সূচিপত্র
- লেখক পরিচিতি
- উৎস
- গল্পের বিষয়বস্তু
- নামকরণ
- সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)
- অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- রচনাধর্মী প্রশ্ন
জ্ঞানচক্ষু
আশাপূর্ণা দেবী
কলকাতার পটল ডাঙায় মামাবাড়িতে ২৪ পৌষ, ১৩১৫ (ইং ৮ জানুয়ারি, ১৯০৯) শুক্রবার আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম হয়। বৃন্দাবন বসু লেনে তার ছোটবেলা কেটেছিল একান্নবর্তী পরিবার থেকে । সেই সময় মেয়েদের বাড়ির বাইরে বিদ্যালয় গিয়ে পাঠ গ্রহণ নিষেধ ছিল ।পরিবারের ছেলেদের জন্যই কেবল গৃহশিক্ষক নিযুক্ত ছিলেন। আশাপূর্ণার পিতা হরেন্দ্রনাথ গুপ্ত সেই সময়কার একজন বিখ্যাত শিল্পী ছিলেন এবং তিনি নকশা একটি আসবাবপত্রের সংস্থায় কাজ করতেন। আশাপূর্ণার মা সরলা সুন্দরী একজন শিক্ষিত নারী ছিলেন । থাকার জায়গা খুবই ছোট থাকার কারণে হরেন্দ্রনাথ নিজের পরিবার নিয়ে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোডের একটি বাড়িতে চলে আসেন। সরলা সুন্দরী সেখানে নিজের ইচ্ছেমতো তাঁর মেয়েদের পড়াশোনা করানোর স্বাধীনতা লাভ করেন। তাই প্রথাগত শিক্ষা না থাকা সত্ত্বেও আশাপূর্ণা ছিলেন স্বশিক্ষিত। তাঁর প্রথম রচনা একটি কবিতা এবং ১৩২৯ বঙ্গাব্দে ‘শিশুসাথী' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর আর তাঁকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথম সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলেন একটি কবিতা প্রতিযোগিতায় মাত
উৎস
আশাপূর্ণা দেবীর রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পটি 'কুমকুম' গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ।
বিষয়বস্তু
লেখিকা তার জ্ঞানচক্ষু গল্পের মাধ্যমে শিশু মনের সরলতা তুলে ধরেছেন। তপন আর-পাঁচটা শিশুর মতোই গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে। সে ভাবতো যে লেখকরা নাকি ভিনগ্রহের মানুষ হয় । তার কাছে এটা অজানা ছিল যে লেখকরাও আর-পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই হয় । কিন্তু তার ছোটোমাসির বিয়ের পর তপন যখন জানতে পারে তার নতুন মেসোমশাই একজন সত্যিকারের লেখক, তখন তার স্বপ্নের লেখক ক্রমশ বাস্তবে নেমে আসে। জলজ্যান্ত লেখককে সামনাসামনি দেখে এই প্রথম তপন বুঝতে পারে লেখকরা আসলে তার বাবা, কাকা, মামাদের মতোই সাধারণ মানুষ হতে পারে তারপর তার জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়। তারপর গরমের ছুটিতে তপন মামাবাড়িতে কয়েকদিন থাকতে যায় । ওদিকে একই কারণে অধ্যাপক মেসোমশাইও শ্বশুরবাড়িতে আসেন। তাই জলজ্যান্ত লেখককে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় তপনের আর তা থেকেই তার মনে লেখক হওয়ার ইচ্ছে জাগে। দুপুরে সবার দিবানিদ্রার সুযোগে তিনতলার সিঁড়িতে সে তার হোমটাস্কের খাতায় আস্ত একটা গল্প লিখে ফেলে। তারপর নিজেই তা পড়ে অবাক হয়ে ওঠে। উপর থেকে নেমে তার কাছের মানুষ ছোটোমাসিকে তা দেখায়। ছোটোমাসি হইচই শুরু করে এবং ছোটো মেসোমশাইকে সেটা দেখায়। মাসির অনুরোধে আর নতুন শ্বশুরবাড়ির সকলের মন রাখতে মেসোমশাই তপনের গল্পের প্রশংসা ও করেন এবং সামান্য কারেকশানে যে তা ছাপানো যেতে পারে সেকথাও বলেন। মাসি তখন 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় গল্পটি ছাপানোর ব্যবস্থা করবেন বলে কথা দেন।
ইতিমধ্যে তপন মামার বাড়ি থেকে ফিরে আসে। বাড়ির সকলে তাকে কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী বলে ঠাট্টাতামাশা করেন। একদিন সন্ধ্যায় মাসি-মেসো 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকা-সহ হাজির। সেটা দেখে তখন চমকে ওঠে তার মনে হয় পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে! 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকার সূচিপত্রে তার নাম দেখে সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়। এত আনন্দের মাঝেও কোনো এক কোনো অজানা কারণে তপনের মন খারাপ হয়ে যায় কারণ তার মা তাকে গল্পটা পড়তে বলেন। লজ্জা ভেঙে পড়ে তপন তারপর সে গড়গড়িয়ে পড়ে চলে নিজেরই লেখা অজানা সব লাইন। পড়ার পরে তপনের চোখে জল আসে। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে যে কোনোদিন কাউকে লেখা ছাপাতে দেবে না। নিজের লেখা সে নিজের হাতেই দিয়ে আসবে পত্রিকার দপ্তরে। তার কাঁচা হাতের লেখা যদি সুপারিশের অভাবে ছাপা না হয় তাতেও তার দুঃখ থাকবে না। আসলে 'একটু-আধটু কারেকশন'-এর নাম করে ছোটোমেসো তার লেখার আগাগোড়াই বদলে দিয়েছেন। সে লেখার কোথাও তপনের লেখার ভূমিকা নেই। সেটা দেখার পর তপনের যে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেছে ।
নামকরণ
সাহিত্যে নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নামকরণের সাহায্যে ভেবে লেখকরা যেমন পাঠকের মনে আগ্রহ সঞ্চার করেন, ঠিক একই ভাবে লিখিত বিষয়টি কি তা অনুধাবন করতে তাদের সাহায্য করেন। একজন লেখক তাঁর বক্তব্যকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নামকরণের সময় কতকগুলি পথ অবলম্বন করেন। তা চরিতার্থ করার জন্য তিনি কখনও চরিত্রকে, কখনও ঘটনাকে, কখনও বা বিশেষ কোনো ব্যঞ্জনা কে আশ্রয় করেন। 'জ্ঞান চক্ষু' গল্পের নামকরণ কতটা সফল তা আমাদের দেখার বিষয়। গল্পের কাহিনির দিকে তাকালে আমরা প্রথমে দেখি তপন নামে একটি ছোট্ট ছেলের লেখকদের সম্পর্কে কৌতূহল। লেখক মানে যে ভিন গ্রহ থেকে আসা কোনো জীব নয়, এ ব্যাপারে তপনের জ্ঞানচক্ষুর উন্মেষ ঘটে তার নুতন মেসো মশাইকে দেখে। খুব কাছ থেকে মেসো মশাইকে দেখে তপনের মনে লেখক হওয়ার আগ্রহ জাগে। উৎসাহের বশে সে একটা গল্পও লিখে ফেলে, যা তার মাসির হাত ঘুরে মেসোর কাছে পৌঁছায়। নতুন আত্মীয়দের মান রাখার জন্য তিনি বলেন তপনের গল্পে সামান্য কারেকশন করে ছাপানো যায়। শেষমেশ তিনি তা 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে ও দেন। কিন্তু সমস্যা বাধে যখন ছোট্ট
তপন বাড়ি শুদ্ধ লোকের কাছে তার ছাপানো গল্প পড়তে যায়। সে দেখে গল্পের নাম আর লেখকের নাম ছাড়া সব কিছুই তার কাছে নতুন-তাই তার চোখ জল চলে আসে আর এর থেকেই তার 'জ্ঞানচক্ষু' উন্মেষ হয়। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে যে, তার নিজের হাতে লেখা কোনো কিছু ছাপাতে দিলে, তা যতই কাঁচা হোক না কেন নিজের হাতেই দেবে। তপনের এই অন্তর্দৃষ্টির উন্মেষকে লেখক 'জ্ঞানচক্ষু' এই ব্যঞ্জনাধর্মী নামকরণের সাহায্যে যথার্থ স্বার্থক ।
১. বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)
সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:
১.১ জ্ঞানচক্ষু গল্পের রচয়িতা -
ক) মহাশ্বেতা দেবী
খ) অনিমা দেবী
গ) আশাপূর্ণা দেবী
ঘ) লীলা মজুমদার
উত্তর মহাশ্বেতা দেবী ।
১.২ 'কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল' । কথাটা হল -
ক) তপনের মামা একজন লেখক
খ) তপনের লেখা ছাপা হয়েছে
গ) তপনের মেসো একজন লেখক
ঘ) সবাই তপনের গল্প শুনে হেসেছে
উত্তর তপনের মেসো একজন লেখক
১.৩ 'চোখ মার্বেল হয়ে যাওয়া' - এর অর্থ হল -
ক) চোখ পাকানো
খ) চোখ গোল গোল হয়ে যাওয়া
গ) অবাক হয়ে যাওয়া
ঘ) রেগে যাওয়া
উত্তর অবাক হয়ে যাওয়া
১.৪ তপনের নতুন মেসোমশাই ছিলেন একজন -
ক) অভিনেতা
খ) চিত্র পরিচালক
গ) খেলোয়াড়
ঘ) লেখক
উত্তর লেখক
১.৫ তপনের লেখক মেসোমশাই হলেন তার -
ক) বড়োমাসির স্বামী
খ) মেজোমাসির স্বামী
গ) সেজোমাসির স্বামী
ঘ) ছোটোমাসির স্বামী
উত্তর ছোটোমাসির স্বামী
১.৬ অনেক বই ছাপা হয়েছে -
ক) তপনের
খ) নতুন মেসোমশাইয়ের
গ) ছোটো মাসির
ঘ) মেজো কাকুর
উত্তর নতুন মেসো মশাইয়ের
১.৭ তাই মেসো শ্বশুরবাড়িতে এসে রয়েছেন ক'দিন'। মেসোর শ্বশুর বাড়িতে এসে থাকার কারণ-
(ক) তাঁর গরমের ছুটি চলছিল
(খ) তাঁর সেখানে কাজ ছিল
(গ) তিনি নিরিবিলিতে গল্প লিখতে চেয়েছিলেন
(ঘ) তপন তাঁকে থাকতে অনুরোধ করেছিল
উত্তর তাঁর গরমের ছুটি চলছিল ।
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
১.৮ তপনের লেখা গল্প ছোটোমেসোর হাতে পৌঁছে দেয়-
(ক) তপন নিজেই
(খ) তপনের মা
(গ) তপনের ছোটোমামা
(ঘ) তপনের ছোটোমাসি
উত্তর তপনের ছোটোমাসি
১.৯ 'রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই'। এখানে রত্ন ও জহুরি হল-
(ক) তপন ও ছোটোমাসি
(খ) তপন ও ছোটোমেসো
(গ) তপন ও 'সন্ধ্যাতারা'-র সম্পাদক
(ঘ) তপন ও মেজোকাকু
উত্তর তপন ও ছোটোমেসো
১.১০ যে পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপিয়ে দেওয়ার কথা হয়েছিল, সেই পত্রিকার নাম-
(ক) শুকতারা
(খ) নক্ষত্র
(গ) ধ্রুবতারা
(ঘ) সন্ধ্যাতারা
উত্তর সন্ধ্যাতারা
১.১০ 'গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের'। তপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল-
(ক) অন্ধকারে কাউকে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে
(খ) নিজের লেখা গল্প পড়ে
(গ) ছাপার হরফে নিজের লেখা পড়ে
(ঘ) নিঝুম দুপুরে একলা ঘরে ভুতের গল্প পড়ে
উত্তর নিজের লেখা গল্প পড়ে
১.১১ মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল-
(ক) ছোটোমাসির
(খ) ছোটোমেসোর
(গ) তপনের
(ঘ) তপনের মায়ের
উত্তর তপনের
১.১২ তপনের চিরকালের বন্ধু-
(ক) মা
(খ) বাবা
(গ) ছোটোমাসি
(ঘ) ছোটোমামা
উত্তর ছোট মাসি
২. অতিসংক্ষিপ্ত কমবেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও মান ১
প্রশ্ন ২.১ 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পটি কার লেখা? এর উৎস উল্লেখ করো।
উত্তর আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পটির উৎস হল তাঁর 'কুমকুম' নামক ছোটোদের গল্পসংকলন।
প্রশ্ন ২.২ 'কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল!'-কোন্ কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল তপন এতদিন জানতো লেখকরা ভিন্ন জগতের প্রাণী-এটাই ছিল তপনের ধারণা। কিন্তু তার নতুন মেসোমশাই একজন লেখক শুনে বিস্ময়ে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।
প্রশ্ন ২.৩ 'তিনি নাকি বই লেখেন।'-কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । তপনের ধারণা ছিল লেখকরা ভিন গ্রহের প্রাণী কিন্তু ছোটোমাসির বিয়ের পর সে জানতে পারে, তার নতুন মেসোমশাই একজন লেখক। এখানে তার ছোট মেসোমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে ।
প্রশ্ন ২.৪ 'এবিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।'-কোন্ বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । লেখকদের যে বাস্তব জীবনে কখনও দেখা যেতে পারে, তাঁরাও যে তপনের বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকার মতোই সাধারণ মানুষ- সে বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল।
৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন কমবেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে
প্রতিটি প্রশ্নের মান ৩
৩.১ প্রশ্ন তপনের বাবা-কাকা-মামাদের সঙ্গে লেখক মেসোমশাইয়ের কী কী মিল আছে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি জ্ঞানচক্ষু গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে মহাশ্বেতা দেবীর লেখা। ওপরের মন্তব্যে ব্যাখ্যা করা যায় তপনের বাবা-কাকা-মামাদের মতোই তার লেখক মেসোমশাইও দাড়ি কামান, সিগারেট খান, খেতে বসে খাবার তুলে দেন, সময় মতো স্নান করেন, ঘুমোন, খবরের কাগজ পড়েন, এমনকি সিনেমাও দেখেন।
৩.২ প্রশ্ন ‘আর সেই সুযোগেই দেখতে পাচ্ছে তপন'। কোন্ সুযোগে তপন কী দেখতে পাচ্ছে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি জ্ঞানচক্ষু গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে মহাশ্বেতা দেবীর লেখা। লেখক মেসোমশাইকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে তপন বুঝতে পারে, লেখকরা কোনো আকাশ থেকে পড়া জীব নয়, তাদেরই মতো মানুষ। তপনের দীর্ঘদিনের লেখক হবার যে স্বপ্ন সেটার কথা বলা হয়েছে ।
৩.৩ তপনের মনে লেখক হওয়ার বাসনা জাগল
উত্তর লেখক নতুন মেসোমশাইকে দেখে তপন বুঝেছিল লেখকরা আসলে তাদের মতোই সাধারণ মানুষ। তাই উৎসাহিত হয়ে তপন তার এতোদিনের গল্প পড়ার ও শোনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে লেখক হতে চাওয়ার বাসনা জাগলো ।
৩.৪ ‘গল্পটা ছাপা হলে যে ভয়ংকর আহ্লাদটা হবার কথা, সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না।' উদ্দিষ্ট ব্যক্তির আহ্লাদিত না হতে পারার কারণ কী?
(পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্যদের নমুনা প্রশ্ন, ২০১৭)
উত্তর আলোচ্য অংশটি জ্ঞানচক্ষু গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে মহাশ্বেতা দেবীর লেখা। তখন তার ছোট মেসোকে দেখে তার লেখক হওয়ার যে বাসনা জেগে উঠেছিল তার জন্যই সে একটি গল্প লিখেছিল কিন্তু নিজের লেখা ছেপে বেরোলে যে তীব্র আনন্দ হওয়ার কথা সেই আহ্লাদ খুঁজে পায় না তপন। তার কৃতিত্বের চেয়েও যেন বড়ো হয়ে ওঠে ছোটোমেসোর গল্প ছাপিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব।
৩.৫ 'বোবার মতো বসে থাকে।- কে কেন বোবার মতো বসে থাকে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । নিজের লেখা গল্প ছেপে বেরোনোর পর পড়তে গিয়ে তপন দেখে কারেকশানের নাম করে তার ছোটমেসো লেখাটা আগাগোড়াই সব বদলে দিয়েছেন। তাই স্তম্ভিত তপন তা দেখে বোবার মতো বসে থাকে।
৩.৬ ‘তপন আর পড়তে পারে না।— তপনের আর পড়তে না পারার কারণ কী?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । নিজের লেখা গল্প পত্রিকায় ছেপে বেরোনোর পর পড়তে গিয়ে তপন দেখে কারেকশানের নাম করে ছোটো মেসোমশাই তার লেখাটা আগাগোড়া পুরোটাই পালটে দিয়েছেন। তাই তপন আর পড়তে পারে না।
৩.৭ ‘তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।—দিনটিতে কোন্ উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । তপন একটি গল্প লিখেছিল জীবনের প্রথম লেখা তপনের সেই গল্প ছেপে বেরোনোর পর তপন দেখে কারেকশানের নামে নতুন মেসো পুরো গল্পটাই পাল্টে দিয়েছেন। তপনের নিজের লেখা সেই গল্পটি আর নেই সেই জন্য তপনের সেই দিনটা সবচেয়ে দুঃখের মনে হয়েছে।
৩.৮ ‘এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন,'— সংকল্পটি কী?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । তপন সংকল্প করেছিল, ভবিষ্যতে যদি কখনও আর কোনো লেখা ছাপাতে হয়, তবে সে নিজে গিয়ে যেখানে পত্রিকা ছাপানো হয় দিয়ে আসবে ।
৩.৯ ' 'মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল।'-এর কারণ কী ছিল?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । নতুন মেসোর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তপন নিজেই চেষ্টা করে একটা গল্প লিখে ফেলে। নিজের লেখা দেখে আনন্দে তার মাথার চুল খাড়া হয়ে ওঠে।
৩.১০ 'ভালো হবে না বলছি।'- কে, কাকে কেন এই কথা বলেছেন?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । তপনের লেখা গল্পটা কিছুটা পড়েই ছোটোমাসি তার প্রশংসা করেন। তারপর তিনি জিজ্ঞেসা করেন লেখাটা অন্য কোনো স্থান থেকে দেখে লিখেছে কিনা । তখন বিরক্ত তপন উপরিক্ত মন্তব্যটি করেছে ।
৩.১১ 'যেন নেশায় পেয়েছে।'-কোন্ নেশার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । নতুন মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন যে গল্প লিখেছিল তা মাসির উৎসাহে মেসো ছাপিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এরপর থেকে তপনকে গল্প লেখার নেশা পেয়ে যায় ।
৩.১২ 'বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের।-তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠার কারণ কী ছিল?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । গল্প ছাপানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন অদৃশ্য থাকার পর হঠাৎই একদিন ছোটোমাসি ও মেসো হাতে সন্ধ্যাতারা পত্রিকা নিয়ে তপনদের বাড়িতে আসেন। তাতে তার গল্প ছাপার কথা ভেবে তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে।
৩.১৩ ‘পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে'?—এখানে কোন্ ঘটনাকে অলৌকিক ঘটনা বলা হয়েছে?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । পত্রিকায় তপনকুমার রায়ের লেখা গল্প ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হওয়া এবং সেই পত্রিকা বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনাকেই ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পে অলৌকিক ঘটনা বলে ধরা হয়েছে ।
৩.১৪ ‘কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল! –কোন্ কথা শুনে' কেন তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল ? ।
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে তপন এতদিন ভেবে এসেছে লেখকরা বুঝি অন্য জগতের মানুষ। সাধারণ মানুষদের সঙ্গে তাদের কোনো মিলই নেই। তাই যখন সে শুনল যে তার ছোটো মেসোমশাই বই লেখেন, আর সেই বই ছাপাও হয় তখন তার বিস্ময়ের সীমা রইল না। নতুন মেসোমশাই একজন সত্যিকারের লেখক। এই আশ্চর্য খবরটা শুনেই তপনের চোখ মার্বেলের মতো হয়ে গেল।
৩.১৫‘এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।– তপনের কোন বিষয়ে কেন সন্দেহ ছিল?
উত্তর আশাপূর্ণা দেবীর লেখা ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের তপন লেখকদেরকে এক অন্য জগতের বাসিন্দা বলে ভাবতো । তাঁরাও যে আর-পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই রোজকার জীবনযাপন করেন, তা ছিল তপনের জানা ছিল না । সে আগে কোনোদিন কোনো লেখককে কাছ থেকে দেখেনি। এমনকি লেখকদের যে দেখা পাওয়া যায় এ কথাও তার জানা ছিল না। তাই লেখকরা যে তার বাবা, কাকা, মামাদের মতোই সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে তার সন্দেহ ছিল।
৩.১৬ ‘রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই।—কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর উদ্ধৃতিটি আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প থেকে গৃহীত। ‘জহর’ অর্থাৎ মূল্যবান রত্ন কে জহুরি বলা হয়। এক্ষেত্রে জহুরি বলতে নতুন মেসো মশাই বোঝানো হয়েছে। লেখক মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন একটা আস্ত গল্প লিখে মাসিকে দেখায়। মাসি তা নিয়ে সারা বাড়িতে শোরগোল ফেলে দিয়ে মেসোকে দেখাতে যান। তপন ব্যাপারটায় আপত্তি তুললেও মনে মনে আনন্দিত হয় এই ভেবে যে তার লেখার মূল্য একমাত্র কেউ যদি বোঝে তবে ছোটোমেসোই বুঝবে, কেননা জহুরির জহর চেনার মতো একজন লেখকই পারে কোনো লেখার মূল্যায়ন করতে।
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
৪. রচনাধর্মী প্রশ্ন কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ + ৪ = ৫
৪.১ ‘কিন্তু নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।—নতুন মেসোর পরিচয় দাও । তাকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে গল্পের আরো এক অন্যতম চরিত্র তপনের নতুন মেসোমশাই তপনের গল্পের বইয়ের সঙ্গে উত্তর ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের নতুন মেসো তিনি একজন লেখক, বই লেখেন। ইতিমধ্যে তাঁর অনেক পরিচিতি থাকলেও লেখকদের সম্পর্কে তার কিছুই অভিজ্ঞতা ছিল না। তপন তাদের ভিনগ্রহের কোনো জীব ভাবত। নতুন মেসোর অনেক বই ছাপাও হয়েছে। সর্বোপরি তিনি একজন শিক্ষক ও । তপনের ছোটো মাসির বিয়ের পর নতুন মেসো একজন লেখক এ কথা জানতে পারে তার কৌতূহলের অন্ত ছিল না। তার কাছে লেখক মানে নাকি ভিনগ্রহের অন্য কোন জীব হতে পারে নতুন মেসোমশাই কে দেখে তপনের লেখক সম্পর্কে সমস্ত ধারণা বদলে গেল। তার জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল যে লেখকরা অন্য কোন গ্রহের কোনো মানুষ না তারা তপনের বাবা, কাকা ও মামাদের মতোই তিনি ও ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান । নতুন মেসোক খেতে বসে , সময়মতো চান করেন এই সমস্ত কিছু দেখার পরে তপনের লেখক সম্পর্কে জ্ঞানচক্ষু খুলে যায় ।
৪.২ রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই।—‘রত্ন' ও জহুরি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উদ্ধৃত উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর আলোচ্য অংশটি জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে মহাশ্বেতা দেবীর লেখা উপরিক্ত মন্তব্যটির মাধ্যমে লেখিকা বলতে চেয়েছেন যে রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই রত্ন বলতে মূল্যবান পাথর বোঝায় ‘জহুরি' বলতে বোঝায় জহর অর্থাৎ রত্ন বিশেষজ্ঞকে। যে-কোনো পাথরকে রত্ন বলে চালালে তা জহুরির চোখ এড়ানো মুশকিল। ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে ‘রত্ন’ বলতে তপনের লেখা গল্পকে আর ‘জহুরি’ বলতে তার ছোটোমাসির স্বামী নতুন মেসোমশাইকে বোঝানো হয়েছে। গল্পের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন জানত যে লেখকরা নাকি ভিনগ্রহের কোন জীব হয় কিন্তু তার নতুন মেসোকে দেখে তার জ্ঞানচক্ষু খুলে যায় ছোট মাসির বিয়ের পর তখন জানতে পারে যে তার নতুন মেসোমশাই নাকি একজন লেখক তিনিও বাবা কাকা মামার মত সময়মতো স্নান করেন সিগারেট খান এইসব দেখে তপনের কৌতুহল হল এবং তপনের লেখক হবার উৎসাহ বেড়ে উঠলো তপনের নতুন মেসোমশাই কে দেখে আনন্দে তপন একটি গল্প লিখেছিল সেটি তার ছোট মাসিকে প্রথম দেখানো হয় তিনি মন্তব্য করেন সে কোথা থেকেও এটি টোকাটুকি করেছে কিনা তারপর তিনি মেসোকে গল্পটি দেখায় এবং গল্পটি পড়ে বলেন ভালোই হয়েছে তিনি এটি পত্রিকায় ছাপাতে দেবেন তাই উপরিক্ত মন্তব্যটি এখানে সার্থক হয়েছে বলা চলে যে রত্নের মূল্য জহুরীর কাছেই ।
৪.৩ তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীব সবচেয়ে দুঃখের দিন।– 'আজ' বলতে কোন্ দিনের কথা হয়েছে? তপনের এমন মনে হওয়ার কারণ কী? 2 + 3 = ৫
উত্তর 'আজ' বলতে সেই দিনটির কথা বলা হয়েছে, যেদিন তপনের মাসি ও মেসো ‘সন্ধ্যাতারা' পত্রিকার একটি সংস্করণ বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন ।
নতুন মেসোমশায়ের কে দেখে তার কৌতূহলের অন্ত ছিল না । অনুপ্রাণিত হয়ে তপন সান্নিধ্যে এসে তার প্রতিভাকে বিকশিত করে কাঁচা হাতে লিখে ফেলে গল্প । সেই গল্প মাসির পীড়াপীড়িতে মেসোর হাত ধরে পত্রিকায় প্রকাশ পায় । সেই গল্প মেসোর হাতে গেলে মেসো তপনের লেখা ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপানো হবে বলে জানায় তার লেখা সামান্য কারেকশন করতে হবে কিন্তু পত্রিকায় ছাপানো যে গল্পটি হয়েছিল সেখানে তখন দেখে চমকে যায় যে তার লেখার সম্পূর্ণ আগা গোড়া বদলে গেছে।
৪.৪ ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের চরিত্রটি বিশ্লেষন কর ।
উত্তর আনন্দ-অভিমানের টানাপোড়েন দেখা যায়। তবে তার চরিত্রে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য তাকে আলাদা করে রাখে।
কল্পনাপ্রবণ : তপন মনে মনে তার কল্পনার জগৎকে সাজিয়ে নিতে ভালোবাসে। তাই তার কল্পনার জগতে লেখকরা ভিন গ্রহের প্রাণী ছিল সাধারণ মানুষদের সঙ্গে তাদের বুঝি বা কোনে পার্থক্য ছিল না ।
সাহিত্যপ্রেমী : সাহিত্যের প্রতি তপনের ঝোঁক ছোটোকে থেকেই। সে অনেক গল্প শুনেছে ও পড়েছে। লেখকদের সম্পর্কে তার কৌতূহল অসীম। ছোটোমেসোকে দেখে তার মনেও লেখক হওয়ার ইচ্ছে জাগে। উৎসাহী তপন বেশ কয়েকটা গল্পও লিখে ফেলে। বয়স অনুপাতে একটু বেশিই সংবেদনশীল তপন সমবয়সি ছেলেমেয়েদের মতো রাজারানি, খুন-জখম ও অ্যাক্সিডেন্ট নিয়ে না লিখে, তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি নিয়ে গল্প লেখে। তা নিয়ে বাড়ির লোকের ঠাট্টাতামাশা বা মাসি-মেসোর উৎসাহদান, কোনোটাতেই সে প্রকাশ্যে তার প্রতিক্রিয়া দেখায় না। এটা তার অন্তর্মুখী স্বভাবেরই পরিচয়। তাই কারেকশানের নামে মেসো তার গল্পটা আগাগোড়া বদলে দিলে তপন তার কষ্ট লুকোতে ছাদে দিয়ে কাঁদে।
আত্মমর্যাদাসম্পন্ন : তপনের আত্মমর্যাদা বোধ ছিল প্রবল। তার গল্প ছোটোমেসো কারেকশানের নাম করে আগাগোড়াই বদলে দিলে তপনের লেখক-সত্তা আহত হয়। সে মনে মনে শপথ নেয়, ভবিষ্যতে লেখা ছাপাতে হলে সে নিজে গিয়ে লেখা দিয়ে আসবে পত্রিকা অফিসে। তাতে যদি তার মতো নতুন লেখকের লেখা ছাপা না হয়, তাতেও দুঃখ নেই।
৪.৫ নতুন মেসোর চরিত্রটি আলোচনা করো। ৫
উত্তর কথাশিল্পী আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের মূল চরিত্র তপনের আত্মোপলব্ধির পিছনে যে চরিত্রটির প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে, তা হল তপনের নতুন মেসো। এই মেসো পেশায় অধ্যাপক এবং লেখক। তাঁর লেখক পরিচয় তপনের মনের বহু ভুল ধারণা ভেঙে দেয়।
মিশুকে : অধ্যাপক ও লেখক হওয়া সত্ত্বেও মেসো ব্যক্তিটি বেশ মিশুকে, ফুর্তিবাজ। তিনি শ্যালক-শ্যালিকাদের সঙ্গে গল্প করেন, তর্ক করেন, কবজি ডুবিয়ে খাওয়াদাওয়া করেন, সিনেমায় যান ও বেড়াতে যান।
সহানুভূতিশীল : শ্বশুরবাড়ির সদস্য হিসেবে তপনের প্রথম লেখা গল্পের তিনি প্রশংসা করেন ও তা ছাপার দায়িত্ব নিয়ে নেন।
নিজের প্রতিপত্তি জাহিরে আগ্রহী : শুধু যে তপনকে উৎসাহ দিতে ছোটোমেসো তার গল্পটা ছাপিয়ে দেন, এমনটা নয়। শ্বশুরবাড়িতে নিজের প্রতিপত্তি জাহির করতেও তিনি এ কাজ করেন।
অন্যের আবেগ বুঝতে অক্ষম : তপনের গল্প যাতে প্রসিদ্ধি পায়, তাই সংশোধনের নামে গল্পের পুরোটাই বদলে দেন মেসো। তাঁর উদ্দেশ্য হয়তো মহৎ ছিল। কিন্তু তাঁর এই উদ্যোগ তপনের লেখক সত্তাকে আঘাত করে। একদিকে চারিত্রিক উদারতায়-মহত্ত্বে আবার অন্যদিকে অসতর্কতায়, তপনের নতুন মেসো এক পরিপূর্ণ ।
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10 বাংলা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 10
The Passing Away of Bapu Unit 1
The Passing Away of Bapu Unit 2
The Passing Away of Bapu Unit 3
0 Comments