সূচিপত্র
- লেখক পরিচিতি
- পাঠ প্রসঙ্গ
- বিষয় সংক্ষেপ
- নামকরণ
- সঠিক উত্তর নির্বাচন করে
- অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
মন ভালো করা
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কবি পরিচিতি
আধুনিক বাংলা কাব্যসাহিত্যের এক স্মরণীয় কবি হলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় নৈঃশব্দ্য' প্রকাশিত হয় ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে। কবির প্রায় ৪২টি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ‘সোনার বহড়ু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বামদেব, মাতা কমলাদেবী। ছাত্রজীবন থেকেই যাব' কাব্যের জন্য ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ‘সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার তাঁর কবিতাপ্রীতি লক্ষ করা যায়। প্রথম কবিতা ‘যম’ বুদ্ধদেব বসুর ছাড়াও তিনি ‘রবীন্দ্র’ পুরস্কার, ‘আনন্দ' পুরস্কারও লাভ করেন। ‘কবিতা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হে প্রেম, হে ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ তিনি পরলোকগমন করেন।
পাঠ প্রসঙ্গ
প্রকৃতি বিভিন্নভাবে মানুষের মনে প্রভাব ফেলে ছিল। সে কখনো প্রকৃতি অকৃপণ হাতে দানের ডালি উজাড় করে দিয়েছিল । মন ভালো করার উদ্যোগকে কবি মাছরাঙ্গা গায়ের মত তুলনা করেছিলেন ।
বিষয় সংক্ষেপ
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় মন ভালো-করা রোদ্দুরের সঙ্গে কবি নিজেকে দারুণ খুশি করে তোলে। মন ভালো-করা রোদ্দুরের রং মাছরাঙার গায়ের রঙের আশ্চর্য মিল খুঁজে পেয়ে অবাক হয়েছেন। মন-ভালো-করা ঝলমলে রোদ্দুর যেমন কবিকে আলোড়িত করে তুলেছে। কেন মাছরাঙা পাখির গায়ের রঙের মতো, এই প্রশ্নই বারবার আনন্দ দেয় তেমনি মাছরাঙার গায়ের উজ্জ্বল বর্ণময় ছটাও যেন কবিকে দারুন খুশি করে তোলে । মন ভালো করার রোদ্দুরের রং কেন মাছরাঙ্গা পাখির গায়ের মতন এই প্রশ্নই বারবার কবিকে আলোকিত করে তুলেছে ।
নামকরণ
নামকরণ সাহিত্যের অন্যতম প্রধান উপাদান। নামকরণের মাধ্যমেই রচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগাম ধারণা করা যায়। অন্ধকার কেউ পছন্দ করে না। সবাই চায় আলো। আর সেই আলো যদি হয় ঝলমলে রোদ্দুর, তবে তা মনকে দোলা দেয়, মনকে আনন্দিত করে তোলে। প্রকৃতিতে প্রাণীরা সেই রোদ্দুরের খোঁজ করে। প্রকৃতি নিজের হাতে সাজিয়ে তুলেছে মাছরাঙা পাখিকে। রোদের মধ্যে থাকে যে আলো, তার প্রায় সব রং-ই মাছরাঙার শরীরের রঙে মত। নীল-নীলান্ত থেকে শুরু করে লাল-হলুদ-সবুজের সমারোহ তার পালকে। কোথাও সেই রং তীব্র আবার কোথাও বা হালকা। তা রোদ্দুরের মতোই মনকে তৃপ্তি দেয়, মনকে ভালো করে তোলে। প্রকৃতি হাওয়ার সাথে, আলোর সাথে মিশিয়ে সেই রঙে রাঙিয়ে তোলে মাছরাঙাকে। সেই মনোমুগ্ধকর রঙের বাহারে কবিও আনন্দিত । সমগ্র কবিতাটিই আলোচিত হয়েছে 'মন-ভালো-করা’র প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করেই। তাই কবিতাটির নামকরণ সার্থক হয়েছে বলে মনে করি।
সঠিক উত্তর নির্বাচন কর ।
১. কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন- বনগাঁয় / চাটগাঁয় /বহড়ুগাঁয় ।
উত্তর বহড়ুগাঁয়
২. মন ভালো করে - রোদ / বৃষ্টি / ঝড় ।
উত্তর রোদ।
৩. রোদ্দুর- মাছ / হাঁস / মাছরাঙ্গার মত ।
উত্তর মাছরাঙ্গার ।
৪. মাছরাঙ্গা গায়ে - রোদ / বৃষ্টি / আলো পড়ে।
উত্তর আলো
৫. হওয়া বাতাসে - ফুল/ ফল / পাতা নড়ে।
উত্তর পাতা
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 6
পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি
১. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও
১.১ শক্তি চট্টোপাধ্যায় কোন কলেজের ছাত্র ছিলেন ?
উত্তর শক্তি চট্টোপাধ্যায় কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ছাত্র ছিলেন ।
১.২ তার রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখ ।
উত্তর তার রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ হলো যেতে পারি কিন্তু কেন যাব আরো একটা হল হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান ।
২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :
২.১ কবিতায় কবির মনে কোন কোন প্রশ্ন জেগেছে তা নিজের ভাষায় লেখো ।
উত্তর কবিতাটিতে যে প্রশ্ন কবির মনে বারে বারে এসেছে, তা হল—মন ভালো করে যে রোদ, তা কেন মাছরাঙা পাখির গায়ের রঙের মতন? যে দীর্ঘাকার রং মাছরাঙার গায়ে ছড়িয়ে আছে তা কেনই বা এত তীব্র অর্থাৎ গাঢ়, আবার কেনই বা তা শান্ত-স্নিগ্ধ? মাছরাঙার গায়ের রং কি লাল-হলুদ আর সবুজ মাখানো বনের মতো?—এমন প্রশ্নই কবির মনে সৃষ্টি হয়েছে।
২.২ মন ভালো-করা রোদ্দুরকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘মন ভালো-করা' কবিতায় কবি মন-ভালো-করা রোদ্দুরকে মাছরাঙার সঙ্গে তুলনা করেছেন। মাছরাঙার সারা শরীরে নীল, লাল, হলুদ, সবুজ প্রভৃতি বিভিন্ন রঙের শোভা দেখা যায়, যা মনকে তৃপ্তি দেয় রোদের মতনই। তাই মন-ভালো-করা রোদ্দুরকে কবি মাছরাঙার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
২.৩ মাছরাঙা পাখির রং কবির চোখে কীভাবে ধরা পড়েছে?
উত্তর প্রকৃতি তার অকৃপণ দানে জীবকে সাজিয়ে তোলে। প্রকৃতির বিভিন্ন রং মাছরাঙার পাখায় অর্থাৎ সারা শরীরে মাখামাখি হয়ে আছে। সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণ যেন ঘটেছে মাছরাঙার শরীরে। তাই সেখানে নীলের তীব্র ও শান্ত বাহার যেমন আছে, তেমনই লাল-হলুদ-সবুজের সমাবেশ ও রয়েছে। প্রকৃতির এত রং যেমন মন-ভালো-করা রোদের মধ্যে আছে, তেমনই আছে মাছরাঙার সৌন্দর্যেও। সৌন্দর্যের পূজারি কবির চোখে মাছরাঙার রঙের বাহার উজ্জ্বলভাবে ধরা পড়েছে।
২.৪ গাছের ডালে বসা মাছরাঙা পাখিটি কীভাবে কবি কল্পনাকে প্রভাবিত করেছে, তা বুঝিয়ে দাও ।
উত্তর ডালে বসা মাছরাঙা তার বর্ণময় রঙের বাহারে কবিকে মুগ্ধ করেছে। কবি অনুভব করেছেন মনকে ভালো করে তোলা রোদের মতনই মাছরাঙার অঙ্গের শোভাও মনোমুগ্ধকর। প্রকৃতি নানা রং দিয়ে মাছরাঙাকে সাজিয়ে তুলেছে। সেই রং যেমন তীব্র, আবার তা শান্ত-স্নিগ্ধও। কবির কল্পনাপ্রবণ মানসিকতায় তা রাঙা রোদের মতোই বর্ণময় হয়ে উঠেছে। এভাবে মাছরাঙাটি তার রঙের যাদুতে কবিকল্পনাকে প্রভাবিত করেছে।
আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 6
পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি
0 Comments