প্রলয়োল্লাস
কাজী নজরুল ইসলাম
সূচিপত্র
- লেখক পরিচিতি
- বিষয়সংক্ষেপ
- উৎস
- নামকরণ
- বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন
- অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- রচনাধর্মী প্রশ্ন
সূচিপত্র
- লেখক পরিচিতি
- বিষয়সংক্ষেপ
- উৎস
- নামকরণ
- বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন
- অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- রচনাধর্মী প্রশ্ন
বর্ধমান জেলার আসানসোলে জামুরিয়া থানার অন্তর্গত চুরুলিয়া গ্রামে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে ২৪ শে মে জন্মগ্রহণ করে কাজী নজরুল ইসলাম । তার পিতার নাম আমিন উল্লাহ কাজী ফকির আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি । তার পিতা ফকির আহমেদ ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম । ছোটবেলায় তাকে ডাকা হতো দুখু মিঞা বলে । মসজিদ পরিচালিত মুসলিমদের ধর্মীয় স্কুল নজরুল কোরআন ইসলাম ধর্ম দর্শন এবং ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অধ্যায়ন শুরু করে। পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে শিক্ষাজীবন বাঁধাগ্রস্ত হয় । তারপর জীবিকা অর্জনের জন্য তাকে কাজে নামতে হয় । বাঙালির মনে ও প্রাণে রবীন্দ্রনাথের পরে নজরুলের স্থান । নজরুলের লেখার বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্র তাকে মানুষের খুব কাছের জন করে তুলেছিল । তার লেখার মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা ও আবেগের স্রোত ছিল যা তার গান ও কবিতার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হতো নজরুল সমাজ মনস্ক ও দায়িত্ববান কবি । তিনি সারা জীবনের প্রায় কুড়িটি কাব্যগ্রন্থ ও ২৬৮০টির বেশি সংগীত রচনা করেছেন । আর রচিত অগ্নিবীণা, ছায়ানট ,ঝড় ,দোলনচাঁপা, প্রলয়শিখা, ফণীমনসা, বিষের বাঁশি ইত্যাদি । কবি নজরুল ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্ম ভূষণে ভূষিত করা হয় ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে কবি পক্ষ আঘাতে আক্রান্ত হয়ে নির্বাক হয়ে পড়েন । অনেক চিকিৎসার পরেও কোন উন্নতি হয়নি। শেষে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ২৯ আগস্ট ঢাকাতে কবির মৃত্যু হয় ।
উৎস
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা প্রথম দুটি কবিতা বিদ্রোহী ও প্রলয়োল্লাস প্রকাশিত হয় 1922 খ্রিস্টাব্দের প্রথমে দিকে । প্রলয়োল্লাস কবিতাটি 1922 খ্রিস্টাব্দে অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
বিষয়বস্তু
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি আসলে ইংরেজ শাসকের প্রতি মুক্তিকামী এক মানুষের অন্তরের সতর্কবার্তা। বৈপ্লবিক আবেগ জোট বাঁধছে এবং তা তীব্রবেগে এগিয়ে আসছে সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে আঘাত হানতে। ভারতমাতাকে পরাধীনতার অর্গল থেকে মুক্তিদান করাই তার উদ্দেশ্য। চারদিকে ভয়ংকরের ইঙ্গিতবাহী ঝড়-তুফান এবং বজ্রের সঘোষ-হর্ষ। মহাকালের হাতের চাবুক যেন বিদ্যুতের মতো চমকিত হচ্ছে, বজ্রপাতের শব্দ যেন তার হ্রেষাধ্বনি। সেই ঘোড়ার খুরের আঘাতে উল্কা খসে পড়ছে নীল আকাশের বুক থেকে। যেন মহাকালের আগমনবার্তা ধ্বনিত হচ্ছে তার রথের চাকার প্রবল ঘর্ষণে। এই প্রলয় ভয়ংকর, এই প্রলয় ধ্বংসকারী। সে কালবৈশাখী ঝড়ের মতো সকল জীর্ণতাকে বিনাশ করে নতুনের আগমন ঘোষণা করে। কবি জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে তাকে অন্তরের সম্ভাষণ জানান। এই কাল-ভয়ংকর যেন প্রলয়ের নেশায় ও তাণ্ডবে মত্ত। সাতসমুদ্র পারের সিংহদরজা সে কেবল বজ্রনির্ঘোষে ভেঙে ফেলে। অন্ধকার মৃত্যুকূপ থেকে মহাকালকে সঙ্গী করে, বজ্র প্রজ্বলিত মশাল হাতে ছুটে আসে সেই ভয়ংকর। তার হাসিতে বিভীষিকা। তার ঘোর কৃষ্ণবর্ণের কেশরাশির ঝাপটায় আকাশ দোলে, বহ্নিমান ধূমকেতু যেন তার দাসত্ব করে। জরাগ্রস্ত সংস্কার, পরাধীন মনের আবদ্ধতা ও নিষ্প্রাণ-বর্ণহীন অসুন্দরকে, জীবন থেকে বিনাশ করতে নবদিগন্তের সূচনাকারী প্রলয়ের বন্দনাগান গেয়েছেন কবি। আর এই প্রলয় প্লাবিত হৃদয়ের আশা-ভীতি ও রোমাঞ্চের দোলাচলকেই কবি ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ব্যক্ত করেছেন।
নামকরণ
সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রে নামকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ নামকরণের মাধ্যমে কবি বা লেখক রচনা সম্পর্কে পাঠককে যেমন ইঙ্গিতপূর্ণ নামকরণের আঙ্গিক আভাস দেন, তেমনই সুকৌশলে নিজের সৃজন- অভিপ্রায়টি ও ব্যক্ত করেন। তাই নামকরণের মধ্য দিয়ে স্রষ্টার জীবনদর্শনের সঙ্গে সঙ্গে, সৃষ্টির অন্তরে নিহিত ব্যঞ্জনাটিও পরিস্ফুট হয়। আমাদের আলোচ্য কবিতাটির নাম 'প্রলয়োল্লাস'। সচেতন পাঠক কবিতাটি পাঠ করলেই বুঝতে পারবেন যে, কবিতার মূলভাবের প্রতি দৃষ্টি রেখেই কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই নামকরণ করেছেন। ‘প্রলয়োল্লাস' একটি সন্ধিবদ্ধ শব্দ, যাকে বিভক্ত করলে পাই—প্রলয় এবং উল্লাস। ‘প্রলয়’ শব্দের অর্থ হল বিনাশ বা ধ্বংস, অন্যদিকে ‘উল্লাস' শব্দের অর্থ আনন্দ বা উচ্ছ্বাস। কিংবা কেবল আনন্দ নয়, আনন্দের উচ্চকিত উদ্যাপন। আপাতদৃষ্টিতে শব্দ দুটি পরস্পরবিরোধী হলেও সূক্ষ্মবিচারে ধ্বংসের মধ্যে, ভয়াবহ বিনাশের
১. সঠিক উত্তর বেছে নিয়ে লেখ
১.১ প্রলয়োল্লাস কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত
ক) অগ্নিবীণা
খ) সর্বহারা
গ) ফণীমনসা
ঘ) ঝড়
উত্তর অগ্নিবীণা
১.২ তোরা সব ---- কর
ক) প্রলয় নাচন
খ) জয়ধ্বনি
গ) বিদ্রোহ
ঘ) সৃজনবেদন
উত্তর জয়ধ্বনি
১.৩ প্রলয়োল্লাস শব্দের অর্থ কি
ক) ধ্বংসের আনন্দ
খ) ভয়ংকর চন্ড রূপ
গ) রথঘর্যর
ঘ) দিগন্তরের কাঁদন
উত্তর ধ্বংসের আনন্দ
১.৪ ভয়ংকর আসছে
ক) বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে
খ) কেসের দোলায় ঝাপটা মেরে
গ) অরুন হেসে করুণ বেশে
ঘ) আসছে হেসে মধুর হেসে
উত্তর বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে
১.৫ ধুমকেতুকে জ্বালামুখী বলার কারণ কী
ক) ধুমকেতুর পুচ্ছটি ধুম্র নির্মিত
খ) ধুমকেতু আগুন উদগীরণ করে
গ) ধুমকেতু সবকিছু পুড়িয়ে দেয়
ঘ) ধুমকেতু নিজে পুড়ে যায়
উত্তর ধুমকেতুর পুচ্ছটি ধুম্রনির্মিত
১.৬ কৃপান শব্দের অর্থ হল
ক) ছোরা
খ) তরবারি
গ) কিপটে
ঘ) ঢাল
উত্তর ছোরা
১.৭ প্রলয়োল্লাস কবিতায় শিশু চাঁদ বলতে কী বোঝানো হয়েছে
ক) ছোট চাঁদ
খ) সদ্য উদিত চাঁদ
গ) চাঁদের সন্তান
ঘ) চাঁদের মত সুন্দর শিশু
উত্তর সদ্য উদিত চাঁদ
১.৮ জীবন হারা অসুন্দরের করতে ছেদন ! কে আসছে
ক) চিরসুন্দর
খ) মুমূর্ষ
গ) মহাকাল সারথি
ঘ) নবীন
উত্তর নবীন
১.৯ প্রলয়োল্লাস কবিতায় তোরা সব জয়ধ্বনি কর বাক্যটি মোট কতবার ব্যবহার করা হয়েছে
ক) ১৭ বার
খ) ২১ বার
গ) ১৯ বার
ঘ) ১৫ বার
উত্তর ১৯ বার
১.১০ অন্ধকার কারার বন্ধ কূপে / দেবতা বাঁধা যজ্ঞ যূপে এক্ষেত্রে কবি দেবতা বলতে কি বুঝিয়েছেন
ক) মহাদেব কে
খ) দেশ মাতা কে
গ) ভারতীয় বিপ্লবীকে
ঘ) দেশনায়ক কে
উত্তর ভারতীয় বিপ্লবীকে
১.১১ কাল ভয়ংকরের বেসে কি আসে
ক) সুন্দর
খ) মধুর
গ) অসুন্দর
ঘ) বিভৎস
উত্তর সুন্দর
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্ন
২. কমবেশি কুড়িটি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও
২.১ তোরা সব জয়ধ্বনি কর ! কবি কাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছে ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । কবি পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী ও স্বাধীনতা প্রত্যাশী জনগণকে মহাপ্রলয়ের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।
২.২ কালবৈশাখী ঝড় কে নতুন কেতন বলার কারণ কী ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে ।
কালবৈশাখীর ঝড় পুরাতন কে মুছে ফেলে নতুনের সংকেত আনে তাই কবি কালবৈশাখীকে নতুনের কেতন বলেছে।
২.৩ সিন্ধুপার এর সিংহদ্বারে বলতে কি বুঝিয়েছে ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । সিন্ধুপার এর সিংহদ্বার বলতে সাগর তীরে অবস্থিত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দ্বারা শাসিত ভারতকে বুঝিয়েছে ।
২.৪ মহাকাল কী ?
উত্তর মহাকাল হল সময় প্রবাহ কিন্তু পাঠ্য কবিতা মহাকাল বলতে সৃষ্টিকারী মহাদেবের ধ্বংসাত্মক রূপের কথা বলা হয়েছে ।
২.৫ ধুমকেতু কী ?
উত্তর সৌরজগতের ঝাটার মতো লেজ বিশিষ্ট জ্যোতিময় পদার্থ । এই লেজ একপ্রকার তরল বাষ্পে গঠিত । অন্যান্য গ্রহের মতো ধূমকেতু ও নির্দিষ্ট কক্ষপথে নিয়মিত সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে । হ্যালির ধূমকেতু একটি বিখ্যাত ধুমকেতু যা ৭৫ বছর পর দেখা যায় ।
২.৬ ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর --- চরাচর স্তব্ধ কেন ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত এখানে স্তব্ধ চরাচর বলতে ধ্বংসের দেবতা শিবের অট্টহাসির ভয়ঙ্কর শব্দে বিশ্ব চরাচর স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এই স্তব্ধতার মুক্তি কামি মানুষের মনে কোন এক আসন্ন ঝড়ের ইঙ্গিত বহন করে আনে।
২.৭ বধূরা কেন প্রদীপ তুলে ধরবে?
উত্তর প্রলয়োল্লাস কবিতাটি অনুসারে যুগান্তরের অন্ধকারের বুক চিরে প্রলয় এগিয়ে আসছে মানুষের আকাঙ্ক্ষিত মুক্তি বার্তা নিয়ে তাই কবি বন্ধুদের প্রদীপ তুলে নিয়ে বরণ করে নিতে বলেছেন।
২.৮ ওই নতুনের কেতন ওড়ে -- নতুনের কেতন ওরা বলতে কী বুঝিয়েছে ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । সূক্ষ্ম ও জীর্ণ প্রকৃতির বুকে নতুন প্রাণ বহন করে আনে , খুবই পরাধীন দেশের প্রাচীন অচলায়তন কে ভেঙে নতুন জীবনের বার্তা ঘোষণা করতে চেয়েছেন ।
২.৯ ওই আছি সুন্দর-- সুন্দর কীভাবে আসে ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । সুন্দর বলতে কাল ভয়ংকর এর বেশে রুদ্ররূপী প্রলয় আসে ।
২.১০ বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর ! -- কবি কেন এমন বলেছেন ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । বিপ্লবী সত্যকে বিনাশকারী প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে এই উপমাটি ব্যবহার করা হয়েছে ।
সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্ন
৩. কমবেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো
৩.১ ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!— ‘তোরা কারা? তাদের জয়ধ্বনি করতে বলা হচ্ছে কেন?
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে ।
নজরুল ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি ‘তোরা’ বলতে পরাধীন দেশের স্বাধীনতার প্রত্যাশী আপামর জনসাধারণকে বুঝিয়েছেন। ভারতবর্ষের পরাধীনতা কবি নজরুলের কাছে ভীষণ পীড়াদায়ক ছিল। তিনি সর্বদাই এই অবস্থার অবসান চাইতেন। তিনি বুঝেছিলেন জয়ধ্বনি করতে বলার কারণ কালবৈশাখীর মতো ভয়ংকর শক্তি কিংবা প্রলয়-নেশায় মত্ত মহাদেবের মতোই কেউ এসে এই অবস্থার অবসান ঘটাবে। তাই কবি ভারতীয়দের এই ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতার আগমনের উদ্দেশ্যে জয়ধ্বনি করার আহ্বান
জানিয়েছেন ৷
৩.২ ‘আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল,’ —‘অনাগত’ কে? সে ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল' কেন?
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে ।
‘অনাগত' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ যা আসেনি। এক্ষেত্রে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে আমাদের মুক্ত করতে পারে এমন শক্তির আগমন যে আসন্ন তা আশাবাদী কবি মানস চক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন। শিব বা রুদ্ররূপী এই শক্তিকেই কবি ‘অনাগত’ বলেছেন।
‘প্রলয়’ ও ‘নৃত্য পাগল' শব্দ দুটির দ্বারা কবি শিবের বিধ্বংসী ও প্রলয়-নেশার নৃত্য নটরাজরূপের কথা বলতে চেয়েছেন। কবির কাঙ্ক্ষিত অনাগত শক্তি অত্যাচারী ব্রিটিশ শক্তিকে ধ্বংসের ও মন্থনের দ্বারা আমাদের স্বাধীনতার ‘বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর! নতুন সকাল উপহার দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর।
৩.৩ —ভয়ংকর' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? তার আসার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে ।
নজরুল তাঁর 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাতে ভয়ংকর' বলতে নবযুগের বার্তাবহ প্রলয়রূপী বিপ্লব বা বিদ্রোহকে বুঝিয়েছেন। ‘রুদ্ররূপী’ শিবকে তিনি এর প্রতীক রূপে কল্পনা করেছেন।
অত্যাচারী ব্রিটিশের শাসনে ভারতবাসী স্থবির হয়ে গিয়েছিল। আর ভারতবর্ষ হয়ে গিয়েছিল অচলায়তন। কালের ‘ভয়ংকর’—অর্থ নিয়মে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবেই। সেই অচলায়তন ভাঙবে মানুষের সম্মিলিত বিপ্লবের দ্বারা। আশাবাদী কবি আসন্ন বিপ্লবের এই আছড়ে পড়া ঢেউকে ভয়ংকর প্রলয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
৩.৪ ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?— ধ্বংসকে ভয় না-পাওয়ার কারণটি বুঝিয়ে দাও ।
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । কালের রথে চড়ে মহাপ্রলয়ের মধ্য দিয়ে মহাকালের বা ভয়ংকরের আগমন দেখে কবি অগ্রদূতকে ভয় না-পেতে বলেছেন। প্রলয় ধ্বংসকারী, কিন্তু এটাও সত্য যে, প্রলয়ই সৃষ্টির হাতছানি। প্রলয় আমাদের মধ্যে বেদনাবোধ জাগালেও নতুন কিছু সৃষ্টি করে। প্রলয়ই পারে নবচেতনার আলোকে প্রাণহীন অসুন্দরের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে। কবি তাই তার অগ্রদূতকে অভয় দিয়ে বলেছেন প্রলয় চিরসুন্দর। সে ভেঙে আবার গড়তেও পারে। তাই প্রলয়কে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
৩.৫ আসছে নবীন জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ।— উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । পরাধীন ভারতের জীর্ণতা, দাসত্ব, জড়তা, বৈষনা ও শোষণের অবসান ঘটাতে কবি বৈপ্লবিক সত্তার আগমন ধ্বনি তাৎপর্য
শুনতে পেয়েছেন। প্রলয়রূপী এই যুগান্তরের শক্তির পদসঞার দেখে তিনি হয়েছেন আত্মহারা। কবি নিশ্চিত জীবনহারা-অশুভের বিনাশকারী নবীনের মধ্যেই আছে, নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা। সেই পারে নিষ্প্রাণ-গতিহীন সমস্ত কুশ্রীতার জঞ্জালকে ধুয়ে-মুছে সাফ করে দিতে। উপরের উদ্ধৃতিটিতে কবি এ কথাই বলতে চেয়েছেন।
রচনাধর্মী প্রশ্ন
কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো
৪.১ ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি প্রলয়কে কোন কোন বিশেষণে ভূষিত করেছেন? কবিতার বিষয়বস্তু অনুসারে এই বিশেষণগুলির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । বিদ্রোহীসত্তার অধিকারী কবি নজরুলের বিশ্বাস চারপাশের সমাজে যে-বৈষম্য, জড়ত্ব ও পরাধীনতার যন্ত্রণা বর্তমান বিপ্লবই পারে তা প্রলয়ের নানা বিশেষণ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে। ধ্বংসকারী সে প্রলয়ের আগমন-সংকেতে কবি আত্মহারা। আনন্দিত কবি তাই সেই পরিবর্তনকামী শক্তিকে ‘কালবোশেখির ঝড়’, ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল’, ‘ভয়ংকর’, ‘মহাকাল-সারথি’, ‘নবীন’, ‘কাল-ভয়ংকর’ প্রভৃতি বিশেষণে ভূষিত করেন ।
নজরুল তার বহু কবিতায় অশুভ শক্তির ধ্বংসের প্রয়োজনে প্রলয়কে ডাক দিয়েছে । এই প্রলয়ের ওপর কখনো-কখনো চেতনা আরোপ করে কবি তাকে চারিত্রিক মর্যাদা দিয়েছেন, যেমন : ‘অগ্রদূত’, ‘সারথি’, ‘কালাপাহাড়’, ‘ঘোড়স ওয়ারী' ইত্যাদি। আমাদের পাঠ্য ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতাতেও তিনি প্রলয়কে নানান বিশেষণে বিশেষিত করেছেন, ‘কালবৈশাখী ঝড়’ বলে তুলনা করে কবিতায় বিশেষণ গুলির তাৎপর্য
বিভীষিকাময় রূপের শেষে নতুনের পদধ্বনি শুনেছেন। কবি ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল' বলতে ধ্বংসের নেশায় তাণ্ডবকারী বিপ্লবের আগমনকে বুঝিয়েছেন, যে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির সূচনা করতে পারে। প্রলয়ের রূপকে কবি ‘ভয়ংকর’ বা ‘কাল-ভয়ংকর’ রূপেও আহ্বান জানিয়েছেন। প্রলয় প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটে থাকে। তাই তার রথের সারথি মহাকাল বা সময়। তাই ভাঙাগড়ার এই কারিগরকে মহাকাল-সারথি বলে কবি উল্লেখ করেছেন। সর্বোপরি প্রলয়কে ‘নবীন আখ্যা দেওয়ার অর্থ হল পৃথিবীতে পুরোনোকে ধ্বংস করে প্রলয়ই জন্ম দেয় নবীনের।
৪.২ ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতাটিতে কবি নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী সত্তার প্রতিফলন কীভাবে ঘটেছে, তা কবিতা অনুসারে আলোচনা করো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । সেগুলি হল— আপসহীন, ফরিয়াদি, সর্বোপরি বিদ্রোহী কবি। চিরকাল অন্যায়, শোষণ, অসাম্যের বিরুদ্ধে নজরুল যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তাঁর চরিত্রের এই ঋজুতা প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর কবিতাতেও। অনিবার্য যন্ত্রণাকে মাথা নীচু করে মেনে নেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে লর্ড বায়রনের একটি স্মরণীয় উক্তি—‘For I will teach, If possible the stones to rise against Earth's tyrants.'
এরই অনুরণন যেন শুনতে পাই নজরুলের ‘আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল, সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল’— পক্তিগুলিতে। নজরুলের ধমনিতে প্রবাহিত বহ্নি তাঁর অন্তরের বিদ্রোহী সত্তার প্রতিফলন সুপ্ত আগ্নেয়গিরিকে জাগ্রত করে, উদবেলিত লাভাস্রোতের মতো শব্দেরা এসে প্রজ্বলিত করে স্ফুলিঙ্গ। এই স্ফুলিঙ্গেরই নিদর্শন—‘মাভৈঃ মাভৈঃ ! সারা বিশ্বজুড়ে প্রলয় ঘনিয়ে আসে ।ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন কবি এই কবিতায়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সবুজের অভিযান' কবিতায়— ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা...' পক্তিগুলির সঙ্গে পূর্বোক্ত পক্তির সাদৃশ্য অতিস্পষ্ট। বিপ্লবপন্থায় বিশ্বাসী মাতৃভূমির প্রতি উৎসর্গীকৃতপ্রাণ নজরুল উদার, উন্মুক্ত বিশ্বমানবতাকেই তাঁর কাব্যরচনার অবলম্বন হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন।
৪.৩ ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!—কাদের উদ্দেশ্যে কবির এই আহ্বান? কবিতার ভাববস্তু বিশ্লেষণ করে এই আহ্বানধ্বনির পুনরাবৃত্তির যৌক্তিকতা প্রতিপন্ন করো।
অথবা, ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর?—এখানে ‘তোরা’বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তারা কেন, কাদের জয়ধ্বনি করবে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । ‘তোরা’ বলতে কবি পরাধীন ভারতের সেইসব মানুষদের বুঝিয়েছেন, যারা কবির ডাকে ইংরেজদের হাতে অত্যাচারিত, অশিক্ষা, কুংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং চেতনাহীন।
তাদের চেতনা জাগ্রত করতে এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্য ও বিপ্লবী সত্তাকে উজ্জীবিত করার উদ্দ্যেশ্যে কবির এই আহ্বান ৷ অনুনয়-বিনয় নয়, পরাধীন ভারতকে স্বাধীন করতে চাই তীব্র আন্দোলন । তাই তো তাঁর বিদ্রোহী সত্তা বারবার উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন কারাগারের লৌহকপাট ভেঙে ফেলতে। কখনও-বা কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা যে দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত সে-কথা জানিয়ে তিনি জয়ের আনন্দ করতে বলেছেন। আশাবাদী কবি তাই বারে বারে প্রলয়কে আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রলয়ই পারে কালবৈশাখীর ঝড় বা মহাকালে ভয়ংকর রূপকে সিন্ধুপারের সিংহদ্বারের আগল ভেঙে বিপ্লবীদের মুক্তি দিতে, জরাগ্রস্ত মুমূর্ষু জাতির মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করতে। কবি মহাপ্রলয়ের এই ধ্বংসলীলা দেখে ভয় না-পেতে বলেছেন। কেন-না রুদ্ররূপ মহাপ্রলয় একইসঙ্গে ধ্বংস ও সৃষ্টিরও। সেই-ই পারে ধ্বংসের কবিতার ভাব বস্তুর নিরিখে আহ্বান ধ্বনির পুনরাবৃত্তির যৌক্তিকতা ওপর নতুন সমাজ স্থাপন করতে। তাই কবি তাকে বরণ করে নিয়ে জয়ের আনন্দ করতে বলেছেন। কবিতায় ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!' চরণটি আঠারো বার উচ্চারণের কারণ, এর গীতিময়তা এবং পরাধীন ও প্রায় স্থবিরত্বপ্রাপ্ত অসহায় ভারতবাসীর হৃদয়ে উজ্জীবনের অনুরণন জাগানো ৷
৪.৪ ‘কাল-ভয়ংকরের বেশে এবার সুন্দর।’—‘কাল-ভয়ংকর’ কে? তার ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দাও তাকে সুন্দর বলা হয়েছে কেন তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে । বিদ্রোহী কবি বিপ্লবের পথেই যে ভারতবাসীর মুক্তি সে-কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন এবং তাঁর লেখনীতে তা বেশ স্পষ্ট। কিন্তু প্রায় জীবনহারা অচল-অসাড় একটা জাতিকে উজ্জীবিত করতে চাই একটা বিশালপ্রলয়। সেই প্রলয় ঘটাতে পারে একমাত্র রুদ্ররূপী কাল-ভয়ংকর। যদিও এক্ষেত্রে কবি দেশের যুবশক্তিকে কাল-ভয়ংকররূপে আখ্যা দিয়েছেন। কবি রুদ্ররূপী কাল-ভয়ংকর অর্থাৎ যুবশক্তির বিভিন্ন রূপ বর্ণনা করেছেন। কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো প্রলয়নেশার নৃত্যপাগল মহাকালের চণ্ডরূপে সামাজিক অসংগতিকে দূর করতে তার আগমন ঘটে। কখনও তার ঝামর কেশের দোলায় গগন দুলে যায় এবং তাঁর অট্টহাস্যে চরাচর স্তব্ধ হয়ে ভয়ংকর রূপের বর্ণনা যায়। দু-চোখে দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা নিয়ে বিশ্বমায়ের আসনকে সে আগলে রাখে। মাভৈঃ মন্ত্রে দীক্ষিত এবং তা সুন্দর কেন হয়ে এই কাল-ভয়ংকর মুমূর্ষুদের প্রাণ ফিরিয়ে দেয় । মহাকালের রথের সারথি হয়ে সে দেবতারূপ বিপ্লবীদের বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসে। কবি এই কাল-ভয়ংকরকে ভয় পেতে বারণ করেছেন। কেন-না এই ধ্বংসের শেষেই সৃষ্টির নতুন দিগন্ত আমাদের সামনে খুলে যাবে। তাই কবি এই ভয়ংকরকে সুন্দর বলেছেন।
৪.৫ ‘দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায়!- পক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। কবিতায় একদিকে ‘দ্বাদশ রবির বহিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়ন কটায়’, অন্যদিকে ‘বিন্দু তাহার নয়নজলে সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে' বলার মধ্য দিয়ে কবির কোন ভাবনা ব্যক্ত হয়েছে আলোচনা করো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে ।
নজরুল চিরকালই বৈপরীত্যের সমন্বয়সাধন করেছেন। একদিকে তাঁর কঠিন বিদ্রোহীসত্তা আর অন্যদিকে শিশুসুলভ সরল কবিমন, পাঠ্য কবিতায় যা লক্ষণীয়। একদিকে তিনি অন্যায়-অবিচারের বিনাশে উদ্যত, অন্যদিকে মাতৃভূমির অপমান, অসম্মানে তাঁর চোখে অব্যক্ত চোখের জল । পরাধীন দেশের পীড়িত মানুষের খারাপ অবস্থায়ই এই কান্নার উৎস, যেমনভাবে সতীর মৃত্যুযন্ত্রণায় বিরহকাতর মহাদেবের এক চোখে বেদনার অশ্রু এবং অন্য চোখে বিনাশের জ্বলা ফুটে উঠেছিল। কবির কল্পনায় রুদ্ররূপী সেই মূর্তিই ফুটে উঠেছে। প্রকৃতিতে বিরোধ চিরসত্য, তাই তো দিনের শেষে রাত্রি আসে। নজরুল ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় চিরকালীন এই বৈপরীত্য খুঁজেছেন। একদিকে ধ্বংসকারী মহাকাল তার ভয়াল চোখের দৃষ্টি দ্বাদশ রবির অগ্নি প্রজ্বলিত করেন, অন্যদিকে বিশ্বমানবের আর্তনাদ তাঁর কপোল তলে চোখের জলের ধারা হয়ে প্রবাহিত হয়। শিবের এই সর্বত্যাগী রূপে যেন ঝড়ের পূর্বের স্থিতাবস্থার প্রতীক। রুদ্রের ক্রোধ ও কোমলতা এই উভয় মূর্তির পরিপূরক সম্পর্ককে ফুটিয়ে তোলাই কবির উদ্দেশ্য। তাই তো অসম্মানিত উদ্ধৃত অংশে প্রকাশিত কবির ভাবনা ।
৪.৬ ‘অন্ধ কারার বন্ধ কূপে’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? সেইসঙ্গে ‘দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যুপে/পাষাণ স্তূপে! বলার কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর আলোচ্য অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অগ্নিবীরা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে ।
বাংলা সাহিত্যে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব নজরুলের। তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠেছে দেশপ্রেম ও বিপ্লবীসত্তা। দেশমাতাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর ব্রত। লেখনীকেই তিনি তাঁর লড়াইয়ের অস্ত্ররূপে বেছে নিয়েছিলেন। শত চেষ্টাতেও শাসক তাঁর কণ্ঠ রোধ করতে পারেনি। বার বার তিনি তাঁর দেশপ্রেমের জন্য কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। "অন্ধ কারার বন্ধ কূপে–কবির বক্তব্য ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতায় উদ্ধৃত পক্তি ‘অন্ধকারার বন্ধ কূপে' শব্দবন্ধ ব্যবহার করে একদিকে কবি বিদেশি শাসকের হাতে শৃঙ্খলিত দেশমাতার প্রতীকরূপে কল্পনা করেছেন, আবার অন্যদিকে দেশমাতার এই শৃঙ্খলমোচন করার জন্য স্বাধীনতাকামী দেশপ্রেমিকদের কারাগারের অন্ধকূপে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণ করার ঘটনাকে চিহ্নিত করেছেন। এক্ষেত্রে প্রতিবাদী কণ্ঠকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে শাসনের যে-ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র সে-কথা বোঝাতেই শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হয়েছে। স্বাধীনতার পূজারি বিপ্লবী কবি নজরুলের কাছে পরাধীন দেশের বিপ্লবীরাই হল প্রকৃত দেবতা। কবি এ কথা তাঁর বহু কবিতায় উল্লেখ “দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যুগে পাষাণ স্তূপে করেছেন। যজ্ঞের যূপকাষ্ঠে বলি প্রদান করে দেবতাকে সন্তুষ্ট করা হয় কিন্তু এখানে স্বয়ং সেই দেবতাই যূপকাষ্ঠে বলিপ্রদত্ত হওয়ার জন্য বাধা পড়েছেন। এক্ষেত্রে দেবতারূপ বিপ্লবীদের পরাধীন যুগে কারাগারের অন্ধকারে নিমজ্জিত করে ফাঁসি দেওয়ার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে কবির বিশ্বাস মহাকালের সারথি তা হতে দেবে না। ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টির বীজ ধ্বংস করে নবরূপে সুন্দরের প্রতিষ্ঠাতেই যেন কবির এই কল্পনা। এখানে উদ্ধৃত অংশে মহাকালের সেই সংহারলীলার কথাই বলা হয়েছে। লুকিয়ে থাকে পুরাতনের ওপরই সঞ্চারিত হয় নতুন প্রাণের। হিন্দু পুরাণ অনুসারে এসব কিছুই ঘটে চলেছে সৃষ্টি-লয়ের দেবতা শিবের ইচ্ছানুসারে। এই চিরসুন্দরের ভেঙে আবার গড়া ধ্বংসের ইঙ্গিত ধ্বংসের পিছনে লুকিয়ে থাকে নতুন সূচনার আলো, নতুন সৃষ্টির ভাঙাগড়ার খেলা যুগযুগ ধরে চলে আসছে। কবি মহাকালের এই খেলাকেই ইঙ্গিত। এইজন্যই কবি চেতনায় জাগ্রত হয়েছে প্রলয়রূপী রুদ্রচণ্ডের ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে' বলে মনে করেছেন।
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
0 Comments