সেনাপতি শংকর গল্পের প্রশ্ন উত্তর । শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় । অধ্যায় ২ ।Shankar Senapati Question Answer | Class 6 | Wbbse

 

সেনাপতি শংকর গল্পের প্রশ্ন উত্তর  । শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় । অধ্যায় ২ ।Shankar Senapati Question Answer | Class 6 | Wbbse


সূচিপত্র

  • গল্পটির সারসংক্ষেপ ব্যাখ্যা
  • গল্পটির নামকরণ
  • অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
  • সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
  • রচনাধর্মী প্রশ্ন

সেনাপতি শংকর 

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

গল্পটির সারসংক্ষেপ

বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৫-৬ মাইল ভিতরে আকন্দ বাড়ি । এই অঞ্চলে প্রকৃতির গাছগাছালিতে ঘেরা একটি বিদ্যালয় নাম আকন্দ বাড়ী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শংকর ক্লাস চলার সময়েও শ্রেণিকক্ষের জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে পায় নারকেল গাছের মাথার উপর দিয়ে ক্রমে উঁচুতে উড়ে যায় শঙ্খচিল। মনে পড়ে যায় স্বপ্নের কথা। সে পাখির মতো বাতাস কেটে কেটে উঠে যায় উঁচুতে, থেকে অনেক উঁচুতে। মাস্টারমশাই প্রকৃতি বিজ্ঞানের পাঠ দিতে দিতে এমু পাখি সম্পর্কে আলোচনা করেন। শংকরের মন সেখানে থাকে না। সে তখন প্রকৃতি বিষয় নিয়ে ভাবতে থাকে । হঠাৎ মাস্টারমশাই বিভীষণ দাশের প্রশ্নে চমকে ওঠে সে। তবে সত্যি কথাই বলে সে, যে বাইরে শঙ্খচিলের ওড়ার দিকে তাকিয়ে ছিল সে। মাস্টারমশাই প্রশ্ন করে সে এমু পাখি দেখেছে কি না? শংকর জানায়, সে ঘোলপুকুরে বড়োদিঘির পাড়ে সবেদা গাছে এমু পাখি দেখেছে। বাজপাখির থেকেও বড়ো, চওড়া বুক, উড়ে গেলে ডানায় বাতাস কাটার শব্দ হয়, অন্য পাখিরা তাকে দেখে ভয়ে পালায়। শংকরের উত্তরে সবাই চমকে যায়, মাস্টারমশাইও হাসাহাসি  করেন, কারণ এমু পাখি ওড়ে না, দৌড়োয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই শংকর জানায় এটি তার স্বপ্নে দেখা পাখির বর্ণনা। বন্ধুরা উপহাস করে , কিন্তু শংকর প্রতিদিনই এমন সব স্বপ্ন দেখে।” মাস্টারমশাই শংকরের বাবার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে শংকর জানায় তার বাবা খুব অসুস্থ। তাই দেখা করতে পারবেন না । অন্য ছাত্ররা মাস্টার মশাইকে জানায় শংকর সারাদিন গাছে গাছেই কাটায়— গাব, নোনা, জাম, ডাব খেয়ে বেড়ায়।  সে স্বপ্নে পাখি হয়ে ওড়ে, এভাবে উড়তে উড়তে কতবার খাট থেকে পড়েও গেছে সে। সে মনে মনে ঠিক করে আর কাউকে সে স্বপ্নের কথা জানাবে না। স্বপ্নে সে অনেককিছু জানতে পারে। যেমন স্বপ্নের বাতাস নীল রঙের, বাড়িঘর খয়েরি। জলের নীচে ডুব সাঁতার দেওয়ার সময় নীচে পোঁতা বাঁশের আঘাতও টের পাওয়া যায় না স্বপ্নে। সে বন্ধুদের আচরণে দুঃখই পায় ।

গল্পটির নামকরণ

নামকরণ সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । নামকরণের মাধ্যমেই রচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া যায়। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর ‘সেনাপতি শংকর' গল্পে একটি কিশোরের ভাবনা ও মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরেছেন। বঙ্গোপসাগর থেকে ৫-৬ মাইল ভিতরে আকন্দবাড়ি অঞ্চলের আকন্দবাড়ি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শংকর সেনাপতির স্বপ্নের কথাই আলোচ্য গল্পের বিষয় হয়ে উঠেছে। শংকর স্বপ্নে পাখির মতো উড়ে বেড়ায়, হাতকেই ডানার মতো ব্যবহার করে বাতাস ঠেলে ঠেলে অনেক উঁচুতে উঠে যায়।  সে প্রতিদিন পাখির স্বপ্ন দেখে। প্রথমে মাস্টারমশাই বুঝতে না পারলেও পরে অনুভব করে যে, শংকর কল্পনাপ্রবণ মানসিকতাসম্পন্ন কিশোর এবং সে সত্যি সত্যিই প্রকৃতিকে মন-প্রাণ দিয়ে অনুভব করে। তাই মাস্টারমশাই তাকে এ ব্যাপারে অনুপ্রাণিতও করেন।


১. নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :


১.১ শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখ ।


উত্তর ভাস্কো দা গামার ভাইপো ও ক্লাস ইলেভেনের মিস্টার ব্লেক ।


১.২ তিনি কোন বইয়ের জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন ?


উত্তর শাহজাদা দারাশুকো বইয়ের জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিল ।


২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও :


২.১ আকন্দবাড়ী স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা কোন কোন জায়গা থেকে পড়তে আসে ?


উত্তর আকন্দবাড়ী স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা সাঁইবাড়ি ঘোলপুকুর ভেটুরিয়া ইত্যাদি জায়গা থেকে পড়তে আসে।

 


২.৩ স্কুলের জানলা থেকে কি কি দেখা যায় ?


উত্তর স্কুলের জানালা থেকে আকাশের পাখি উড়ে যায় ইত্যাদি দেখা যায়


২.৪ শংকর কিসের স্বপ্ন দেখে ?


উত্তর শংকর স্বপ্ন দেখে গাব গাছের উচু ডাল থেকে ঝাঁপ দেয় বড় দীঘিতে কিন্তু সে জলে না পড়ে পাখির মতো আকাশে উড়ে যাচ্ছে।

 
২.৫ শংকরের স্বপ্নে বাতাসের রং কি ?


উত্তর শংকরের স্বপ্নে বাতাসের রং নীলচে ।


২.৬ এমু ছাড়া উড়তে পারেনা শুধু দৌড়াতে পারে এমন একটি পাখির নাম লেখ ।


উত্তর ইমু ছাড়া উড়তে পারে না শুধু দৌড়াতে পারে এমন একটি পাখির নাম হলো উটপাখি ।

. গল্প থেকে একই অর্থ যুক্ত শব্দ ও খুঁজে নিয়ে লেখ
বিদ্যালয় ,অনিল জগৎ , একাগ্র চিত্ত , পাখা, রোপন করা ।

বিদ্যালয়-     স্কুল
অনিল -       বাতাস
জগৎ  -         পৃথিবী
একাগ্র-চিত্ত -   তন্ময়
পাখা -              ডানা
রোপণ করা-      রোয়া


৪. সন্ধি বিচ্ছেদ কর


বঙ্গোপসাগর = বঙ্গ + উপসাগর
তন্ময় = তৎ + ময়
সাবধান= স + অবধান
ত্রিশেক= ত্রিশ + এক
পঞ্চানন= পঞ্চ + আনন


আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 6


ভরদুপুর

সেনাপতি শংকর

পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি

মন ভালো করা

পশু পাখির ভাষা

চিঠি

ঘাস ফড়িং

কুমোরে পোকা বাসা বাড়ি


৫. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখ


৫.১ পাগলা বাতাসে তার ঢেউয়ের গুড়ো সব সময় উড়ে আসছে।'— এখানে বাতাসকে 'পাগলা' বলা হল কেন ?


উত্তর বিখ্যাত  কথাসাহিত্যিক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা 'সেনাপতি শংকর' গল্পে যে আকন্দবাড়ি গ্রামের কথা আছে, তার অবস্থান বঙ্গোপসাগর থেকে মাত্র পাঁচ-সাত মাইলের মধ্যে। সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের বাতাস সাধারণত একটু বিক্ষিপ্তভাবেই প্রবাহিত হয়। এর মূল কারণ, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ তথা আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। এমন বাতাস কখনও মৃদুমন্দ, কখনও এলোমেলো, আবার কখনও উত্তাল হয়ে প্রবাহিত হয়। এই কারণেই লেখক বাতাসকে 'পাগলা' বলেছেন।

৫.২ 'বিভীষণ দাশ এমু পাখির কথা বলেছিলেন।'— গল্পের 'বিভীষণ দাশ'-এর পরিচয় দাও। এমু পাখি ছাড়া গল্পে আর কোন্ পাখির প্রসঙ্গ এসেছে?

উত্তর: বিখ্যাত কথাসাহিত্যক  শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'সেনাপতি শংকর' গল্পে শিক্ষক বিভীষণ দাশের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি যথেষ্ট দৃঢ় মনোভাবের শিক্ষক। লেখকের ভাষায় বিভীষণ দাশ কড়া মাস্টারমশাই। তিনি স্কুলে প্রকৃতিবিজ্ঞান পড়ান। পঞ্চম শ্রেণিতে তিনি পাখি নিয়ে আলোচনা করার সময় অন্যমনস্ক শংকরের দিকে দৃষ্টি ফেরান। তার প্রবল কল্পনা প্রবণতা তাকে বিরক্ত করে। কিন্তু পরে শংকরকে সঠিক বুঝে তিনি পাখিদের সম্পর্কে অনেক কথা বলেন। শংকরের প্রতি তার মনে স্নেহ উথলে ওঠে। ছাত্রদের উদ্দেশে তার মূল্যবান একটি উক্তি হল – 'এই খোলামেলা পৃথিবীই সবচেয়ে বড়ো বই। তাকে চোখ ভরে দেখাই সবচেয়ে বড়ো পড়াশুনো।'
আলোচ্য গল্পে 'এমু পাখি ছাড়া শঙ্খচিল, কাক, হাঁড়িচাচা, পানকৌড়ি, তিতির, মাছরাঙা, বাজপাখি, ডৌখোল প্রভৃতি পাখির প্রসঙ্গ এসেছে।

৫.৩ "শংকর বুঝল, কোথাও একটা বড়ো ভুল হয়ে যাচ্ছে।”— কে এই শংকর? তার স্বভাবের প্রকৃতি কেমন? তার যে কোথাও একটা বড়ো ভুল হয়ে যাচ্ছে – এটা সে কীভাবে বুঝতে পারল ?

উত্তর আকন্দবাড়ি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল শংকর । তার প্রকৃত নাম হল শংকর সেনাপতি।শংকর প্রকৃতিপ্রেমিক এক কিশোর। তবে তারই মধ্যে পাখির প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ আছে। বিভিন্ন পাখির চালচলন সে লক্ষ করে। সে কল্পনাপ্রবণ, স্বপ্নে পাখিদের দেখে এবং পাখির মতো উড়ে বেড়ায় স্বপ্নে ।শংকরকে মাস্টারমশাই এমু পাখি কেমন দেখতে জিজ্ঞাসা করায় শংকর বুঝতে পারে কোথাও একটা ভুল হয়ে যাচ্ছে। কারণ, সে তো এমু পাখিকে কখনো দেখেনি , স্বপ্নে সে পাখি দেখেছে আর তাকেই সত্যি সত্যি এমু পাখি বলে মনে করে মাস্টারমশাইকে বলেছে ঘোলপুকুরে বড়ো দিঘির পাড়ে সবেদা গাছের ডালে এমু পাখিকে বসতে দেখেছে সে। তখনই সে বুঝতে পারে যে তার কোথাও একটা বড়ো ভুল হয়ে যাচ্ছে।

৫.৪ এমু পাখির যে বর্ণনা শংকর দিয়েছিল তার

 সঙ্গেপাখিটির মিল অমিল কি লেখ।


উত্তর কথাসাহিত্যিক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সেনাপতি শংকর' গল্পে বালক-নায়ক শংকর কল্পজগতের মানুষ। অন্যদিকে প্রকৃতিবিজ্ঞানের শিক্ষক বিভীষণ দাশ শিক্ষক বলেই বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ। তাই দেখা যায় এমু পাখির বর্ণনায় দুজনের বক্তব্যে বেশ কিছু মিল ও অমিল থেকে গেছে। শংকরের বর্ণনা অনুসারে এমু হল অনেকটা বাজপাখির মতো ছাই রঙের বিরাট মাপের পাখি। সে উড়তে থাকলে ডানায় বাতাস কাটার শব্দ হয়। তখন অন্য পাখিরা ভয়ে সরে যায়। বিভীষণ দাশের বর্ণনা অনুযায়ী প্রকৃত এমু পাখি থাকে আন্দিজ পর্বতমালায়। এরা তিন বছরে একবার দুটো করে বড়ো ডিম পাড়ে। এমু উড়তে পারে না, দৌড়োয়; সে দৌড়বাজ পাখি ।


৫.৫ এটা কী পঞ্চানন অপেরা পেয়েছ?’—‘অপেরা' বলতে কী বোঝো? এখানে অপেরার প্রসঙ্গ এল কেন ?

উত্তর ‘অপেরা’ হল যাত্রাপালা । তবে এর প্রকাশ চরম আবেগময় এবং এর অভিনয়ের বৈশিষ্ট্য নাটকের মত । এর কাহিনির মধ্যে বাস্তবতা কম, কল্পনার আবেগই বেশি। ‘সেনাপতি শংকর’ গল্পে শংকর ক্লাস চলাকালে অন্যমনস্ক ছিল। শিক্ষকমশাই বিভীষণ দাশের হঠাৎ করা প্রশ্নে ঘাবড়ে গিয়ে সে এমু পাখির এমন কাল্পনিক বর্ণনা দেয়, যার সঙ্গে প্রকৃতিবিজ্ঞানের বইয়ে থাকা প্রকৃত পাখিটির বর্ণনার বিশেষ মিল পাওয়া যায় না। শংকরের বর্ণনায় ছিল কল্পনাবিলাস এবং বানিয়ে বলার প্রবণতা। তাই বিরক্ত বিভীষণবাবুর মনে হয়েছে অপেরায় যেমন চরিত্র অভিনেতার অতিনাটকীয় অভিনয়কলা থাকে, শংকরও তেমনই বানিয়ে বানিয়ে অপ্রাসঙ্গিক ও বেমানান ।

৫.৬ বলো, বলতেই হবে-কাকে এ কথা বলা হল। উদ্দিষ্টকে কোন্ কথা বলতে হবে বলে দাবি জানানো হয়েছে?

উত্তর কথাসাহিত্যিক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সেনাপতি শংকর গল্পে শংকরকে প্রকৃতিবিজ্ঞান-শিক্ষক বিভীষণ দাশ মহাশয় একথা বলেছেন।
ক্লাসের মধ্যে শংকর এমু পাখির যে বর্ণনা দিয়েছিল, ছিল তা ভাবনার। তার কল্পনায়, এমু পাখি গাঢ় ছাই রঙে চওড়া বুকওয়ালা এমন এক পাখি যাকে সে ঘোলপুকুরের বলে দিঘির পাড়ে সবেদা গাছের ডালে উড়ে এসে বসতে দেখেছিল শংকরের এমন বর্ণনা শুনে মাস্টারমশাই বিস্মিত হন। কার আন্দিজ পর্বতমালার বাসিন্দা এই পাখিটির সম্পর্কে তার জয় ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি জানতেন, এমু একেবারেই উঠতে পারেনা , সে জোরে দৌড়োতে পারে। আন্দিজ থেকে উড়ে  ঘোলপুকুরের বড়ো দিঘির পাড়ে সবেদা গাছের ডালে বসা তার পক্ষে অসম্ভব। তাই শংকরের অবাস্তব বর্ণনা তাকে ক্রুদ্ধ করে। উত্তেজিত হয়ে তিনি শংকরের কাছে দাবি করেন, তাকে বলতে হবে কীভাবে সে ঘোলপুকুরের সবেদা গাছে এমু পাখিকে এসে বসতে দেখেছে।

৫.৭ গল্প অনুসরণে আকন্দবাড়ি স্কুলে প্রকৃতিবিজ্ঞান ক্লাসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর আকন্দবাড়ি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে মাস্টারমশাই বিভীষ দাশ প্রকৃতিবিজ্ঞানের ক্লাসে এমু পাখি সম্পর্কে আলোচন করছিলেন। শংকর নামের একটি বালকের মন পাঠে ছিল ন বুঝতে পেরে মাস্টারমশাই তাকে জিজ্ঞাসা করেন সে কি এমু পাখি দেখেছে? এই প্রসঙ্গেই শংকর জানায়, সে ঘোলপুকুরে বড়ে দিঘির পাড়ে সবেদা গাছের ডালে এমু পাখিকে বসতে দেখেছে এমু পাখি কেমন দেখতে, কেমনভাবে ওড়ে ইত্যাদিও জানায় শংকরের কথা শুনে সবাই অবাক হয়। মাস্টারমশাই তাকে বিছু করে বলেন এমু ওড়ে না, দৌড়োয়। ছাত্ররা এই নিয়ে হাসতে থাকে। শংকর লজ্জায় পড়ে যায়। তবু সে তার স্বপ্নে দেখা পাখির ক জানায় মাস্টারমশাইকে। সে স্বপ্নে প্রতিদিন অনেক অনেক পা দেখতে পায়। সে নিজেও পাখির মতো ওড়ে। বন্ধুরা ক্লাসের মধে শংকরকে পাখির সঙ্গে তুলনা করে উপহাস করে। তবে শেষপর্য মাস্টারমশাই বুঝতে পারেন শংকরের কল্পনাপ্রবণ মানসিকত তাই তিনি শেষে শংকরকে আরো ভালো করে প্রকৃতিকে দেখ জন্য অনুপ্রাণিত করেন। এমনই এক অভাবনীয় পরিস্থিতি সৃি হয়েছিল আকন্দবাড়ি স্কুলের প্রকৃতিবিজ্ঞানের ক্লাসে।

৫.৮ ‘স্বপ্নে সে অনেক কিছু জানতে পেরেছে।'—কার স্বপ্ন দেখার কথা বলা হয়েছে? স্বপ্ন দেখে সে কী জেনেছে ?


উত্তর সাহিত্যিক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সেনাপতি শংকর’গ শংকর নামক বালক-নায়কের স্বপ্ন দেখার কথা বলা হয়েছে।
প্রকৃতিবিজ্ঞানের ক্লাসে এমু পাখির বিষয়ে আলোচনার | শুকনো পাতার রং বা জলপাই রঙের হলে ভালো হয়। কারণ, এমন সূত্রে কল্পনাবিলাসী শংকরের স্বপ্নদর্শনের প্রসঙ্গটি প্রথম প্রকাশিত হয়। স্বপ্নে দেখা শংকরের এমু পাখির বর্ণনা থেকে জানা যায়, তার গায়ের রং গাঢ় ছাইরঙা। এমু বাজপাখির থেকেও চওড়া বুকওয়ালা । বিশাল পাখিটিকে সে ঘোলপুকুরের বড়ো দিঘির পাড়ে সবেদা গাছের ডালে উড়ে এসে বসে থাকতে দেখেছে। এভাবেই তার স্বপ্ন-কল্পনার জগৎ থেকে সে আরও অনেক কিছু জানতে পেরেছে। স্বপ্নে তার বাতাসের রং নীলচে আর বাড়ির রং খয়েরি । স্বপ্নের মাধ্যমে তার এও জানা আছে স্বপ্নে কোথাও ধাক্কা বা গুঁতো খেলে একদম ব্যথা লাগে না, ঠিক যেমন ঘোলপুকুরে বড়ো দিঘিতে ডুব দিয়ে তলা থেকে মাটি তুলতে গিয়ে নীচে পোঁতা বাঁশে আঘাত লাগলেও শংকরের ব্যথা লাগে না। শংকরের স্বপ্নজগৎ ব্যাখ্যাহীন এক মায়াজগৎ, যেখান থেকে সে অনেক কিছু জেনেছে।


৫.৯ ‘পাখি দেখার জন্য যখন মাঠে বা বাগানে ঘুরবে”—তখন কীভাবে চলতে হবে ?


উত্তর পাখি থাকার জন্য যখন মাঠে বা বাগানে ঘুরবে তখন জামাকাপড়ের রং গাছের পাতার সঙ্গে যেন মিশে থাকে। বেগুনি রঙের জামা পরলেও ভালো -পাখিরা বেগুনি রং দেখতে পায় না। পাখি দেখার জন্য বাগানে ঘোরার সময় এই কথাগুলি মেনে চলতে হবে।

 
৫.১০ 'তাদের কথা বলতে পারো ?” এই প্রশ্নের সূত্র ধরে বক্তা ও শ্রোতার কথোপকথনের অংশটুকু নিজের ভাষায় লেখো।


উত্তর আলোচ্য অংশটির সেনাপতি শংকর গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় র লেখা গল্পে বক্তা অর্থাৎ মাস্টারমশাই বুঝতে পেরেছিলেন যে, শ্রোতা অর্থাৎ অর্থাৎ মাস্টারমশাই বুঝতে পেরেছিলেন যে, শ্রোতা অর্থাৎ শংকর গাছে গাছে ঘুরে বেড়িয়ে পাখিদের পর্যবেক্ষণ করে। তাই তিনি শংকরকে তার দেখা পাখিদের কথা বলতে বলেন। শংকর তখন জানায় যে সে মাছরাঙা, হাঁড়িচাচা, ডৌখোল, পানকৌড়ি  তিতির প্রভৃতি পাখি দেখেছে।  পাখির কথা অনুভব করে মাস্টারমশাই । তিনি সবকিছুর মধ্যেই পৃথিবীর উপ খুঁজে বার করার চেষ্টা করতে বলেছে।


আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 6


ভরদুপুর

সেনাপতি শংকর

পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি

মন ভালো করা

পশু পাখির ভাষা

চিঠি

ঘাস ফড়িং

কুমোরে পোকা বাসা বাড়ি

Post a Comment

0 Comments