী যাতে বিরাগী তীর্থ ভ্রমণের খরচ হিসেবে গ্রহণ করেন, তাই তিনি ব্যাকুল মনে প্রার্থনা করতে থাকেন ।
৩.৪ ‘হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।—জীবনে নাটকীয় বৈচিত্র্য বলতে কী বোঝ? হরিদার জীবনের । নাটকীয় বৈচিত্র্যটি কী?
উত্তর ‘নাটকীয়' শব্দটির অর্থ হল যা নাটকের মতো, অর্থাৎ ঘটনাবহুল বৈচিত্র্যময় দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে মানুষের জীবনে কোনো নাটকীয় বৈচিত্র থাকা প্রয়োজন । তবেই জীবন উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এখানে সেই ব্যতিক্রমকেই নাটকীয় বৈচিত্র্য বলা হয়েছে।
হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য ছিল তাঁর বৃত্তি অর্থাৎ বহুরূপী সেজে হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য মানুষকে চমকে দেওয়ার পেশা। এতে তাঁর রোজগার সামান্য হলেও তাঁর জীবনে বৈচিত্র্য এনে দেয় এই পেশা।
৩.৫ 'অনাদি বলে—এটা কী কাণ্ড করলেন, হরিদা ? – কোন? কাণ্ডটি বিস্ময়কর কেন ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি সুবোধ ঘোষের লেখা বহুরূপী নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । গল্পের অন্যতম চরিত্র জগদীশ বাবু বিরাগী ভেবে হরিদাকে একশ টাকা প্রণামি দিতে চেয়েছিলেন হরিদা সেটা নিতে অস্বীকার করেন ।
হরিদা ছিলেন খুবই সাধারণ একজন গরিব মানুষ অনেকটা সময় তার না খেয়েই দিন চলে । বহুরূপীর পেশায় খুব অল্প পরিমানে রোজগার করে তার দিন চলত । তবু হাতের কাছে সে ১০০ টাকা প্রণামি পেয়ে প্রত্যাখ্যান করায় কারণ তার এই চরিত্র অর্থের সাথে মানায় না বলে ।
৩.৬ অদৃষ্ট কখনো হরিদাকে এই ভুল ক্ষমা করবে না, । - অদৃষ্ট বলতে কী বোঝো ? হরিদার সম্পর্কে এমন উক্তি কেন করা হয়েছে ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি বহুরূপী নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে সুবোধ ঘোষের লেখা উপরিক্ত মন্তব্যের দ্বারা লেখক বলতে চেয়েছেন হরিদাকে এখানে অদৃষ্ট বলতে হরিদ্বার কপাল বা বিধির কথা বলা হয়েছে ।
বহুরূপী হরিদা বিরাগী রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে জগদীশ বাবু ১০০ টাকা উপহার দিলে তিনি সে টাকা প্রত্যাখ্যান করায় কারণ সে টাকা তার আত্ম সম্মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে তার কারণে । সে টাকাটি প্রত্যাখ্যান করে । বহুরূপী দেখিয়ে তার সামান্য টুকু দিন চলে বেশিরভাগ দিন তার উপোস থেকে চলে । এমন অবস্থায় সে এতগুলো টাকা প্রত্যাখ্যান করায় লেখক উপরিক্ত মন্তব্যটি করেছেন।
৩.৭ সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস - কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে? কেন দুর্লভ ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি বহুরূপী গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে সুবোধ ঘোষের লেখা সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস বলতে লেখক বহুরূপী গল্পের সন্ন্যাসী জগদীশ বাবু ছাড়া কাউকে পায়ের ধুলো নিতে দেন নি। লেখক এখানেই দুর্লভ কথাটি বলেছেন ।
জগদীশবাবু বাড়িতে যে সন্ন্যাসিটি এসেছিল তিনি খুবই উঁচু দরের । তার বয়স নাকি হাজার বছরেরও বেশি । তিনি হিমালয়ের গুহার থেকে একটি হরিতকি জীবন ধারণ করেন । তিনি বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় একজোড়া সোনার বোল লাগানো কাঠের খরম জগদীশ বাবু তার পায়ের কাছে ধরেন সন্ন্যাসী বাধ্য হয়ে পা এগিয়ে দেন । নতুন খরমটি পরার ফাঁকে জগদীশ বাবু তার পায়ের ধুলো নিয়ে নেন ফলে সে বস্তুটি সহজলভ্য ছিল না তাই এমন মন্তব্য করা হয়েছে ।
৩.৮ হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ? তিনি কিভাবে মাস্টারমশাই কে বোকা বানিয়ে ছিলেন ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি সুবোধ ঘোষের লেখা বহুরূপী নামক গল্প থেকে গৃহীত হয়েছে উপরিক্ত মন্তব্যের দ্বারা হরিদা পুলিশ সেজে দয়ালবাবু লিচু বাগানের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন ।
স্কুলের চারজন ছেলেকে হাতে নাতে ধরে ফেলেন। পুলিশ রূপী হরিদার কাছে ধরা পড়ে ছেলেগুলি ভয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল তারপর মাস্টার মশাই এসে আট আনা ঘুষ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এইভাবে হরিদা মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়েছিল ।
৪. কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে উত্তর লেখ ।
৪.১‘চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।– জগদীশবাবুর পরিচয় দাও। তাঁর চমকে ওঠার কারণ আলোচনা করো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি বহুরূপী নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । সুবোধ ঘোষ রচিত উপরিক্ত মন্তব্যের দ্বারা জগদীশবাবু চমকে উঠলেন জগদীশ বাবুর চমকে ওঠার কারণ হল জগদীশবাবু শিক্ষিত, মার্জিত ও ভদ্র, সৌম্য-শান্ত চেহারার অধিকারী, ধনী হলেও কৃপণ। তাঁর জীবনের দুর্বলতা হল তাঁর অন্ধভক্তি। সুখশান্তির আশায় সাধুসন্ন্যাসী দেখলেই তাদের তিনি তুষ্ট করার চেষ্টা করতেন। এর জন্য অবশ্য তিনি মাঝেমধ্যেই ঠকেছেন ।
এক স্নিগ্ধ ও শান্ত জ্যোৎস্নালোকিত উজ্জ্বল সন্ধ্যায় জগদীশবাবু বারান্দার চেয়ারে বসেছিলেন। হঠাৎ বারান্দার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর চোখের পাতা পড়ছিল না। কারণ সিঁড়ির কাছে চমকে ওঠার কারণ এমন একজন দাঁড়িয়েছিলেন যিনি জটাজুটধারী, হাতে কমণ্ডলু, চিমটে, মৃগচর্মের আসনসহ গৈরিক বসন পরিহিত কোনো সন্ন্যাসী নয়, তিনি একজন বিরাগী, যাঁর আদুড় গা, তার ওপরে একটি ধবধবে সাদা উত্তরীয়। পরনে ছোটো বহরের থান। তার মাথার শুকনো চুলগুলো বাতাসে উড়ছে, হাত-পা ধুলো-মাখা, কাঁধে একটা ঝোলা, যার মধ্যে একটি মাত্র বই গীতা। জগদীশবাবুর তাঁকে দেখে মনে হয়েছিল তিনি যেন জগতের সীমার ওপার থেকে হেঁটে চলে এসেছেন। তাঁর শীর্ণ শরীর দেখে মনে হচ্ছিল যেন অশরীরী এবং তাঁর চোখ থেকে ঝরে পড়ছিল উদাত্ত শান্ত এক উজ্জ্বল দৃষ্টি।
৪.২ ‘বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পের একটি অন্যতম চরিত্র হলো জগদীশবাবুর চরিত্র। চরিত্রটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য রচনা মধ্যে পাওয়া না-গেলেও হরিদা চরিত্রের পাশে জগদীশবাবুর চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। জগদীশ বাবু ছিলেন ধনী ব্যক্তি তিনি বয়সে বেশ প্রবীণ। সাদা চুল, সাদা দাড়ি, সৌম্য, শান্ত চেহারা। তিনি ধনী মানুষ বটে, তবে বেশ কৃপণও। সাধুসন্ন্যাসীতে তাঁর ভক্তিভাব প্রবল। যদিও এই
ব্যক্তি জগদীশবাবুর পরিচয় ভক্তিভাবের অন্তরালে কোথাও-না-কোথাও তাঁর ঐশ্বর্যের অহংকার কখনো-কখনো দেখা মেলে। তাই কাহিনির মধ্যে আমরা দেখতে পাই, হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসী যিনি কাউকে পায়ের ধুলো দিতে চান না, তাঁর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করতে জগদীশবাবু কৌশল অবলম্বন করেন, সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম নিজ হাতে এগিয়ে দিতে যান। ঈশ্বর বিশ্বাসী ভক্তি প্রবণ মন জগদীশবাবু ঈশ্বর বিশ্বাসী, সেইজন্যই সাধু সন্ন্যাসীর সেবা তাঁর কাছে ঈশ্বর সেবার সমতুল্য। নিজ সুখশান্তির সন্ধানেই বস্তুত তিনি সন্ন্যাসী-গোছের লোক দেখলেই তাকে খুশি করার চেষ্টা করেন, প্রয়োজনে কৌশলও অবলম্বন করেন। তাঁর এই মানসিকতার জন্যই ভণ্ড সন্ন্যাসীর পাল্লায় পড়ে তাঁকে বোকাও হতে হয়। তাই বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদার কাছেও তিনি নতজানু হয়েছেন আশীর্বাদের অভিলাষে।কাহিনির গতি নিয়ন্ত্রক
‘বহুরূপী' গল্পের কাহিনির নিয়ন্ত্রণে জগদীশবাবু চরিত্রের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই সংসারের সব কিছুই যে হরিদার বিরাগী সাজেই প্রকাশ পায়; আর সেই বিরাগীকে প্রকৃত সত্যে পরিণত করিয়েছেন জগদীশবাবু। মিথ্যে বহুরূপী বেশধারণকারী হরিদার বিরাগী রূপকে নতমস্তকে প্রণাম জানিয়ে কাহিনির ভাবসত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জগদীশবাবু। তাই জগদীশবাবু চরিত্রটি কাহিনির পার্শ্বচরিত্র হয়েও কাহিনির এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হয়েছে।
৪.৩ খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী কিছু আশা করতে পারে ? বহুরূপী জীবনের এই ট্রাজেডি পাঠ্য বহুরূপী গল্প অবলম্বনে আলোচনা কর ।
উত্তর আলোচ্য অংশটি সুবোধ ঘোষ দ্বারা রচিত বহুরূপী নামক গল্প থেকেই নেওয়া হয়েছে উপরোক্ত মন্তব্য দ্বারা খাঁটি মানুষ বলতে বহুরূপী গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা হলেন এক আশ্চর্য মানুষ। তিনি গরিব হলেও কেবল পেটের দায়ে গতে বাঁধা কাজ করতে চান না। নির্লোভ, চিন্তাশীল, স্বাধীনচেতা ও শিল্পীমনের অধিকারী হরিদা, দৈনন্দিন অভাবের সঙ্গে অভ্যস্ত হলেও কাজ নামক দিনগত পাপক্ষয়ের থেকে শতহাত দূরে থাকতেই ভালোবাসেন। তাঁর জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য হল, তিনি বহুরূপের কারবারি। মাঝে মাঝে তাঁকে যেমন বহুরূপী বেসে থাকতে দেখা যায় তেমনই হঠাৎ একদিন তিনি বিচিত্র ছদ্মবেশে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। কখনও পাগল সেজে হরিদা চকের একে বাস স্ট্যান্ডের কাছে আতঙ্কের চিৎকার করে , আবার কখনও সন্ধ্যার মায়াময় আলোয় রূপসি বাইজি সেজে উপস্থিত সকলকে স্তম্ভিত করে দেন নিজের পেশায় হরিদা এতটাই পারদর্শী যে, স্থানীয় স্কুলের মাস্টারমশাইও পর তাঁকে নকল-পুলিশ বলে চিনতেই পারেন না। এ হেন হরিদা পাড়ার ছেলেদের মুখে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা ভণ্ড সন্ন্যাসীর গল্প তাদের সত্যিকারের বিরাগী সন্ন্যাসী দর্শন করানোর কথা ভাবেন। সেই চাঁদনী রাতে জগদীশবাবুর বাড়িতে হাজির হয় এক অন্য হরিদা। তিনি সাজহীন-অলংকারহীন এক সামান্য বিরাগী। তবে তাঁর আচরণ, মুখের ভাষা, উদাত্ত-উজ্জ্বল চোখের দৃষ্টি সবাইকে মুগ্ধ করে তোলে। প্রকৃত সন্ন্যাসীর মতোই জগদীশবাবুর দেওয়া একশো টাকা তিনি হেলায় ফেলে দিয়ে চলে আসেন। কারণ প্রকৃত বৈরাগ্যের ই, অধিকারী হরিদার কাছে তখন শিল্প ও জীবন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। আসলে তিনি শুধু নিছক বহুরূপের কারবারি মাত্র নন, সততা-শিল্পী স্বভাব ও জীবনদর্শনে একজন অসামান্য মানুষ। জীবনের এই মর্মান্তিক বেদনা-যন্ত্রণা বা ট্র্যাজেডিকে মেনে নিয়েই, তাই নির্লিপ্তভাবে তিনি কেবল বকশিসটুকু আশা করেন।
৪.৪ জগদীশবাবুর বাড়ি হরিদা বিরাগী সেজে যাওয়ার পর যে-ঘটনা ঘটেছিল, তা বর্ণনা করো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি সুবোধ ঘোষের লেখা 'বহুরূপী' নামক গল্প থেকে নেওয়া । গল্প অনুসারে এক স্নিগ্ধ ও শান্ত রাতের আকাশে উজ্জ্বল সন্ধ্যায় জগদীশবাবু বারান্দার চেয়ারে বসেছিলেন। হঠাৎ বারান্দার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
কারণ সিঁড়ির কাছে এমন একজন দাঁড়িয়েছিলেন যিনি জটাজুটধারী, হাতে কমণ্ডলু, চিমটে, মৃগচর্মের আসনসহ গৈরিক বসন পরিহিত কোনো সন্ন্যাসী নয়, তিনি একজন বিরাগী, যার আদুড় গা, তার উপরে একটি ধবধবে সাদা উত্তরীয়। পরনে ছোটো বহরের থান। তাঁর শীর্ণ শরীর দেখে মনে হচ্ছিল যেন অশরীরী এবং তাঁর চোখ থেকে ঝরে পড়ছিল উদাত্ত শান্ত এক উজ্জ্বল দৃষ্টি। ভক্তের সেবার ইচ্ছাকে মান্যতা দিয়ে গ্রহণ করেছেন মাত্র এক গ্লাস জল। থাকার ও দান গ্রহণের অনুরোধ সবই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করেছেন তিনি। জগদীশবাবু উপদেশ শুনতে চাইলে তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বলেছেন পরমেশ্বরের দেখা পেলেই সমস্ত ঐশ্বর্য পাওয়া যায়। তাঁকে তীর্থ ভ্রমণের অজুহাতে প্রণামী দিতে চাইলে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বলেন হৃদয়ের মধ্যেই তো সব তীর্থ। বিরাগী চরিত্রটি পূর্ণতা পায় তাঁরই উক্তিতে, ‘আমি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারি, তেমনই অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি।' সত্যিই তা করতে জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামীর টাকার থলিটা সিঁড়িতে পড়ে থাকলেও সেদিকে না-তাকিয়ে তিনি চলে যান।
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
0 Comments