সূচিপত্র
- লেখক পরিচিতি
- উৎস
- পাঠ প্রসঙ্গ
- বিষয় সংক্ষেপ
- নামকরণ
- অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
পশু পাখির ভাষা
সুবিনয় রায়চৌধুরী
লেখক পরিচিতি
১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত লেখক ও সংগীত বিশেষজ্ঞ সুবিনয় রায়চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায় । উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ও বিধুমুখী দেবীর এই কনিষ্ঠ পুত্রের ডাকনাম ছিল ‘মণি’। বাদ্যযন্ত্র হারমোনিয়াম, এসরাজ বাজানোয় দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে সংগীতেও তিনি পারদর্শী হয়ে ওঠেন। শৈশব থেকেই বানিয়ে গল্প বলায় দক্ষ হয়ে ওঠা এই সাহিত্যিক একান্তভাবেই শিশু-কিশোরদের জন্য লিখে গেছেন অনেক রচনা । তাঁর লেখার ভাষা ছিল সহজসরল । শিশু-কিশোরদের মনের জিজ্ঞাসা মেটাতে মজাদার গল্প ও কবিতার পাশাপাশি তিনি অজস্র তথ্যনিষ্ঠ প্রবন্ধও রচনা করেছেন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ‘সন্দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক সুকুমার রায় মারা গেলে, তাঁর ছোটোভাই সুবিনয় রায়চৌধুরী এই পত্রিকার সম্পাদক হন। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান হয় ।
উৎস
‘পশু-পাখির ভাষা’ এই প্রবন্ধটি লেখক ‘সুবিনয় রায়চৌধুরীর লেখা ।
পাঠ প্রসঙ্গ
পশুপাখির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহুদিনের। যার সাহায্যে তারা ভাব বিনিময় করে। এমন বহু পশু আছে যাদের ডাকলে কান খাড়া করে শুনে। বহুদিন ধরেই গবেষকগণ পরীক্ষা করে চলেছেন সাড়া কিভাবে দেয় ।পশু-পাখির ভাষা’ প্রবন্ধে করে ভাষার খুব প্রয়োজন । কিন্তু সত্যি সত্যিই কি পশুপাখির কোনো ভাষা আছে সাহিত্যিক সুবিনয় রায়চৌধুরী সেই প্রসঙ্গই আলোচনা করেছেন।
বিষয়সংক্ষেপ
মানুষ বহুকাল থেকেই পরীক্ষা করে বোঝার চেষ্টা করে চলেছে পশুপাখির ভাষা সম্পর্কে । রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব প্রায় চল্লিশ বছর বন্য জন্তুদের সঙ্গে কাটিয়েছেন
যে, পশুপাখিদের ভাব বিনিময়ের কোনো ভাষা আছে কি না। তবে দেখা গেছে যে মানুষের অনেক কথাই পশুপাখিরা বুঝতে পারে । বুদ্ধিমান জীব কুকুর, ঘোড়া, বনমানুষ মানুষের দেওয়া নাম ধরে ডাকলেই কান খাড়া করে। আবার মুরগি, হাঁস, হাতি, ছাগল প্রভৃতি প্রাণী বিভিন্ন শব্দে বা ডাকে সাড়া দেয়—তবে সে কথা বা শব্দের অর্থ শেখাতে হয়। পশুরা মানুষের ভাষা বুঝলেও সে ভাষা তারা বলতে পারে না। তারা বিশেষ বিশেষ শব্দের মাধ্যমে রাগ-আনন্দ-বেদনার প্রকাশ ঘটায়। জাতভেদে শব্দের গাম্ভীর্য তফাত হয়ে থাকে। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য তারা নানা ধরনের আওয়াজ করে। পাখিদের ক্ষেত্রেও এমনটাই লক্ষ করা যায়। বিপদের সময়ে পরস্পরকে জানানোর উপায়ও পশুপাখিরা ভালোভাবেই জানে। রিউবেন ক্যাস্টাং নামক একজন সাহেব দীর্ঘদিন ধরে বনে-জঙ্গলে পশুদের সঙ্গে কাটিয়ে গবেষণার মাধ্যমে পশুপাখিদের আচার-আচরণের বহু তথ্য আবিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন পশুদের ভাষার জ্ঞান অর্জন করতে পারলে বন্য হিংস্র পশুদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব স্থাপন করা যায়। এবং বুনো জীবজন্তুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে শিম্পাঞ্জি, গরিলা, সিংহ, গ্রিজলি ভালুক, শ্বেত ভালুক ইত্যাদি। এইসব পশুর গলার আওয়াজ অবিকল নকল করতে পারতেন বলে তিনি বহুবার প্রাণে বেঁচেছেন আবার এদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও পাতাতে পেরেছেন। পশুপাখিরা শুধু শব্দ করে তা নয়, ইশারাতেই অনেক কিছু বোঝাতে পারে—এটাও এক প্রকারের ভাষা। জঙ্গলের পশুদের সর্বদাই সতর্ক থাকতে হয় বলে এরা পোষা প্রাণীর থেকে কম আওয়াজ করে। বনমানুষদের ভাষা বিশেষ কিছু নেই। কয়েক জাতীয় বড়ো বানর ছাড়া অন্য বানরদের ভাষার শব্দ সামান্যই। পশুদের গায়ে হাত দেওয়ার সময় খুব সাবধানে অত্যন্ত ধীরে এগিয়ে মেজাজ বুঝে হাত দিতে হয়। চিতা সহজে পোষ মানে বাঘের তুলনায়। নিরামিষাশী ভালুককে খাবার দিয়ে ভাব পাতানো সহজ কিন্তু আমিষাশী জন্তু খাবার সময় কারো সঙ্গে ভাব জমায় না। শিম্পাঞ্জি, ওরাং ওটাং ভালোবাসা সহানুভূতি ভালো বোঝে, তাই সহজেই ভাব পাতায়। গরিলাও অনেকটা এদেরই মতন, তবে একটু কম চালাক ।
নামকরণ
সাহিত্যের একটি প্রধান উপাদান হল নামকরণ। সাধারণত নামকরণের মাধ্যমেই রচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগাম ধারণা করা যায়। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে পশুপাখিদের সঙ্গে সঙ্গে বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়ে তাদের উপর গবেষণা করেছেন। সাহেবের মতে পশুদের আদবকায়দা বুঝে নিয়ে তাদের সঙ্গে মেলামেশা করা যায়। তিনি বহু পশুপাখির আওয়াজ নকল করে অনেক সময় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন শুধু নয়; শিম্পাঞ্জি, গরিলা, সিংহ, ভালুক প্রভৃতি হিংস্র পশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বও পাতিয়েছেন। পোষা পশুরা চিৎকার করে বেশি কিন্তু বন্যরা নিরাপত্তার কারণে চিৎকার করে কম। কোনো কোনো প্রাণী খাবার পেলেই ভাব জমায়। শিম্পাঞ্জি, ওরাং ওটাং মানুষের জাতভাই হলেও এদের বড়ো একটা ভাষা নেই, তবে সহানুভূতি ভালোবাসা এরা খুব বোঝে। এদের মনের ভাব মুখে বেশি প্রকাশ পায়। এইভাবে সমগ্র গদ্যাংশই আলোচিত হয়েছে পশুপাখিদের ভাষা সম্পর্কে, তাই আলোচ্য প্রবন্ধের নামকরণ সার্থক হয়েছে বলে মনে করি।
১. নীচের প্রশ্নগুলোর একটি বাক্যে উত্তর দাও
১.১ সুবিনয় রায় চৌধুরী কি কি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন ?
উত্তর সুবিনয় রায়চৌধুরী হারমোনিয়াম এসরাজ ইত্যাদি যন্ত্র বাজাতে পারতেন।
১.২ সুবিনয় রায়চৌধুরী কোন পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ?
উত্তর সুবিনয় রায় চৌধুরী সন্দেশ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিল ।
২. কোনটি কার ডাক
২.১ ব্যাঙের ডাক কে কি বলে ?
উত্তর মকমকি
২.২ হাতির ডাক কে কি বলে ?
উত্তর বৃংহণ
২.৩ পাখির ডাক কে কি বলে ?
উত্তর কাকলি
২.৪ কোকিলের ডাক কে কি বলে ?
উত্তর কুহু
২.৫ ঘোড়ার ডাক কে কি বলে ?
উত্তর হ্রেষা
২.৬ ময়ূরের ডাক কে কি বলে ?
উত্তর কেকা ।
৩. বাক্যের উদ্দেশ্য বিধেই অংশ আলাদা করে দেখাও
৩.১ মুরগির তি তি ডাক শুনে আসে ।
উত্তর মুরগিরা উদ্দেশ্য
আর তিতি ডাক শুনে আসে বিধেয়
৩.৩ পাখিরাও ভয় রাগ প্রভৃতি প্রকাশ করার জন্য বিশেষ বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করে থাকে।
উত্তর পাখিরা উদ্দেশ্য
ভয় রাগ প্রভৃতি প্রকাশ করাবার জন্য বিশেষ বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করে থাকে এটি বিধেয়
৩.৪ ক্যাস্টাং সাহেব প্রায় চল্লিশ বছর বন্য জন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন।
উত্তর ক্যাস্টাং সাহেব—উদ্দেশ্য।
প্রায় চল্লিশ বছর বন্য জন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন—বিধেয়।
৩.৫ শিম্পাঞ্জি, ওরাং এদের বিষয় কিছু লেখা হয়নি।
উত্তর শিম্পাঞ্জি, ওরাং–উদ্দেশ্য।
এদের বিষয় কিছু লেখা হয়নি—বিধেয়।
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 6
পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি
৪. নীচের যে শব্দগুলিতে এক বা বহু বোঝাচ্ছে তা চিহ্নিত করে লেখ।
৪.১ কুকুরেরাও কথা শুনে হুকুম পালন করতে ওস্তাদ।
উত্তর কুকুরেরাও (বহু) ।
৪.২ তোমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে।
উত্তর তোমার (এক)।
৪.৩ বিপদের সময় পরস্পরকে জানাবার উপায়ও পশুপাখিরা বেশ জানে।
উত্তর পরস্পরকে (বহু), পশুপাখিরা (বহু)।
৪.৪ রিউবেন ক্যাস্টাং নামে একজন সাহেব বহুকাল পশুদের সঙ্গে ভাব পাতিয়ে বেড়িয়েছেন।
উত্তর একজন (এক), পশুদের (বহু)।
৪.৫. একেও ভাষা বলতে হবে।
উত্তর একেও (এক)।
৫. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো :
৫.১ ভাষার প্রয়োজন হয় কেন?
উত্তর ভাষা হল প্রাণীর ভাবপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম। নিজের মনের কথাকে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে, আবার অপরের মনোভাবকে বুঝে নিতেই ভাষার প্রয়োজন হয় । অর্থহীন শব্দ কখনও ভাষা হতে পারে না। ভাষা না থাকলে ভাববিনিময় করা যায় না। এখানেই ভাষার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা ।
৫.২ ‘পশুপাখিরা অবিশ্যি মানুষের অনেক কথারই অর্থ বোঝে।'— এ কথার সমর্থনে রচনাটিতে কোন্ কোন্ প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে? তুমি এর সঙ্গে আর কী কী যোগ করতে চাইবে ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি সুবিনয় রায়চৌধুরী লেখা ‘পশু-পাখির ভাষা নামক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে । প্রশ্নে প্রদত্ত উক্তির পর বলেছেন, বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যে কুকুর, বনমানুষ, ঘোড়ারা ‘দেওয়া-নাম’ শুনেই কান খাড়া করে, কাছে আসে। মুরগিরা ‘তি-তি’, হাঁস ‘সোই-সোই’, ছাগল ‘অ-র্-র্’ ডাক শুনলে আসে। মাহুত হাতিকে নির্দেশ দিলেই সে চলতে থাকে। পূর্ববঙ্গীয় মাহুতের ভাষায় ‘বৈঠ’ মানে ‘বস’,‘তেরে’মানে ‘কাত হও’, ‘ভোরি’ মানে পিছনে যাও’, ‘মাইল' মানে ‘সাবধান’। মাহুতের এমন হুকুম তামিল করতে হাতিরা অভ্যস্ত। একইভাবে কুকুরেরাও প্রভুর হুকুম পালন করতে ওস্তাদ।
এ ছাড়াও দেখা যায়, গাড়োয়ান গোরুকে ‘র-হ' বললে সে থেমে যায়। ‘আয় আয়' করে বিড়ালকে ডাকলে সে কাছে আসে। কুকুরকে ‘ছুঃ ছুঃ’ করে বললে সে ছুটে ধরতে যায়। হাঁসকে চৈ চৈ' করে ডাক দিলে সে কাছে আসে।
৫.৩ রিউবেন ক্যাস্টাং-এর অভিজ্ঞতার কথা পাঠ্যাংশে কীভাবে স্থান পেয়েছে, তা আলোচনা করো।
উত্তর রিউবেন ক্যাস্টাং ছিলেন একজন পশুপ্রেমী। প্রায় চল্লিশ বছর তিনি পশুপাখির সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করে, তাদের আদবকায়দা শিক্ষা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি পশুর ভাষা বেশ বুঝতে পারেন। তিনি বহুবার জংলি হাতির সামনে পড়েছেন, বাঘের গরম নিশ্বাস অনুভব করেছেন, চোখের সামনে দেখেছেন ভালুকের থাবা, গরিলা তাকে প্রায় জড়িয়ে ধরেছে, তবুও তিনি তাদের হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন, কারণ তিনি পশুদের ভাষার জ্ঞান আয়ত্ব করতে পেরেছিলেন। পশুদের ভাষা তিনি কিছু জানতেন বলেই তিনি অনেকবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেছেন পশুদের আদবকায়দা অনুসারে চলতে পারলে বিশেষ ভয় থাকে না। খাঁচার এবং জঙ্গলের—অর্থাৎ পোষা ও বুনো দুই অবস্থার জন্তুদের সঙ্গেই তাঁর আলাপ-পরিচয় ঘটেছে। তাঁর পশু-বন্ধুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—শিম্পাঞ্জি, গরিলা, সিংহ, ভালুক ইত্যাদি। পশুদের গলার শব্দ অবিকল নকল করতে পারতেন তিনি, আর তার জন্য তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতানো সহজ হয়েছে। তিনি বলেন পশুরা ইশারার মাধ্যমেও অনেক কিছু বোঝায়—সেটাও একপ্রকার ভাষা। তিনি বলেছেন হিংস্র পশুদের মেজাজ বুঝে খুব সাবধানে তার গায়ে হাত দিতে হয়। বাঘের থেকে চিতা সহজে ভাব পাতায়। ভালুক নিরামিষাশী আর খাবার দিলেই সে সহজে ভাব পাতায় কিন্তু আমিষাশীরা খাবার সময় কারো সঙ্গে ভাব করে না ৷ এইভাবে আলোচ্য পাঠ্যাংশে রিউবেন ক্যাস্টাং-এর অভিজ্ঞতার কথা স্থান পেয়েছে।
৫.৪ 'একেও ভাষা বলতে হবে।'—কাকে 'ভাষা'র মর্যাদা দিতে হবে বলে বক্তা মনে করেন ? তুমি কি এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর প্রশ্নোক্ত অংশটি সুবিনয় রায়চৌধুরীর ‘পশু-পাখির ভাষা’ নামক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব। তিনি বলেছেন ‘পশুরা শুধু শব্দের
সাহায্যে কথা বলে না, নানারকম ইশারাও করে। কুকুরের লেজ নাড়া আর কান নাড়ার মধ্যে কত অর্থ আছে।'—পশুদের এই প্রকার ইঙ্গিতকেও ক্যাস্টাং সাহেব 'ভাষা'র মর্যাদা দিতে চেয়েছেন।
হ্যাঁ, আমিও ক্যাস্টাং সাহেবের এরূপ বক্তব্যকে সমর্থন করি। কারণ ভাষার মাধ্যমে ভাবের আদান প্রদান হয়, কারো মনোভাব বোঝা যায়। প্রাণীরা তাদের অঙ্গের বিশেষ ব্যবহারের মাধ্যমে কিছু বোঝাতে চাইলে তাকেও তো ভাষা বলাই উচিত। কারণ এই অঙ্গ সঞ্চালন বা ইশারার মাধ্যমে তো কোনো কিছুকে বোধগম্য করে তোলা হচ্ছে। তাই একে আমি ‘ভাষা’ বলে সমর্থন করি।
৫.৫ ‘তাই তারা স্বভাবতই নীরব।’--কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের এই স্বভাবগত 'নীরবতা'র কারণ কী ?
উত্তর আলোচ্য অংশটি সুবিনয় রায়চৌধুরী লেখা ‘পশু-পাখির ভাষা নামক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে । আলোচ্য প্রবন্ধে জঙ্গলের পশুদের নীরব থাকার কথা বলা হয়েছে। মা পোষা জন্তুরা জঙ্গলের জন্তুদের থেকে বেশি চিৎকার বা হট্টগোল করে, অন্যদিকে বলা যায় যে জঙ্গলের পশু-পাখিরা অনেকাংশেই নীরব থাকে। জঙ্গলে পশুরা সর্বদাই প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টায় লিপ্ত থাকে, তাই অনেক সতর্কতার সঙ্গে বনে-জঙ্গলে তাদের চলাচল করতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বনের পশুপাখি অনেক বেশি নীরবতার মধ্যে দিন কাটায়।
৫.৬ ‘এরা তো মানুষেরই জাতভাই।'—কাদের ‘মানুষের জাতভাই' বলা হয়েছে? তা সত্ত্বেও মানুষের সঙ্গে তাদের কোন্ পার্থক্যের কথা পাঠ্যাংশে বলা হয়েছে, তা লেখো।
উত্তর প্রাবন্ধিক সুবিনয় রায়চৌধুরীর ‘পশু-পাখির ভাষা' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া এই উদ্ধৃত অংশটিতে ‘মানুষের জাতভাই' বলতে বোঝানো হয়েছে শিম্পাঞ্জি, ওরাং ওটাংদের। এই প্রাণীদের লেখক ‘মানুষের জাতভাই’বলে তুলে ধরেছেন। কারণ তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন ভালোবাসা, স্নেহ, সহানুভূতি ইত্যাদি মানবসুলভ অনুভূতিগুলি এদের মধ্যে কম-বেশি বিদ্যমান। তাই অন্যের সঙ্গে সহজেই এরা ভাব জমাতে পারে। গরিলাদেরও লেখক একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এরা একই প্রজাতির। তবে শিম্পাঞ্জি ও ওরাং ওটাংদের থেকে চালাকি বুদ্ধি গরিলার কম। তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এরা মানুষের সমকক্ষ নয়। কারণ মানুষ অতি বুদ্ধিমান। ভাবপ্রকাশের জন্য তার উন্নত ভাষা আছে। মনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ভাবকেও সে ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করতে সক্ষম। কিন্তু এই গোত্রের প্রাণীরা মনের ভাব মৌখিক অভিব্যক্তি মারফতই প্রকাশ করতে পারে। ভাষা ব্যবহারের বৌদ্ধিক দক্ষতা এদের নেই।
৫.৭ তোমার পরিবেশে থাকা জীবজন্তুর ডাক নিয়ে তুমি একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো ।
উত্তর আমার পরিবেশে কয়েকপ্রকার পশুপাখির ডাক আমি প্রায়ই শুনতে পাই। যেমন—প্রথমে বলি কুকুরের কথা। কুকুর খুব রেগে গেলে ‘ঘেউ ঘেউ' চিৎকার করে। ওরা মানুষের কাছ থেকে কিছু আবদার করার সময় ‘কিউ কিউ' করে। আবার রাতের বেলায় অনেক সময় কান্নার মতো একটানা শব্দ করে। গোরুর ডাক শুনতে পাই ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দে। যখন বিড়াল রেগে যায় তখন তাদের গলা থেকে ‘ঘ-র-র, ঘ-র-র' মতো ধ্বনি বের হয়। অন্য সময় ‘ম্যাও ম্যাও' করে ডাকে। সকাল থেকে কিছু পাখির ডাকও আমি শুনি। যেমন—চড়াই পাখির কিচির-মিচির’, পায়রার ‘বক্-বকম্’ টুনটুনির ‘টুই টুই’, কোকিলের সুর করে 'কুহু' ধ্বনি, ঘুঘুর ডাক, কাকের ‘কা-কা’, শালিকের একটু জোরে ‘শিষের মতো' ধ্বনি, টিয়ার ডাক বেশ শুনতে পাই। মাঝে মাঝে শালিকের ঝগড়াও শুনতে পাই। এ ছাড়াও বহু ধরনের পাখির ডাকের শব্দ সারাদিনই শোনা যায়। বর্ষা হলে ডোবা থেকে ব্যাঙের একটানা ‘ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর’ ডাক ভেসে আসে। পুকুরের সামনে দাঁড়াতে হাঁসেদের ‘প্যাক প্যাক' ডাক শুনতে পাই। এইভাবে সারাদিনই আমি আমার পরিবেশে পশুপাখির ডাক শুনে থাকি ।
৭.৮ এমন একটি গল্প লেখো যেখানে পশুপাখিরা মানুষের সঙ্গে মানুষেরই মতো কথাবার্তা বলেছে আর তাদের মধ্যে অপরূপ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।
উত্তর তখন ঘোর বর্ষা, সারাদিন ধরে একটানা বৃষ্টি পড়েই চলেছে। বিরাট বড়ো বাড়িটায় কাজল একা। বাবা-মা অফিসে। কাজের মাসিও কখন চলে গেছে। শরীরটা খারাপ বলে কাজলকে স্কুলে যেতে হয়নি। সে প্রথমে আঁকার খাতাটা টেনে নিয়ে ছবি আঁকতে বসল। কিন্তু আঁকার কাজ একসময় তাকে ছাড়তে হল। সে পশুপাখির ছবি আঁকতে ভালোবাসে। আঁকতে গিয়ে সবার শরীরের সব অবয়ব তার নিখুঁত মনে পড়ছিল না। বইয়ের তাক থেকে সে ‘কথা ও ছবিতে পশুপাখি' বইটা পেড়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। আগে ছবিগুলো ভালো করে দেখা দরকার। ছবিগুলো ভালো করে দেখতে দেখতে সে বইয়ের মধ্যে হারিয়ে গেল।
কাজল দেখল তার চারপাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে চেনা সব পশুপাখিরা। প্যাঁক প্যাঁক করে হাঁস বলল—‘আমি তোমার পাশের পুকুরটায় চড়তে আসি, আমায় চিনতে পারছ না ?' কাজল ঘাড় নেড়ে জানাল—হ্যাঁ, সে চিনতে পেরেছে। অমনি একটা মোরগ বলল, ‘সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসবে বলে, আমি ভোরে উঠে কোঁকর-কোঁ করে ডেকে তোমার ঘুম ভাঙিয়ে দিই।' ঘাড় নেড়ে কাজল মোরগকে তার কৃতজ্ঞতা জানাল । একটা চড়ুই ঠোট ফাঁক করে ‘কিচিরমিচির’বলে লাফাতে লাগল। কাজল ভালো করে দেখে তাকেও চিনতে পারল— এ তো সেই চড়ুইটা, যে রোজ পড়ার সময় তার জানালায় এসে বসে। চড়ুইটার দিকে হাত বাড়াতেই সে কাজলের হাতে উঠে এল। এবার কাজলের চোখ পড়ল দুটি পায়রার দিকে। এরা তাদের বাড়ির কার্নিশে বাসা বেঁধে থাকে। কাজল তাদের চিনতে পারল। পায়রা দুটির পিঠে আদর করে হাত বুলিয়ে কাজল মৃদু হাসল। এবার তিনটি শালিকের দিকে চোখ পড়ল তার । সে বুঝতে পারল, এরাই তাদের রান্নাঘরের চালে বসে ঝগড়া করে। কাজল তাদের ধরতে যেতেই তারা উড়ে গিয়ে বসল বনকদমের ডালে।
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 6
0 Comments