সূচিপত্র
- লেখক পরিচিতি
- উৎস
- বিষয়বস্তু
- নামকরণ
- বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন MCQ মান ১
- অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন মান ১
- সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন মান ৩
- রচনাধর্মী প্রশ্ন মান ৫
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি
শঙ্খ ঘোষ
লেখক পরিচিতি
বর্তমান যুগের একজন বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ তার প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তিনি একদিকে বিখ্যাত কবি, অন্যদিকে প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক। ১৯৩২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি অধুনা বাংলাদেশের অন্তর্গত চাঁদপুরে তাঁর জন্ম হয়। তিনি বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার করার পর সপরিবারে তাঁরা কলকাতায় চলে আসেন। শঙ্খ ঘোষ প্রথমে প্রেসিডেন্সি কলেজে, তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি কলকাতায় বঙ্গবাসী কলেজ, সিটি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুদিন অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৯২ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দিনগুলি রাতগুলি’ (১৯৫৬)। এরপর পর পর প্রকাশিত হতে থাকলো তার লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘নিহিত পাতাল ছায়া’, ‘এখন সময় নয়’, ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’, ‘আদিম লতা গুল্মময়’, ‘মূর্খ বড়ো সামাজিক নয়’, ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ’, ‘প্রহর জোড়া ত্রিতাল' ইত্যাদি। তাঁর রচিত অন্যতম প্রবন্ধ গ্রন্থগুলির মধ্যে 'কালের মাত্রা ও রবীন্দ্র নাটক’, ‘ছন্দময় জীবন’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ছোটোদের জন্য রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল—‘অল্পবয়স কল্পবয়স’, ‘ছোট্ট একটা স্কুল’, ‘সুপুরিবনের সারি’, ‘সকালবেলার আলো’, ‘শহরে পথের ধুলো’। এ ছাড়া তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল— ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘এ আমির আবরণ’, ‘উর্বশীর হাসি’, ‘ওকাম্পোর রবীন্দ্রনাথ' প্রভৃতি।
তিনি ১৯৭৭ সালে ‘মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয়’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নরসিংহ দাস পুরস্কার এবং ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থটির জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে ধুম লেগেছে হৃদকমলে' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হয়। তিনি সরস্বতী পুরস্কার পান ‘গন্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ'-র জন্য। ১৯৯৯ সালে 'রক্তকল্যাণ' অনুবাদের জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৯ সালে বিশ্বভারতীর দ্বারা দেশিকোত্তম পুরস্কার পান। তিনি ২০১১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মভূষণ উপাধিতে সম্মানিত হন। ২০১৫ সালে সাংবাদিক ও লেখকদের বিশ্ব ফোরাম থেকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট সাহিত্য রত্ন পুরস্কার লাভ করেন।
উৎস
কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটি জলই পাষান হয়ে আছে এই কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবিতার বিষয়বস্তু
মানুষ আজ এক ভয়াবহ প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে চলেছে। অশুভ শক্তি তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে এক সামাজিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে । মানুষের চারিদিকে আজ নানান প্রতিকূলতা। মানুষ বড়ো অসহায়। তার বেঁচে থাকার যেন কোনো পথ নেই। এত হতাশার মাঝে বাঁচার একটাই পথ আছে তা হল একসাথে থাকা । এই ক্ষয় হয়ে যাওয়া মানুষের কোনো ইতিহাস নেই । এতসব প্রতিকূল ও নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু মানুষ এখনও তাঁদের শুভ বুদ্ধি, বিবেকবোধ বিসর্জন দেয়নি। কবি তাঁদের একসাথে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা যদি আরও সংঘবদ্ধভাবে থাকে তবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পরাজয় অবশ্যই হয়ে উঠবে । কবি শঙ্খ ঘোষ তার এই কবিতার মাধ্যমে মানুষের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যে প্রতিকূলতা, অসহায়তা, বঞ্চনা ও সংশয়ের মাঝেও সংঘবদ্ধ হতে হবে। কারণ একতা, সম্প্রীতি ও সম্মিলিত শক্তির কাছে উদ্ধত শক্তিকে নতজানু হতেই হবে— এটাই সভ্যতার ইতিহাস, এটাই সত্য ।
নামকরণের সার্থকতা
নামকরণ বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নামকরণের মাধ্যমে সাহিত্যিক যেমন তাঁর সৃষ্টির পূর্ণতা দেন তেমনি পাঠককে আকৃষ্ট করার ও সাহিত্য কর্মের রসগ্রহণে সাহায্য করার অভিপ্রায় থাকে। নামকরণের বিভিন্ন আঙ্গিক থাকে, যেমন চরিত্রকেন্দ্রিক, ঘটনাকেন্দ্রিক, ভাব-ব্যঞ্জনার্থক নামকরণ ইত্যাদি। স্বাধীনতা-পরবর্তী যুগে শঙ্খ ঘোষের কবিতা রচনার পথ চলা শুরু, যে পথে তিনি আজও হেঁটে চলেছেন। তাঁর কবিতায় সমকালীন সমাজ সর্বদা প্রতিফলিত হয়। তিনি আশাবাদী তাই ধ্বংসের মাঝেও সৃষ্টির বীজ খুঁজে বেড়ান। পাঠ্য কবিতাটিতে তিনি প্রতিকূলতা, অসহায়তা, বঞ্চনা ও সংশয়ের মাঝেও আশার আলো দেখেছেন এবং পাঠকদেরও দেখিয়েছেন। সমাজসচেতন ও প্রতিবাদী কবি শঙ্খ ঘোষ পাঠ্য কবিতাটির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শোষিত, অত্যাচারিত মানুষের কাছে সংঘবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন।
১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো MCQ মান ১
১.১ 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থ হল-
(ক) ধুম লেগেছে হৃদকমলে
খ) জলই পাষাণ হয়ে আছে
গ) মূর্খ বড়ো সামাজিক নয়
(ঘ) মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
উত্তর জলই পাষাণ হয়ে আছে
১.২ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটির কবি হলেন-
ক) বিষ্ণু দে
খ) জীবনানন্দ দাশ
গ) শঙ্খ ঘোষ
ঘ) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
উত্তর শঙ্খ ঘোষ
১.৩ কবি শঙ্খ ঘোষের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থটি হল -
ক) বাবরের প্রার্থনা
খ) নিহিত পাতাল ছায়া
গ) মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
ঘ) দিন গুলি রাতগুলি
উত্তর দিন গুলি রাতগুলি
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
১.৪ শঙ্খ ঘোষ রচিত একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ হল-
ক) মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
খ) অল্প বয়সে
গ) কালের মাত্রা ও রবীন্দ্র নাটক
ঘ) সুপুরি বনের সারি
উত্তর কালের মাত্রা ও রবীন্দ্র নাটক
১.৫ শঙ্খ ঘোষের ছদ্ম নাম কী ছিল-
ক) কুন্তক
খ) যাযাবর
গ) মৌমাছি
ঘ) নীললোহিত
উত্তর কুন্তক
১.৬ ‘কুন্তক' ছদ্মনামে লেখা শঙ্খ ঘোষের রচনাগুলির নাম হল-
ক) শব্দ নিয়ে খেলা ও কথা নিয়ে খেলা
খ) দিনগুলি রাতগুলি, বাবরের প্রার্থনা
গ) ছন্দময় জীবন, ভিন্ন রুচির অধিকার
ঘ) এই শহরের রাখাল, ছন্দের বারান্দা
উত্তর শব্দ নিয়ে খেলা ও কথা নিয়ে খেলা
১.৭ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কথাটি কবিতায় ব্যবহৃত হয়-
ক) একবার
খ) দুই বার
গ) তিন বার
ঘ) চার বার
উত্তর দুই বার
১.৮ "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' বাক্যটির অর্থ-
ক) দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকা
খ) ছাড়া ছাড়া থাকা
গ) বন্ধন মুক্ত থাকা
ঘ) ঢিলেঢালা থাকা
উত্তর দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকা
১.৯ আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ’। ‘গিরিখাদ' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ—
ক) স্থানচ্যুতি
খ) অদৃশ্য হওয়া
গ) চূড়া
ঘ) পর্বত গহ্বর
উত্তর পর্বত গহ্বর
১.১০ ‘আমাদের মাথায়
ক) বোমারু
খ) গিরিখাদ
গ) চূড়া
ঘ) পাহাড়
উত্তর বোমারু
১.১১ কবিতায় উল্লিখিত হিমানীর বাঁধ রয়েছে—
ক) হাতে হাতে
খ) পায়ে পায়ে
গ) মাথায় মাথায়
ঘ) শিরায় শিরায়
উত্তর পায়ে পায়ে
১.১২ ‘পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ’। ‘হিমানী' শব্দের আক্ষরিক অর্থ—
ক) জল
খ) আগুন
গ) তুষার
ঘ) পর্বত
উত্তর তুষার
১.১৩ কবিতায় কবি কাদের শবদেহের উল্লেখ করেছেন ?
ক) বুড়োদের
খ) শিশুদের
গ) যুবকদের
ঘ) বৃদ্ধাদের
উত্তর শিশুদের
১.১৪ ‘আমাদের পথ নেই আর’। ‘পথ’ শব্দটি কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে—
ক) দুইবার
খ) একবার
গ) চারবার
ঘ) তিনবার
উত্তর দুইবার
১.১৫ আমাদের কী নেই বলে কবির মত প্রকাশ ?
ক) ভূগোল
খ) ইতিহাস
গ) বাংলা
ঘ) জীবন
উত্তর জীবন
১.১৬ ‘আমাদের চোখমুখ ঢাকা’। ‘চোখমুখ' অর্থে কবি বলেছেন—
ক) মুখোশাবৃত
খ) সময়াবৃত
গ) অলংকারাবৃত
ঘ) সমাজাবৃত
উত্তর মুখোশাবৃত
১.১৭ আমরা ভিখারি কত মাসে
ক) পাঁচ মাস
খ) ছয় মাস
গ) আট মাস
ঘ) বারো মাস
উত্তর বারো মাস
২. কমবেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও :
২.১ ‘আমাদের' বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ ‘আমাদের' বলতে দেশকালের সীমা অতিক্রম করে সাম্রাজ্যবাদী ও হানাদারি শত্রুর হাতে আক্রান্ত সর্বহারা সাধারণ মানুষদের বুঝিয়েছেন।
২.২ ‘ডান পাশে ধ্বস' ও 'বাঁয়ে গিরিখাদ বলতে আসলে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর ‘আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ । আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘ডান পাশে ধ্বস’ ও ‘বাঁয়ে গিরিখাদ' বলতে কবি আসলে মানুষের পদে পদে বিপদ এবং সর্বত্রই পতনের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে ।
২.৩ ‘আমাদের ডানপাশে ধ্বস' –‘ধ্বস' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কী?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ । ‘ধ্বস’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ খসে পড়া। পাঠ্য কবিতায় সাধারণ মানুষের চলার প্রতি পদে পদে বিপদ বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার হয়েছে।
2.8 ‘আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ’—‘গিরিখাদ' শব্দটির
আক্ষরিক অর্থ লেখো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ । গিরিখাদ' হল দুই পর্বতের মাঝে সৃষ্ট গভীর খাদ। পাহাড়ি পথের বিপদসংকুলতার মতোই বর্তমান বিশ্বে মানুষের জীবনে ছড়িয়ে থাকা প্রতিকূলতা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার হয়।
2.৫ ‘আমাদের মাথায় বোমারু—বলতে কী বলা হয়েছে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ । যুদ্ধবাজরা শক্তি যেমন বোমারু বিমান থেকে অতর্কিতে আক্রমণ চালায়, তেমনই আচমকা আক্রমণে মানুষের জীবন আজ বিপন্ন।
২.৬ 'পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ'—'পায়ে পায়ে বলতে কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ। পাঠ্য কবিতায় ‘পায়ে পায়ে' বলতে মানুষের প্রতি পদক্ষেপকে বোঝানো হয়েছে। মানুষের চলার পথে নানান প্রতিকূলতা প্রতি মুহূর্তে বরফের দেয়ালের মতোই বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
২.৭ ‘আমাদের পথ নেই কোনো-বলার কারণ কী?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ । বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ বড়ো অসহায় ও প্রতিনিয়ত তার চলার পথের প্রতিকূলতা ও দিশাহীনতা ফুটিয়ে তুলতেই কবি এমন মন্তব্য করেছেন।
২.৮ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় আমাদের ঘর উড়ে গেছে কথাটি কেন বলা হয়েছে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রতিনিয়ত প্রচুর মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। সে কথা বোঝাতেই কবি এই কথা বলেছেন ।
২.৯ ‘আমাদের শিশুদের শব ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে! বলার অর্থ কী?
উত্তর আলোচ্য অংশটি আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ শঙ্খ ঘোষের লেখা উপরিক্ত মন্তব্যের দ্বারা লেখক বলতে চেয়েছেন যে শিশুদের শব ছড়ানো বলতে যুদ্ধ, দাঙ্গা ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস কবলিত আজকের দুনিয়ায় হিংস্রতার হাত থেকে রেহাই পায়নি শিশুরাও। তারই ভয়াবহতা বোঝাতে এই উক্তি।
২.১০ আমাদের শিশুদের শব পড়ে থাকার মধ্যে দিয়ে কোন্ বিষয়টি ধরা পড়েছে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ শঙ্খ ঘোষের লেখা উপরিক্ত মন্তব্যের দ্বারা লেখক বলতে চেয়েছেন যে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার বলি হচ্ছে আগামী প্রজন্মও। তাই কবির আশাঙ্কা তবে কি এভাবেই শেষ হয়ে যাবে সম্পূর্ণ মানবসমাজ !
৩. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন মান ৩
৩.১ ‘আমরাও তবে এইভাবে এই-মুহূর্তে মরে যাব না কি?'—বলার অর্থ কী?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষের লেখা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে । চারিদিকের প্রতিকূলতা, হানাদারি শত্রুর আক্রমণে গৃহহারা মানুষ চোখের সামনে ভবিষ্যত প্রজন্মের মৃত্যু দেখে নিজের বেঁচে থাকাতেও সংশয় প্রকাশ করেন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতি থেকেই বক্তার এই উক্তি।
৩.২ “আমাদের ইতিহাস নেই— এ কথা বলা হয়েছে কেন?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষের লেখা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে । এই কবিতায় কবি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। আর সাধারণ মানুষ কোনোদিনই ইতিহাসে স্থান পায় না। তাদের ইতিহাস জনসমক্ষে প্রতিফলিত হয় না। এই প্রসঙ্গে কবি উপরিক্ত মন্তব্যটি করেছে ।
৩.৩ 'আমাদের চোখমুখ ঢাকা'—'চোখমুখ ঢাকা-র কারণ কী ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষের লেখা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে । পৃথিবীর সমস্ত ইতিহাসই ক্ষমতাবানের ইতিহাস। দুর্বল, বিপন্ন মানুষের ইতিহাস কখনোই সভ্যতার দর্পণে প্রতিফলিত হয় না। সর্বদাই তা ক্ষমতাবানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
৩.৪ 'আমরা ভিখারি বারোমাস'—বলার কারণ কী ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষের লেখা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে । সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শোষণে নিপীড়িত, বঞ্চিত জনগণ আজ আশ্রয় ও জীবিকা হারিয়ে চিরভিখারিতে পরিণত হয়েছে। তাই কবি এ কথা বলেছেন।
৩.৫ ‘আমাদের পথ নেই কোনো’– 'পথ' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? কবির এমন আশঙ্কার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষের লেখা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে । এখানে ‘পথ’ বলতে এই অবক্ষয়ের যুগে আদর্শহীনতা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে নতুন ভাবে বাঁচার কথা বলা হয়েছে । বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, দাঙ্গা, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা মানুষকে দিশাহারা করে তুলেছে। মানুষ আজ সন্ত্রাস আর বঞ্চনার শিকার। জীবনধারণের প্রতি পদে প্রতিবন্ধকতা তার অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। তাই কবির আশঙ্কা এই অন্ধকারের আবর্ত থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের সুষ্ঠু জীবনযাপন করা ।
৩.৬ 'আমাদের শিশুদের শব ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে।' –উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষের লেখা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে । যুদ্ধবিধ্বস্ত বর্তমান বিশ্বে আমাদের চারপাশ আজ বিপদ ঘনিয়েছে । সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে বিশ্বব্যাপী রক্তক্ষয়ী হানাহানি থেকে শিশুরাও বাদ যায়নি। আগামী প্রজন্মও এই প্রাণঘাতী হিংসার বলি । কবির আক্ষেপ আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে শিশুদেরও কোনো নিরাপত্তা নেই। আমরা আমাদের ভবিষ্যতকে সুরক্ষা দিতে অক্ষম। এই প্রসঙ্গে আলোচনাটি মন্তব্য করা হয়েছে ।
৩.৮ 'আমরা ভিখারি বারোমাস'-বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষের লেখা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে । আমরা ভিখারি বারোমাস বলতে কবি মানুষের অভাবের কথা বলেছেন। কবির মতে নানান প্রতিকূলতা ও যুগযন্ত্রণার ক্ষত নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে। সে পথহারা, তার মানসিক দৃঢ়তা শিথিল হয়ে পড়েছে। তার ইতিহাসের সঠিক প্রতিফলন হয়নি জেনেও সে নিশ্চুপ, সারা বিশ্বে থেকে বিচ্ছিন্ন আপাত ভীরু মানুষের মানসিক দৈন্যতার কথা বলতে গিয়ে কবি এমন মন্তব্য করেছেন।
৪. রচনাধর্মী প্রশ্ন মান ৫
৪.১ ‘আমাদের পথ নেই কোনো’–'আমরা' কারা
এবং তাদের ‘পথ’ নেই কেন? পথহারা মানুষগুলোকে কবি কোন পথের সন্ধান দিয়েছেন ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ শঙ্খ ঘোষ দ্বারা রচিত । উপরিক্ত মন্তব্যটি দ্বারা লেখক স্বাধীনতা-পরবর্তী যুগের অন্যতম সমাজসচেতন কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয়-আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় ‘আমরা’ শব্দটির উল্লেখ পাই। কবির কথায় ‘আমরা’ কোনো সীমাবদ্ধ এলাকার জনসমষ্টি নয়। তিনি ‘আমরা' বলতে আজকের যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, নিপীড়িত, শ্রমজীবী, শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষদের বুঝিয়েছেন।
‘পথ' বলতে এখানে কবি সাধারণ মানুষের জীবনের চলার পথের কথা বলেছেন। সুস্থ সমাজ ও সুন্দর পৃথিবীই পারে মানুষের চলার পথকে সুন্দর করে তুলতে । কিন্তু আজকের পৃথিবী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনে ভীত-সন্ত্রস্ত। সাধারণ শান্তিকামী মানুষ বিপন্ন ও অসহায়। গৃহহারা এইসব মানুষ তাদের ভাবী প্রজন্মকে বাঁচাতে ব্যর্থ। তাদের নিজেদের অস্তিত্বও আজ সংকটের মুখে। তাই তাদের মনে হয়েছে তারা পথহারা।
লেখকরা কোনদিনই মানুষকে হারিয়ে যেতে দেয় না । তাই কবি আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার মাধ্যমে জর্জরিত নিরুপায় মানুষেরা প্রত্যাঘাতের পথ বেছে নেয় একদিন না একদিন । তাই তিনি তাদের আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ।
৪.২‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।— 'বেঁধে বেঁধে' থাকা বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন এবং কাদের এভাবে থাকতে বলেছেন? কবি বেঁধে বেঁধে থাকার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন কেন?
উত্তর আলোচ্য অংশটি আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ শঙ্খ ঘোষ দ্বারা রচিত । আয় আরো ‘বেঁধে বেঁধে' থাকি বলতে কবি একসঙ্গে বেঁচে থাকাকে বোঝাতে চেয়েছেন। বর্তমান বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও মৌলবাদীদের হাতে বিধ্বস্ত। মানুষ আজ হারিয়ে গেছে প্রতি পদে পদে তার বিপদ। তার মাথার উপর ছাদ নেই। তারা তাদের ভাবী প্রজন্মকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে । প্রতি মুহূর্তে প্রাণসংশয়ের ভয়ে ভীত। তাই এই ক্রমাগত শোষিত মানুষগুলিকে কবি প্রত্যাঘাতের পথে এগোতে বলেছেন। এই প্রত্যাঘাতের পথ হল সংঘবদ্ধতা, কবি পৃথিবীর অংসখ্য শ্রমজীবী, শান্তিকামী সাধারণ মানুষদের ‘বেঁধে বেঁধে' অর্থাৎ একত্রিত হয়ে থাকতে বলেছেন।
বন্য জীবজন্তুর হাত থেকে নিজেদের রক্ষার্থে আদিম অরণ্যচারী মানুষের মনেও একদিন সংঘবদ্ধভাবে বাস করার ভাবনা জেগেছিল। এইভাবেই গড়ে উঠেছিল পরিবার, পাড়া, গ্রাম, প্রদেশ ও রাষ্ট্র। সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন সভ্যতা। আজ বন্য জন্তুর ভয় নয়, সাম্রাজ্যবাদী ও মৌলবাদী শক্তি তাদের নৃশংসতায় সাধারণ মানুষের সামনে অস্তিত্বের সংকট সৃষ্টি করেছে। এই সংকট থেকে রক্ষা পেতে, ভাবী প্রজন্মের কাছে এক সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে হলে আরও সংঘবদ্ধ ভাবে বা কবির কথায় ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকতে হবে।
৪.৩ আমরা ভিখারি বারো মাস আমরা বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ? তারা নিজেদের সর্বদা ভিখারী বলে মনে করে কেন ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি শঙ্খ ঘোষের রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে । কবিতায় কবি এখানে আমরা বলতে বর্তমান বিশ্বের বৈদেশিক শক্তির আগ্রাসনের অত্যাচারের দ্বারা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষদেরকে বোঝানো হয়েছে।
আমরা এখানে একটি চরিত্র । সাধারণ মানুষেরা সমাজের নিচু তলার মানুষ হিসেবে পরিচিত থাকলেও এরা সভ্যতার ধারক রূপেই গণ্য হয় । তারপরেও তারা সমাজের অন্ধকার অংশেই পড়ে থাকে । তারা সমাজের বড় বড় ধনী লোকেদের উপরেই আশ্রয়ে উপর নির্ভর করেই নিজের জীবন চালনা করে। সাধারণ মানুষরা চিরকালই বঞ্চিত থাকে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে । এই মৌলবাদীরা যখন সারা বিশ্বে এক উন্মাদনা সৃষ্টি করে তখন সবার আগে এই গরিব মানুষদের রুজি-রুটির ওপর টান পড়ে। তারা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিক থেকে ভিখারী না এরা সামাজিক দিক থেকেও গরিব তাই কবি সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলেছেন আমরা বারোমাস ভিখারী ।
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
0 Comments