অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর । অভিষেক কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর । অভিষেক কবিতার বিষয়বস্তু । অভিষেক কবিতা ইন্দ্রজিতের চরিত্র ।

 


অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর । অভিষেক কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর । অভিষেক কবিতার বিষয়বস্তু । অভিষেক কবিতা ইন্দ্রজিতের চরিত্র ।


অভিষেক 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

             সূচিপত্র

  • লেখক পরিচিতি
  • বিষয়সংক্ষেপ
  • উৎস
  • নামকরণ
  • বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন
  • অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
  • সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
  • রচনাধর্মী প্রশ্ন

লেখক পরিচিত


মাইকেল মধুসূদন দত্ত উনবিংশ শতাব্দীতে বাঙালির আর বিশিষ্ট নাট্যকার ও কবি ছিলেন । ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ শে জানুয়ারি বাংলাদেশের সাগরদাঁড়ি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন । তার পিতার নাম রাজনারায়ণ তিনি একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন । তার মা জাহ্নবী দেবী । তিনি ছিলেন পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান । পিতা যেহেতু কলকাতার দেওয়ানি আদালতের উকিল ছিলেন তাই মধুসূদন ছোটবেলা থেকেই কলকাতায় বসবাস করত  । মধুসূদনের প্রাথমিক শিক্ষার সূচনা হয় মায়ের হাত ধরে রামায়ণ-মহাভারত পুরাণ প্রভৃতি গ্রন্থের সঙ্গে তার পরিচয় মায়ের সাহায্যে । সাগর দারির কাছেই শেখপুরা মসজিদের ইমাম তার কাছ থেকে তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় । তারপর তিনি কলকাতায় এসেই হিন্দু কলেজে ভর্তি হন ।
মধুসূদন দত্ত একজন বিত্তশালী পরিবারের ছিলেন । হিন্দু কলেজে পড়ার সময় তার মনে বড় কবি হওয়ার এবং ইংল্যান্ডে যাওয়ার বাসনা জাগে ।
কলকাতায় চাকরি চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে মধুসূদন পরিবার-পরিজনের অজ্ঞাতসারে নিজের পাঠ্যপুস্তক বিক্রি করে সেই টাকায় মাদ্রাজে চলে যান । মাদ্রাজে ও বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারেনি । স্থানীয় খৃষ্টান ও ইংরেজ সহায়তায় তিনি কি স্কুলে ইংরেজি শিক্ষককে চাকরি পান । অল্প বেতনে তার ব্যয় সম্ভব হতো না । তাই তিনি ইংরেজি পত্রপত্রিকায় লেখা শুরু করেন মাদ্রাজ ক্রোনিকল পত্রিকায় ছদ্মনামে তার কবিতা প্রকাশিত হতো । হিন্দু ক্রনিকল নামে একটি পত্রিকায় সম্পাদনা করেন তিনি ।
মাদ্রাজে আসার পর পরই তিনি একজন ইংরেজ যুবতীকে বিবাহ করেন ।ৎ কিছুদিন পর তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটলে ফরাসিধা তরুণীকে বিবাহ করেন তিনি মধুসূদনের সারা জীবনের সঙ্গী ছিলেন। ১৯৫৮ রত্নাবলী নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বেলগাছিয়া রঙ্গমঞ্চের কাছে আছেন এবং নাটক দেখে তার অভিব্যক্তি ছিল । সেখান থেকেই তিনি নাট্য রচনা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন বাংলা নাটকে একটি নতুন পথে দিশা দেখান নাটক লিখে তার সাহিত্য জীবনের সূত্রপাত হলেও তিনি মূলত কবি মহাকবি ছিলেন। তার লেখা বিশিষ্ট নাটক গুলি হল শর্মিষ্ঠা ,পদ্মাবতী ,কৃষ্ণকুমারী, মায়াকানন, দুটি প্রহসন ,মেঘনাদবধ কাব্য ইত্যাদি ।
বিদেশ থেকে ব্যারিস্টার পাশ করার পর তিনি দেশে ফিরে ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে অসুস্থ হয়ে মধুসূদন উত্তরপাড়া লাইব্রেরীতে কিছুদিন থাকেন । পরে প্রেসিডেন্সি জেন্টাল হাসপাতালে পাঠানো হয় 26 শে জুন বেনে পুকুরের বাড়িতে কবি পত্নী হেনরি এটার মৃত্যুর ঘটে । তিনদিন পর অর্থাৎ ২৯ শে জুন কবি ও হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ।


উৎস


অভিষেক কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কালজয়ী সৃষ্টি মেঘনাথবধ কাব্যের প্রথম সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে ।


কবিতার বিষয়বস্তু


দেবী লক্ষ্মী ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে মেঘনাদের প্রমোদ উদ্যানে হাজির হতেই মেঘনাদ অবাক হয়ে তাঁর আগমনের কারণ ও লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করেন। ছদ্মবেশী দেবী হতাশার সঙ্গে মেঘনাদের প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ এবং রাবণের যুদ্ধপ্রস্তুতির কথা জানান। রামচন্দ্রের হাতে ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে শুনে মেঘনাদ অবাক হন। কেন-না রামকে যুদ্ধে পরাজিত করে তিনি খণ্ড খণ্ড করে কেটেছিলেন। তাঁর পক্ষে একাজ কী করে সম্ভব! লক্ষ্মীদেবী উত্তরে রামকে মায়াবী মানব বলে অভিহিত করেন এবং ইন্দ্রজিৎকে শীঘ্রই কালসমরে অবতীর্ণ হয়ে লঙ্কাকে রক্ষার আহ্বান জানান । অত্যন্ত ক্রোধের সঙ্গে ফুলের মালা ও অঙ্গ-আভরণকে দূরে সরিয়ে মেঘনাদ নিজেকে ধিক্কার জানান এই বলে যে, শত্রু যখন স্বর্ণলঙ্কার চারদিকে তিনি তখন প্রমোদ উদ্যানে নারীদের মাঝে! ইন্দ্রজিৎ শত্রুকুলকে বধ করে এই অপবাদ ঘোচাবার জন্য দ্রুত যুদ্ধরথ প্রস্তুত করতে বললেন। শ্রেষ্ঠ বীর ইন্দ্রজিৎ রণসাজে সজ্জিত হয়ে কার্তিক ও বৃহন্নলারূপী অর্জুনের মতো শত্রু বিনাশ করতে উদ্যত হলেন। যুদ্ধযাত্রার প্রাক্কালে ইন্দ্রজিৎ-পত্নী প্রমীলা তাঁর করযুগল ধরে প্রমোদ উদ্যান ত্যাগের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন ও তাঁর বিরহজ্বালার কথা জানালেন। ইন্দ্রজিৎ প্রমীলার উদ্দেশে জানালেন যে, ইন্দ্রজিৎকে ভালোবাসার যে দৃঢ় বন্ধনে তিনি আবদ্ধ করেছেন তা কোনোদিন কেউ খুলতে পারবে না। শীঘ্রই যুদ্ধে রামচন্দ্রকে বিনাশ করে তিনি ফিরে আসবেন বলে আশ্বাস দিলেন। বায়ুপথে মেঘনাদের বিশাল রথ মৈনাক পর্বতের মতো সোনার পাখা বিস্তার করে আকাশ উজ্জ্বল করে উড়ে চলল। ধনুকের টংকার গরুড়ের গর্জনের মতো আকাশে বেজে উঠল, লঙ্কার সমুদ্র কেঁপে উঠল। রাবণ যখন যুদ্ধযাত্রায় যাবার জন্য উদ্যত তখনই মেঘনাদ সেই রথ থেকে নামলেন। তাঁকে দেখে সৈন্যদল উল্লাস করে উঠল। ইন্দ্ৰজিৎ পিতাকে প্রণাম করে রামের এই অত্যাশ্চর্য বেঁচে ওঠার কথা জিজ্ঞাসা করলেন এবং অঙ্গীকার করলেন হয় রামকে হত্যা করবেন না-হলে তাঁকে বেঁধে আনবেন। কুমারকে আলিঙ্গন করে রাবণ বলেন একমাত্র মেঘনাদই রাক্ষসকুলের ভরসা। তাই এই কালযুদ্ধে তাঁকে পাঠাতে রাবণের মন চাইছে না। ইন্দ্রজিৎ এ কথার উত্তরে বলেন ইন্দ্রজিতের মতো যোগ্য সন্তান থাকতে রাবণ যদি যুদ্ধে যান তবে ইন্দ্র হাসবেন, অগ্নি রুষ্ট হবেন। দু-বার যেহেতু রামকে পরাজিত করেছিলেন তিনি তাই তৃতীয় বারের জন্যও তিনি তা-ই প্রার্থনা করেন । নানা টালবাহানার পর রাবণ ইন্দ্রজিৎ কে যুদ্ধযাত্রার ছাড়পত্র দেন । কিন্তু তার আগে রাবণ ইন্দ্রজিৎ কে ইষ্ট দেবের পূজা করতে বলে এবং রামের সঙ্গে সকালে যুদ্ধ করার কথা বলেন। এবং সবশেষে রাবণ গঙ্গাজল সহ সব উপাচার নিয়ে মেঘনাথকে লঙ্কার সিংহাসনে অভিষিক্ত করে।


নামকরণ


সাহিত্য হোক কবিতা নাটক উপন্যাস ছোটগল্প প্রায় সব ক্ষেত্রেই নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । নামকরণ অনেকটা বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন । নামকরণের মধ্যে দিয়ে লেখক যেমন পাঠকের মনে আগ্রহের সঞ্চার করেন ঠিক তেমনি তার নিরসন ও করেন আবার বিষয়বস্তু বুঝতেও সাহায্য করে । আমাদের এই পাঠ্যে মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্য প্রথম সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে । কবি প্রত্যেক স্বর্গের মতো এর স্বর্গটির নামকরণ করেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন অভিষেক । পাঠ্য কবিতার নামকরণ মধ্য দিয়ে কবি আমাদের বিচার্য সংকলকদের দেওয়া নামকরণটি কিছু সার্থক হয়েছে ইন্দ্রজিৎ প্রমদ কাননে বিলাস মত্ত , লক্ষ্মী দেবী ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে উপস্থিত হয়ে ইন্দ্রজিৎ কে প্রিয় ভ্রাতার বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ ও শোকাহত রাবনের যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে জানান । পিতার যুদ্ধযাত্রার উদ্যোগ ও লঙ্কার এই ঘোর দুর্দিনের কথা শুনে ইন্দ্রজিৎ প্রমোট কাননের প্রিয়তমা পত্নী প্রমিলার প্রেম বন্ধন ছিন্ন করে লঙ্কায় ফিরে এলেন । পিতাকে নিরস্ত করে তিনি নিজে যুদ্ধযাত্রা করবেন বলে পিতাকে রাজি করালেন । অন্তর থেকে  চাইলেও পুত্রকে রাবণ যুদ্ধযাত্রার অনুমতি দেন এবং বলেন একান্তই যদি সে যুদ্ধ করতে চায় তবে আগে ইস্ট দেবকে পুজো করতে হবে। সূর্য অষ্টগামী হলে গোধূলির বেলায় গঙ্গাজল ও নানান মাঙ্গলিক দ্রব্য নিয়ে মেঘনাদকে রাবণ সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন। যেহেতু মেঘনাথ বা ইন্দ্রজিতের অভিষেক তাই ঘটনা কেন্দ্রিক এই নামকরণ যথার্থ স্বার্থক ।

১. সঠিক উত্তর বেছে নিয়ে লেখ ।


১.১ মেঘনাদবধ কাব্যটি প্রকাশকাল


ক) ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ
খ) ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ
গ) ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দ
গ) ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ


উত্তর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ


১.২ মধুসূদন দত্তের রচিত প্রহসন টি হল


ক)একে কি বলে সভ্যতা
খ) আনন্দবিদায়
গ) চিরকুমার সভা
ঘ)সধবার একাদশী


উত্তর একে কি বলে সভ্যতা


১.৩ কনক আসল ত্যজি বীরেন্দ্র কিশোরী - বীরেন্দ্র কিশোরী হলেন


ক) রাঘব
খ) ইন্দ্রজিৎ
গ) কুম্ভকর্ণ
ঘ) রাবণ


উত্তর ইন্দ্রজিৎ


১.৪ মধুসূদন কোন ছন্দের জনক


ক) পাদাকুলক ছন্দ
খ) অমৃতাক্ষর ছন্দ
গ) মাত্রা বৃত্ত ছন্দ
ঘ) গদ্য ছন্দ


উত্তর অমৃতাক্ষর ছন্দ


১.৫ ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন


ক) দেবী সরস্বতী
খ) দেবী লক্ষ্মী
গ) দেবী চণ্ডী
ঘ) দেবী দুর্গা


উত্তর দেবী লক্ষ্মী


১.৬ অম্বু রাশি সূতা কার মৃত্যু সংবাদ দিয়েছিল


ক) বীরবাহুর
খ) রাবণের
গ) বিভীষণের
ঘ) রাঘবের


উত্তর বীরবাহুর


১.৭ সসৈন্যে সাজেন আজি -- আপনি


ক) মারিতে
খ) খেলিতে
গ) বাঁধিতে
ঘ) যুঝিতে


উত্তর যুঝিতে


১.৮ কোথায় পাইলে তুমি শীঘ্র কহ দাসে


ক) ইন্দ্রজিৎ
খ) লক্ষণ
গ) বিভীষণ
ঘ) রাবণ


উত্তর ইন্দ্রজিৎ


১.৯ পদতলে পড়ি শোভিল কুন্ডল - কোন দল শব্দের অর্থ কি


ক) নুপূর
খ) কন্ঠহার
গ) কর্ণভূষণ
ঘ) কঙ্কন


উত্তর কর্ণভূষণ


১.১০ ------ বেড়ে স্বর্ণলঙ্কা


ক) রাক্ষস দল
খ) বামা দল
গ) বৈরি দল
ঘ)কর্বূর দল


উত্তর বৈরি দল


১.১১ সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ -- রথীন্দ্রর্ষভ শব্দের অর্থ কি


ক) শ্রেষ্ঠ রথী
খ) শ্রেষ্ঠ অসুর
গ) শ্রেষ্ঠ দেবতা
ঘ) শ্রেষ্ঠ বীর


উত্তর শ্রেষ্ঠ রথী


১.১২ হৈমবতীসুত হলেন


ক) কার্তিকেয়
খ) অর্জুন
গ)গরুড়
ঘ) গণেশ


উত্তর কার্তিকেয়


১.১৩ কোথা প্রাণসখে রাখি এ দাসী রে -- এখানে দাসী বলতে বোঝাচ্ছে


ক) প্রমিলাকে
খ) সীতাকে
গ) নিকষাকে
ঘ) চিত্রাঙ্গদা কে


উত্তর প্রমিলাকে


১.১৪ বিদায় এবে দেহ -


ক) শশীমুখী
খ) চাঁদমুখী
গ) জ্যোৎস্নামুখী
ঘ) বিধুমুখী


উত্তর বিধুমুখী

আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা 

জ্ঞানচক্ষু

অসুখী একজন

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি

আফ্রিকা কবিতা

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম

বহুরূপী 

সিরাজদ্দৌলা

অভিষেক

প্রলয়োল্লাস


আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10

Father's Help Lesson 1 Unit 1

Father's Help Lesson 1 Unit 2

Father's Help Lesson 1 Unit 3

The Passing Away of Bapu Unit 1

The Passing Away of Bapu Unit 2

The Passing Away of Bapu Unit 3

Fable Lesson 2



অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্ন


২. কমবেশি কুড়িটি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও ।


২.১ ইন্দ্রজিৎ কে ?


উত্তর ইন্দ্রজিৎ হলেন রাবণ ও মন্দোদরীর সন্তান মেঘনাথ দেবরাজ ইন্দ্রকে জয় করেছিলেন বলে বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎ নাম দিয়েছিল।


২.২ কাকে বীরেন্দ্র কিশোরী বলা হয়েছে ?


উত্তর আলোচ্য অংশটিতে অভিষেক নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত এখানে বীরেন্দ্র কিশোরী বলতে রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ কে বলা হয়েছে ।


২.৩ ইন্দ্রজিৎ ধাত্রীর চরণে প্রণাম করে তাকে কি বলে সম্বোধন করেন ?


উত্তর আলোচ্য অংশটিতে অভিষেক নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত । এখানে ধাত্রী ছদ্মবেশ ধারী লক্ষ্মীর চরণে প্রণাম করে মাতঃ বলে সম্বোধন করেছে ।


২.৪ বীর বাহুকে ?


উত্তর আলোচ্য অংশটিতে অভিষেক নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত ।
লঙ্কেশ্বর রাবণ চিত্রাঙ্গদার পুত্র হলেন বীরবাহু । বাল্মিকীর রামায়ণে বীরবাহুর উল্লেখ না থাকলেও কৃত্তিবাসী রামায়ণে তার উল্লেখ পাওয়া যায় ।


২.৫ হায়! পুত্র কি আর কহিব কনক লঙ্কার দশা বক্তা কনক লঙ্কার দশা বলতে কি বুঝিয়েছেন ?


উত্তর আলোচ্য অংশটিতে অভিষেক নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত । এখানে বক্তা প্রভাষার ছদ্দবেশী অম্বুরাশি সুতা অর্থাৎ লক্ষ্মী দেবী কনক লঙ্কার দশা বলতে বীরবাহুর মৃত্যু এবং সেই কারণে রাবণের যুদ্ধযাত্রার কথা বলা হয়েছে। ।
২.৬ ভগবতীর অপর নাম কি ?


উত্তর আলোচ্য অংশটিতে অভিষেক নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত । ভগবতীর অপর নাম লক্ষী ।


২.৭ ইন্দ্রজিতের প্রিয়ানুজ কে বধ করেছেন ?


উত্তর আলোচ্য অংশটিতে অভিষেক নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত । ইন্দ্রজিতের প্রিয় বৈমাত্রেয় ও ভাই বীরবাহুকে রামচন্দ্র সম্মুখ সমরে বধ করেছিল ।


২.৮ হা ধিক মোরে ! বক্তা কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন?


উত্তর আলোচ্য অংশটিতে অভিষেক নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত । স্বর্ণলঙ্কা যখন শত্রুপক্ষের ঘেরাটোপে প্রিয় ভাই তখন নিহত পিতা যুদ্ধ যাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তখন প্রমোদ কাননে মেয়েদের মাঝে বিলাসিতা শোভন নয় তাই এই আত্মধীক্কার ।


২.৯ ইন্দ্রজিৎ কে রক্ষঃ চূড়ামনি বলার কারণ কী ?


উত্তর আলোচ্য অংশটিতে অভিষেক নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত । রাক্ষসের মধ্যে শিরোমনি । প্রবল শক্তির অধিকারী ইন্দ্রজিৎ রাক্ষসের মধ্যে বীর যোদ্ধা তাই তাকে রক্ষঃ চূড়ামনি বলা হয়েছে ।


২.১০ কাঁপিলা লঙ্কা কাঁপিলা জলধি ! লংকাও জলতি কেঁপে ওঠার কারণ কী?


উত্তর আলোচ্য অংশটিতে অভিষেক নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত । প্রভাষার মুখে লঙ্কার দুঃসংবাদ শুনে প্রমোদ উদ্যান থেকে যুদ্ধযাত্রা কালে রথে চেপে আকাশ পথে ধাবমান মেঘনাথ ধনুকের ছিলায় যে টংকার দিয়েছিলেন তাতে এমন অবস্থা হয়েছিল ।


২.১১ হৈমবতীসুত কী করেছিলেন ?


উত্তর দেবালুকে ত্রাস সঞ্চয়কারী মহাবলশালী তারকা সুরকে বধ করে হৈমবতীসুত অর্থাৎ কার্তিকেয় সর্ব রাজ্য নিষ্কণ্টক করেছিল ।


২.১২ অর্জুনকে কিরীটি বলার কারন কী?


উত্তর পান্ডুর শ্রেষ্ঠ অর্জুন দেবরাজ ইন্দ্রের দেওয়া কিরীট অর্থাৎ মুকুট মাথায় পড়ে ছিল বলে অর্জুনকে কিরীটি বলা হয় ।


২.১৩ হেনকালে প্রমীলা সুন্দরী - প্রমিলা কে ?


উত্তর প্রমিলা হলেন রক্ষকুল বধূ ইন্দ্রজিৎ মেদনাদের পত্নী ও এবং অসাধারণ শক্তিময়ী নারী। ।


২.১৪ কে কবে শুনেছে পুত্র ভাসে শিলা জলে বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী ?


উত্তর অভিষেক কবিতায় রাবণ ইন্দ্রজিৎ কে বলেছেন শিলাজলে ভাষা কিংবা মৃত মানুষের পুনরায় বেঁচে ওঠার মত ঘটনা কেউ কোনদিন না শুনলেও রাম লক্ষণ এর ক্ষেত্রে এমন কল্পনাতীত ঘটনা ঘটেছে । অর্থাৎ রামচন্দ্রের মৃত্যুর পর পুনর্জীবন লাভ প্রসঙ্গে বক্তার এ বক্তব্য ।


সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন

কমবেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখ ।


৩.১ ‘রক্ষ রক্ষঃকুল মান, এ কালসমরে, রক্ষঃ-চূড়ামণি ! —বক্তা ‘রক্ষঃ-চূড়ামণি' বলে কাকে সম্বোধন করেছেন? ‘কালসমর বলতে কী বোঝ?


উত্তর  বক্তা ইন্দিরা সুন্দরী অর্থাৎ লক্ষ্মী দেবী ‘রক্ষঃ-চূড়ামণি' বলে ‘রক্ষাঃ-চূড়ামণি’ ইন্দ্রজিৎকে সম্বোধন করেছেন।
‘কালসমর’ বলতে বোঝায় কাল রূপ সমর বা ভয়ংকর যুদ্ধ। এক্ষেত্রে রামচন্দ্রের সঙ্গে রাক্ষসদের ভয়ংকর প্রাণঘাতী যুদ্ধকে বোঝানো হয়েছে। ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মী প্রমোদকাননে ইন্দ্রজিতের
কালসমর সামনে যখন হতাশার সুরে বীরবাহুর মৃত্যু, রাবণের যুদ্ধযাত্রার কথা বলছিলেন তখন তা তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না। দেবী মায়াবী মানব রামচন্দ্রের জেগে ওঠা ও তাঁর দৈবী শক্তির পরিচয় দিতে শব্দটি
ব্যবহার করেছেন ।


৩.২ বৃহন্নলারূপী কিরীটি কে? তাঁর কোন্ কীর্তির কথা পাঠে উল্লিখিত হয়েছে?


উত্তর মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশে বৃহন্নলারূপী কিরীটি হলেন  তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন।অজ্ঞাত বাসকালে, বিরাট রাজার কন্যা উত্তরার
নৃত্যগীত শিক্ষিকারূপে নিযুক্ত অর্জুন বৃহন্নলাবেশ ধারণ করেন। অর্জুন যখন বৃহন্নলার ছদ্মবেশে বিরাট রাজার প্রাসাদে ছিলেন, সেসময় কীর্তির পরিচয় দুর্যোধন বিরাট রাজাকে পরাস্ত করে তাঁর সমস্ত গোধন হরণ করেন। তখন অর্জুন রাজপুত্র উত্তরের সারথিরূপে কৌরবদের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিরাট রাজাকে বিপদ থেকেমুক্ত করেন। তাঁর সেই গোধন উদ্ধারের কীর্তির কথাই পাঠে উল্লিখিত হয়েছে।


৩.৩ ইন্দিরা সুন্দরীর বার্তা পেয়ে ইন্দ্রজিৎ কী কী করেছিল?


উত্তর  মাইকেল মধুসূদন রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর ‘অভিষেক’ নামাঙ্কিত পাঠ্য কাব্যাংশে ইন্দিরা সুন্দরীর বার্তা পেয়ে ইন্দ্ৰজিৎ প্রচণ্ড ক্রোধে কুসুমদাম অর্থাৎ ফুলমালা ছুড়ে ফেললেন এবং সোনার অলংকার দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। অশোক ফুল গাছের তলায় যেমন আভাময় হয়ে পড়ে থাকে, ঠিক তেমনই ইন্দ্রজিতের সেইসব সোনার অলংকার সোনালি আভা ছড়িয়ে মাটিতে পড়ে রইল।


৩.৪ ‘ধিক মোরে–কে, কেন এ কথা বলেছেন ?


উত্তর উদ্ধৃত অংশটির বক্তা মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য' থেকে গৃহীত ‘অভিষেক’ নামক কাব্যাংশের অন্যতম চরিত্র ইন্দ্রজিতের। মেঘনাদ প্রমোদকাননে বিলাসব্যসনে মত্ত থাকার সময় প্রভাষার ছদ্মবেশে লক্ষ্মী এসে ইন্দ্রজিৎকে তার প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু এবং শোকস্তব্ধ রাবণের শত্রু রাঘব নিধনে ব্রতী হওয়ার কথা জানায়। লঙ্কার এই দুর্দিনে ইন্দ্রজিৎ প্রমোদকাননে মেয়েদের মাঝে থেকে রাজধর্ম পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে তাঁর এই আত্মধিক্কার।


৩.৫ ‘হায়, বিধি বাম মম প্রতি।-বক্তা কে? তিনি এমন
কথা বলেছেন কেন ?


উত্তর  উদ্ধৃতাংশটি মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক' নামক পদ্যাংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে বক্তা স্বয়ং রাবণ।
বীরবাহুর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ক্রুদ্ধ ইন্দ্রজিৎ লঙ্কায় উপস্থিত হয়ে রাবণের কাছে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। একবার পুত্রশোক পাওয়ার পর রামের বিরুদ্ধে এই ভয়ানক যুদ্ধে আর-এক প্রিয় পুত্রকে পাঠাতে চান না রাবণ। কিন্তু ভাগ্য তাঁর প্রতি এতটাই বিরূপ যে, শেষপর্যন্ত রক্ষকুলশেখর ইন্দ্রজিৎকেও যুদ্ধে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।


৩.৬ এই কি সাজে আমারে'-কার উক্তি? এমন উক্তি কেন করা হয়েছে?


উত্তর মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা ইন্দ্রজিৎ।
প্রশ্নোদ্ভূত উক্তির কারণ ইন্দ্ৰজিৎ প্রমোদকাননে বামাদল মাঝে বিলাসব্যসনে মত্ত। এমন সময় প্রভাষা-রূপী লক্ষ্মী এসে জানান যুদ্ধে রামের হাতে বীরবাহু মৃত। এই পরিস্থিতিতে স্বয়ং রক্ষোরাজ রাবণ যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লঙ্কার এমন দুর্দশায় বীরধর্ম পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ইন্দ্রজিৎ লজ্জা ও ঘৃণায় আত্মধিক্কার দেন। তখন ক্রোধে ‘কুসুমদাম’, ‘কনকবলয়’ ছুড়ে ফেলে যুদ্ধযাত্রার উদ্দেশ্যে অধীর হয়ে উঠে, তিনি প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছিলেন।


৩.৭ ‘সসৈন্যে সাজেন আজি যুঝিতে আপনি।— কার সেনাদল সেজে উঠেছে? কী কারণে সেনাদল সেজে উঠেছে?


উত্তর মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক ’ কবিতা অনুসারে রক্ষোকুলপতি রাবণের নির্দেশে রাক্ষস সৈন্যদল সেজে উঠেছে।
প্রমোদকাননে ইন্দ্রজিতের কাছে প্রভাষা-রূপী লক্ষ্মী স্বর্ণলঙ্কার ঘোর দুরবস্থায় সংবাদ নিয়ে উপস্থিত হন। রামের সঙ্গে যুদ্ধে ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহু নিহত। তাই লঙ্কাপুরী আজ বীরশূন্য। পুত্রের মৃত্যুসংবাদে শোকে-দুঃখে কাতর রাবণ বাধ্যত যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতিতে মগ্ন। তাঁরই নির্দেশে রাক্ষস সেনাদলের সেজে ওঠার কারণ সৈন্যদল রণসাজে সজ্জিত হচ্ছে।


৩.৮  জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া; কাকে ‘মহাবাহু’ বলা হয়েছে? তার বিস্ময়ের কারণ কী?


উত্তর  মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটিতে ‘মহাবাহু’ বলতে রাক্ষস বংশের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা ইন্দ্রজিতের কথা বলা হয়েছে।
স্বর্ণলঙ্কার ঘোর দুর্দিনের সংবাদ নিয়ে প্রভাষা-রূপী লক্ষ্মী, প্রমোদকাননে এসে উপস্থিত হন। সেখানে উপস্থিত ইন্দ্রজিৎকে তিনি জানান, ভয়াবহ যুদ্ধে তাঁর প্রিয় ভাই বীরবাহু নিহত হয়েছেন এবং পুত্রশোকে স্তব্ধ রক্ষোপতি রাবণ সসৈন্যে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লঙ্কাপুরী এখন বীরশূন্য। ভাইয়ের মৃত্যু ও পিতার যুদ্ধযাত্রার কথা শুনে, এ সমস্ত ঘটনাক্রম সম্পর্কে অনবগত ইন্দ্ৰজিৎ বিস্মিত হয়েছিলেন।

রচনাধর্মী প্রশ্ন

কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে উত্তর লেখ ।

৪.১ পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে ইন্দ্রজিতের চরিত্র আলোচনা করো।
‘অথবা, ‘অভিষেক করিলা কুমারে-পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে ‘কুমার'-এর চরিত্রবিশ্লেষণ করো।


উত্তর  আলোচ্য অংশটিও মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা অভিষেক কবিতার অংশ। উপরিক্ত মন্তব্যের দ্বারা লেখক পাঠ্য কবিতায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন সেটি হল ।
আমাদের পাঠ্য কাব্যাংশ ‘অভিষেক’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্র ইন্দ্রজিৎ। পাঠ্যাংশের স্বল্প পরিসরে তাঁর চরিত্রের বেশ কিছু দিক ফুটে ওঠে।
বীর ইন্দ্রজিৎ নিজের বাহুবলের ওপর যথেষ্ট বিশ্বাসী। বীরবাহুর মৃত্যু ও পিতার যুদ্ধযাত্রার কথা শুনে তাঁর বীরসত্তা জেগে ওঠে। বীরোচিত সাজসজ্জা করে তিনি লঙ্কার উদ্দেশে রওনা দেন ।
ইন্দ্রজিৎ আগে দু-বার রামচন্দ্রকে পরাজিত করেছেন, এমনকি তাঁকে নিহতও করেছেন। তবু কোনো এক মায়া বলে আবার জীবন ফিরে পেয়েছেন রাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি যখন রামচন্দ্রকে বন্দি করে রাবণের পায়ের তলায় নিয়ে আসার কথা বলেন, তখন তাঁর মধ্যে আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তা লক্ষ করা যায়।
প্রমোদকাননে বিলাসে মত্ত থাকাকালীন প্রভাষা-রূপী লক্ষ্মীর কাছে লঙ্কার দুর্দিন এবং পিতার যুদ্ধযাত্রার কথা শোনামাত্রই ইন্দ্রজিৎ লঙ্কায় হাজির হয় । যোগ্য সন্তান থাকা সত্ত্বেও পিতার যুদ্ধযাত্রাকে তিনি নিজের কলঙ্ক বলেই মনে করেন।
স্বর্ণলঙ্কা শত্রুসেনা দ্বারা আক্রান্ত অথচ তিনি প্রমোদকাননে বিলাসে মত্ত এ কথা জেনে ইন্দ্রজিৎ নিজেকে ধিক্কার দেন। এর থেকে তাঁর দেশপ্রেমের যেমন পরিচয় পাওয়া যায়, তেমনই বোঝা যায় আত্মপ্রত্যয়ী প্রয়োজনে নিজের সমালোচনা করতেও তিনি পিছু পা হয় না ।
স্ত্রী প্রমীলার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তাকে বিশ্বস্ত করে ইন্দ্রজিৎ বলেন ভালোবাসার যে, দৃঢ় বন্ধনে তাঁরা আবদ্ধ তা কখনো বিচ্ছিন্ন হতে পারে না ।  তাঁর পত্নীপ্রেমেরই পরিচয়। এভাবেই মহাকাব্যের খলনায়ক মধুসূদনের লিখনকৌশলে হয়ে উঠেছে কবির পছন্দের নায়ক।

৪.২ প্রমীলা কে? ইন্দ্রজিতের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো ।


উত্তর আলোচ্য অংশটিও মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা অভিষেক কবিতার অংশ। উপরিক্ত মন্তব্যের দ্বারা লেখক পাঠ্য কবিতায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন সেটি হল ।
পাঠ্য 'অভিষেক' নামাঙ্কিত কাব্যাংশে মধুসূদন ইন্দ্রজিতের প্রমীলার পরিচয় স্ত্রী হিসেবে প্রমীলাকে উপস্থিত করেছেন। বাল্মীকি রামায়ণে না-থাকলেও আমরা কৃত্তিবাসী রামায়ণে তাকে পাই। এখানে প্রমীলা কবির নিজস্ব পরিকল্পনা। প্রমোদ উদ্যানে বিলাসে মত্ত থাকাকালীন প্রভাষা-রূপী ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মী মুখে রাঘবের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু ও শোকাহত রাবণের যুদ্ধযাত্রার কথা শুনে ক্রুদ্ধ ইন্দ্ৰজিৎ নিজেকে ধিক্কার জানিয়ে রণসাজে সজ্জিত হয়ে যখন বীরদর্পে যুদ্ধে গমন করছিলেন, তখন প্রমীলার দেখা পাওয়া যায় ।
তিনি তখন স্বামীর দুটি পা ধরে কেঁদে জানতে চান, ইন্দ্ৰজিৎ তাঁকে রেখে আজ কোথায় চলেছেন? স্বামীর বিরহে কীভাবে তিনি দিনপাত করবেন? এ প্রসঙ্গে প্রমীলার বক্তব্য গভীর জঙ্গলে হাতির দল বনলতার আকর্ষণ ছিন্ন করলেও, দলপতি ইন্দ্রজিৎ ও প্রমীলার কথোপকথন তাকে পদতলে স্থান দেয়। তিনিও এটুকুই চান। আজ কেন ইন্দ্ৰজিৎ এই সেবিকাকে ত্যাগ করে যাচ্ছেন? স্বামী-স্ত্রীর চিরন্তন বন্ধনের কথা মনে করিয়ে ইন্দ্রজিৎ যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসার কথা স্বীকার করেন । কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রমীলাই তো ইন্দ্রজিতের কল্যাণী। তাঁর মঙ্গল কামনার জোরে এই যুদ্ধে ইন্দ্রজিৎ রাঘবকে অনায়াসে নাশ করতে পারবেন। প্রমোদকানন থেকে লঙ্কায় যাত্রাকালে ইন্দ্রজিৎ এভাবেই প্রমীলার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।


৪.৩ ‘নমি পুত্র পিতার চরণে, করজোড়ে কহিলা;'—পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও। পাঠ্যাংশ অবলম্বনে পিতা ও পুত্রের কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো ।


উত্তর  আলোচ্য অংশটিও মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা অভিষেক কবিতার অংশ। উপরিক্ত মন্তব্যের দ্বারা লেখক পাঠ্য কবিতায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন সেটি হল ।
এই অংশটিতে পিতা হলেন লঙ্কাধিপতি রাবণ এবং পুত্র হল রাবণপুত্র ইন্দ্ৰজিৎ ।
পিতা রাবণকে প্রণাম জানিয়ে ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চান। তাঁর হাতে নিশারণে নিহত রাম পুনর্জীবন লাভ করেছেন শুনে, রামের মায়া না-বুঝলেও; তিনি রাঘবকে বায়ু অস্ত্রে ভস্ম করার কিংবা রাজপদে বেঁধে
পিতা-পুত্রের আনার সংকল্প করেন। পুত্রের কথায় পুত্রবৎসল এক পিতার হৃদয়ের প্রকৃত স্বরূপটি ফুটে ওঠে। কথোপকথন সেখানে ধ্বনিত হয় স্নেহ-হাহাকার ও অসহায়তা। রক্ষোকুলের শ্রেষ্ঠ সম্পদটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে তাঁর মন চায় না। তিনি রত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী উত্তরিলা।

৪.৪ 'ইন্দিরা সুন্দরী' কে? তাঁর উত্তরটি কী ছিল? উত্তরে মেঘনাদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?


উত্তর আলোচ্য অংশটিও মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা অভিষেক কবিতার অংশ। উপরিক্ত মন্তব্যের দ্বারা লেখক পাঠ্য কবিতায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন সেটি হল ।
আমাদের পাঠ্য ‘অভিষেক' নামক কাব্যাংশে ইন্দিরা
সুন্দরী' বলতে বিষ্ণুপত্নী লক্ষ্মীদেবীকে বোঝানো
ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে দেবী লক্ষ্মীর মুখে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে ইন্দ্রজিৎ অবাক হয়েছিলেন, কারণ তার দ্বারা পরাস্ত ও নিহত রামের হাতে বক্তার বীরবাহুর কীভাবে মৃত্যু হতে পারে! ইন্দ্রজিতের কাছে এই বার্তা অদ্ভুত বলে মনে হয়েছে এবং বার্তার উৎস জানতে চাইলে লক্ষ্মীদেবী সীতাপতি রাঘবকে মায়াবী মানব বলে অভিহিত করেন ও ইন্দ্রজিৎকে এই কালসমরে লঙ্কাকে রক্ষার আহ্বান জানান ।
ইন্দিরা সুন্দরীর মুখে ইন্দ্ৰজিৎ মায়াবী মানব সীতাপতির পুনরুজ্জীবনের কথা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। তিনি গলার ফুলের মালা ছিঁড়ে, হাতের সোনার বালা ও কানের অলংকার সমস্ত ছুঁড়ে ফেললেন। অশোক গাছের তলায় অশোক ফুল যেভাবে পড়ে থাকে সেভাবেই মেঘনাদের প্রতিক্রিয়া ইন্দ্রজিতের সমস্ত অলংকার তাঁর পদতলে শোভা পাচ্ছিল। তীব্র আত্মধিক্কারে তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন—যখন শত্রুদল স্বর্ণলঙ্কা ঘিরে ফেলেছে তখন তাঁর মতো বীরের পক্ষে কি নারীদের মাঝে বিলাসমত্ত থাকা শোভা পায়? তীব্র ক্রোধ ও আত্মগ্লানির বশবর্তী হয়ে ইন্দ্রজিৎ অনুচরদের যুদ্ধযাত্রার জন্য রথ প্রস্তুত করতে বলেন এবং শত্রুপক্ষকে বধ করে অপবাদ ঘোচানোর অঙ্গীকার করেন। চান না স্বর্ণলঙ্কার শেষ কুলপ্রদীপটি নির্বাপিত হোক। কারণ স্বয়ং বিধাতাও রাবণের প্রতি বিরূপ না হলে শিলা যেমন জলে ভাসে না, তেমনই মৃত কখনও পুনর্জীবন পায় না। অথচ এক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। কিন্তু পৌরুষ ও সৎসাহসে উদ্দীপ্ত ইন্দ্রজিৎ অগ্নিদেবকে রুষ্ট করতে কিংবা পরাজিত ইন্দ্রদেবের। হাসির পাত্র হতে পারেন না। তাই তিনি দ্বিতীয়বার রাঘবকে পরাজিত করার জন্য পিতার আজ্ঞা চান। রাবণের অন্তর ক্ষতবিক্ষত মানসিক টানাপোড়েনে তিনি আকুল-অস্থির। তাঁর দৃষ্টির সামনে ভূপতিত পর্বতসম কুম্ভকর্ণ। তিনি প্রাণাধিক প্রিয় 'বীরমণি'-কে প্রথমে ইষ্টদেবের পূজা ও তারপর নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করে পরদিন সকালে যুদ্ধযাত্রা করতে বলেন। কিন্তু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব প্রশমিত করে যথাবিধি মেনে সেনাপতি পদে ইন্দ্রজিতের অভিষেক ঘটান। এখানে এক ভাগ্যবিড়ম্বিত-শোকাহত ও নিঃসঙ্গ পিতার পাশে, সাহস-অহংকার আর বীরধর্মে উজ্জীবিত পুত্রের আশ্চর্য ছবি তুলে ধরেছেন কবি মধুসূদন । 


আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা 

জ্ঞানচক্ষু

অসুখী একজন

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি

আফ্রিকা কবিতা

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম

বহুরূপী 

সিরাজদ্দৌলা

অভিষেক

প্রলয়োল্লাস


আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10

Father's Help Lesson 1 Unit 1

Father's Help Lesson 1 Unit 2

Father's Help Lesson 1 Unit 3

The Passing Away of Bapu Unit 1

The Passing Away of Bapu Unit 2

The Passing Away of Bapu Unit 3

Fable Lesson 2


Post a Comment

0 Comments