কুমোরে পোকার বাসাবাড়ি গল্পের প্রশ্ন উত্তর | গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য | Kumore Pokar Bashabari Question Answer | Class 6 | Wbbse

 

কুমোরে পোকার বাসাবাড়ি গল্পের প্রশ্ন উত্তর | গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য | Kumore Pokar Bashabari Question Answer | Class 6 | Wbbse


সূচিপত্র

  • লেখক পরিচিতি
  • উৎস
  • পাঠপ্রসঙ্গ
  • বিষয়সংক্ষেপ
  • নামকরণ
  • অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
  • সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
  • রচনাধর্মী প্রশ্ন



কুমোরে পোকা বাসা বাড়ি 


গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য

লেখক পরিচিতি


একজন বিশিষ্ট পতঙ্গ-বিজ্ঞানী ও প্রকৃতিবিজ্ঞানী রূপে গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য পরিচিত। বর্তমান বাংলা দেশের ফরিদপুরে | বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক রচনার জন্য ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে রচনাগুলি বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছে। ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম অম্বিকা চরণ ভট্টাচার্য এবং মাতা হলেন শশী মুখী দেবী। তিনি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার' অর্জন করেছেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য  প্রকৃতির গ্রন্থগুলি হল – ‘বাংলার মাকড়সা’, ‘বাংলার কীটপতঙ্গ”,  ‘পশু-পাখি-জীবজন্তু' ইত্যাদি। জীবজগতের নানা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ডি এস সি সম্মান পেয়েছেন  ।

উৎস


বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের ‘বাংলার কীটপতঙ্গ' নামক প্রবন্ধ থেকে ‘কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি” নামক রচনাটি নেওয়া হয়েছে

পাঠপ্রসঙ্গ


বাংলার এক অতিপরিচিত পোকা হল কুমোরে-পোকা। কীটপতঙ্গ যে নিজেদের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন সে-কথা লেখক পাঠ্য প্রবন্ধে আলোচনা করেছেন। পাঠ্যাংশটিতে লেখক কুমোরে-পোকার বাসা নির্মাণ কৌশল ডিম পাড়ার অনুকূল পরিবেশের বর্ণনা দিয়েছেন। অতি নগণ্য কীটপতঙ্গ যে নিজেদের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন সে কথাই লেখক পাঠ্যতে আলোচনা করেছেন।

বিষয়সংক্ষেপ


কালো লিকলিকে কুমোরে-পোকারা ঘরের আনাচকানাচে দেওয়ালের গায়ে মাটির বাসা তৈরি করে। ডিম পাড়ার সময় হলেই বাসা তৈরির জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে বেড়ায়। স্থান ঠিক হলে নিকটবর্তী স্থান থেকে কাদামাটি মুখে করে নিয়ে আসে। কখনো-কখনো দেড়-দুশো গজ দূর থেকেও মাটি নিয়ে আসে। পুকুর, নালা বা ডোবা যত দূরেই থাকুক-না-কেন, সেখান থেকেই ভিজে মাটি এনে তারা বাসা তৈরি করে। একটি কুঠুরি তৈরি হলেই তার মধ্যে উপযুক্ত খাদ্য, পোকামাকড় ভরতি করে তাতে একটিমাত্র ডিম পেড়ে কাদামাটি দিয়ে মুখ বন্ধ করে। তারই গা ঘেঁসে নতুন কুঠুরি নির্মাণ করতে থাকে কুমোরে-পোকারা যখন মুখ দিয়ে মাটি খুঁড়ে তোলে তখন তীক্ষ্ণ স্বরে একটানা গুনগুন শব্দ করে। মুখ দিয়ে চেপে চেপে দেয়ালের গায়ে মাটিকে বসিয়ে দেয়। পুকুরধারে মাটি তোলা সময় মাছির মতো ক্ষুদ্র পোকা দেখতে পেলেই কুমোরে পোকার তাদের আক্রমণ করে। প্রায় সওয়া ইঞ্চি লম্বা হলেই গাঁথুনি শেষ হয়। এক-একটি কুঠুরি বানাতে প্রায় দু-তিন দিন সময় লাগে তারা ভ্রমণরত মাকড়সাদের শিকার করে, তাদের অসাড় শরীর কুঠুরির মধ্যে রেখে দেয়। ডিম পেড়েই তারা নতুন শিকারের সন্ধানে বের হয়। সারাদিনে ১০-১৫ টা মাকড়সা এনে কুঠুরির মুখ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। এক-একটি বাসায় প্রায় ৪-৫টি কুঠুরি তৈরি করে তারা। ডিম পাড়া শেষ হলেই সেই বাসা ছেড়ে তারা অন্যত্র চলে যায়, বাচ্চাদের খাদ্য সঞ্চিত রাখা পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব ।

নামকরণ

সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নামকরণ। প্রধানত নামকরণের মাধ্যমেই রচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া যায়। বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য রচিত ‘কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি' নামক রচনায় কুমোরে-পোকাদের জীবন বৃত্তান্তের একটি  টুকরো ছবি পাওয়া যায়। আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক আলোচনা করেছেন— কীভাবে কুমোরে-পোকারা তাদের বাসস্থান বা কুঠুরি তৈরি করে । কোথা থেকে মাটি সংগ্রহ করতে হবে, কীভাবে বাসাকে সুরক্ষিত করতে হবে, কীভাবে বাসায় খাদ্য বা আহার মজুত রাখতে হবে, তা কুমোরে-পোকারা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে। সমস্ত কিছু ঠিকঠাক হলে তারা বাসায় ডিম পাড়ে, তারপর বাসার মুখ বন্ধ করে অন্যত্র চলে যায়। আলোচ্য রচনার প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে কুমোরে পোকাদের বাসা নির্মাণের কাহিনি। বাসা নির্মাণের মধ্যে তাদের যে শ্রম ও কৌশলের পরিচয় রয়েছে, তা প্রকাশ করেছেন সবদিক বিচার করে বলা যায় যে, আলোচ্য রচনাটির নামকরণ সার্থক হয়েছে।


১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :


১.১ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য বাংলা ভাষায় কী ধরনের লেখালেখির জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন ?


উত্তর গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক রচনা বিশেষত কীটপতঙ্গ বা পোকামাকড়দের উপর লেখালেখির জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন।


১.২ তাঁর লেখা একটি বইয়ের নাম লেখো ৷


উত্তর তাঁর লেখা একটি বইয়ের নাম হল ‘বাংলার কীটপতঙ্গ'।


২ নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:


২.১ কুমোরে-পোকার চেহারাটি কেমন?


উত্তর কুমোরে-পোকার দেহ লিকলিকে সরু। এদের সমগ্র শরীরটি আগাগোড়া মিশমিশে কালো, কেবল বোঁটার মতো মাঝের অংশটি হলুদ রঙের।


2.2 কুমোরে-পোকা কী দিয়ে বাসা বানায় ?


উত্তর কুমোরে-পোকা ভিজে মাটি অর্থাৎ নরম কাদামাটি দিয়ে বাসা বানায় ।


২.৩ কোনো অদৃশ্য স্থানে কুমোরে-পোকা বাসা বাঁধছে তা কীভাবে বোঝা যায় ?


উত্তর কুমোরে-পোকা কোথাও বাসা বাঁধার সময় তীক্ষ্ণ স্বরে গুনগুন করে। এই গুনগুন শব্দে বোঝা যায় কুমোরে-পোকা বাসা বাঁধছে।


২.৪ মাকড়সা দেখলেই কুমোরে-পোকা কী করে ?


উত্তর মাকড়সা দেখলেই কুমোরে-পোকা ছুটে গিয়ে তার ঘাড় কামড়ে ধরে; কিন্তু তাকে মেরে ফেলে না। শরীরে হুল ফুটিয়ে বিষ ঢেলে তাকে অসাড় করে রেখে দেয়। এক থেকে একাধিক বার এই হুল ফুটিয়ে থাকে। তারপর অসাঢ় মাকড়সাটিকে মুখে করে বাসায় নিয়ে আসে।

আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 6


ভরদুপুর

সেনাপতি শংকর

পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি

মন ভালো করা

পশু পাখির ভাষা

চিঠি

ঘাস ফড়িং

কুমোরে পোকা বাসা বাড়ি


৮ নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো :


৮.১ কুমোরে-পোকার বাসাবাড়িটি দেখতে কেমন ?

উত্তর কুমোরে-পোকার বাসাবাড়িটি দেখতে লম্বাটে এবড়ো- খেবড়ো শুকনো মাটির ডেলার মতো। এগুলি সাধারণত ঘরের আনাচকানাচে বা দেয়ালে লেগে থাকতে দেখা যায়।


৮.২ কুমোরে-পোকা বাসা বানানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেয় ?


উত্তর ডিম পাড়ার সময় হলেই কুমোরে-পোকা বাসা তৈরির জন্য উপযুক্ত স্থান খোঁজে। দু-চারদিন ঘুরেফিরে মনের মতো স্থান দেখতে পেলেই তার আশপাশে ঘুরে বিশেষভাবে পরীক্ষা করে দেখে। বারবার করে জায়গাটাকে দেখে নেয়। তারপর যতটা সম্ভব নিকটবর্তী স্থানে কাদামাটির সন্ধান করতে আরো দু-তিনদিন কেটে যায়। কাদামাটির খোঁজ পেলেই বাসা নির্মাণের স্থান থেকে সেখানে যাতায়াত করে রাস্তা চিনে নেয়। ৪০-৫০ গজ এমনকি দেড়-দুশো গজ দূর থেকেও তারা মাটি সংগ্রহ করে থাকে।


৮.৩ কুমোরে-পোকার বাসা বানানোর প্রক্রিয়াটি নিজের ভাষায় লেখো।


উত্তর কুমোরে-পোকারা প্রথমে বাসা নির্মাণের উপযুক্ত স্থান। নির্বাচন করে, তারপর কোথা থেকে মাটি সংগ্রহ করবে সেই স্থান ঠিক করে। প্রায় ৪০-৫০ গজ দূরে উড়ে গিয়ে নরম মাটি নিয়ে আসে। তবে কখনো-কখনো দেড়-দুশো গজ দূর থেকেও তারা মাটি সংগ্রহ করে থাকে। মাটি সংগ্রহ করার সময় ভিজে মাটির উপর বসে লেজ নাচাতে নাচাতে ঘুরেফিরে চারদিকটা দেখে নেয়। উপযুক্ত মনে হলেই সেখান থেকে ভিজা মাটি তুলে নিয়ে চোয়ালের সাহায্যে মটর দানার মতো গোল করে মুখে করে উড়ে যায়। মুখ দিয়ে চেপে চেপে দেয়ালটিকে দেয়ালের গায়ে অর্ধ-চক্রাকারে বসিয়ে দেয়। মাটি তোলার সময় এবং দেয়ালে তা বসানোর সময় মুখ দিয়ে গুনগুন স্বরে শব্দ করে। বারবার এক-এক ডেলা মাটি এনে ভিতরের দিকে ফাঁকা রেখে ক্রমে উপরের দিকে বাসা গেঁথে তোলে তারা। প্রায় সওয়া ইঞ্চি লম্বা হলেই গাঁথুনি শেষ করে। কুঠুরির মাটি শুকিয়ে গেলে কুমোরে-পোকা কুঠুরিতে প্রবেশ করে মুখ থেকে লালা নিঃসৃত করে তার সাহায্যে কুঠুরির ভিতরের দেয়ালে প্রলেপ মাখিয়ে দেয়। এভাবেই তারা বাসাবাড়ি তৈরি করে।


৮.৪ ‘এইসব অসুবিধার জন্য অবশ্য বাসা নির্মাণে যথেষ্ট বিলম্ব ঘটে।’—কোন্ অসুবিধাগুলির কথা এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?


উত্তর কুমোরে-পোকা তার বাসাবাড়ি নির্মাণের জন্য ভিজে মাটি সংগ্রহ করে। কোনো কারণে তার অসমাপ্ত বাসাটি যদি সে চিহ্নিত করতে না পারে বা তার বাসাটি যদি ভেঙে যায় তাহলে পোকাটি বাসা নির্মাণের প্রক্রিয়া পুনরায় নতুন করে শুরু করে। তা ছাড়া উপযুক্ত ভেজামাটির সন্ধানে পোকাটিকে ৪০-৫০ গজ থেকে ১৫০-২০০ গজ ব্যবধান অতিক্রম করতে হয়। একেকবারে সে ছোট্ট মটরদানার পরিমাণ মাটিই বহন করে আনতে পারে। এইসব কারণেই বাসা নির্মাণে যথেষ্ট বিলম্ব ঘটে থাকে।


৮.৫ কুমোরে-পোকার শিকার ধরার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো। শিকারকে সে কীভাবে সংগ্রহ করে ?


উত্তর : ডিম থেকে নতুন বাচ্চা বেরিয়েই তারা যাতে খাবার পায়, সেই উদ্দেশ্যেই কুমোরে-পোকারা শিকার করে। কারণ সদ্যোজাতর সেই অবস্থায় খাদ্য সংগ্রহ করার মতো সক্ষম হয় না । আমাদের দেশে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাকড়সা আছে, যারা জাল বোনে না কুমোরে-পোকারা এদেরকেই শিকার করে। এ ভ্রমণকারী মাকড়সাদের দেখতে গেলেই কুমোরে-পোকারা তাদের আক্রমণ করে কামড়ে ধরে, তাদের শরীরে হুল ফুটিয়ে বিষ ঢেলে নিস্তেজ বা অসাড় করে দেয়। তারপর সেই অসাড় মাকড়সা মুখে করে নবনির্মিত কুঠুরিতে রেখে দেয়। এভাবেই কুমোরে পোকারা শিকার সংগ্রহ করে। ।


৮.৬ ‘বাসার আর কোনো খোঁজ খবর নেয় না।'—কখন কামোরে-পোকা তার বাসার আর কোনো খোঁজ খবর নেয় না?


উত্তর কুমোরে-পোকারা একটি বাসার মধ্যে চার-পাঁচটি কুঠুরি নির্মাণ করে। সেখানে খাদ্য সংগ্রহ করে রাখে, তারপর প্রতি কক্ষে একটি করে ডিম পাড়ে। ডিম পাড়া সম্পূর্ণ হয়ে গেলেই সে তার ইচ্ছামতো স্থানে চলে যায়। এই সময় তারা পুরোনো বাসা বা বাচ্চাদের আর কোনো খোঁজখবর রাখে না।

আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 6


ভরদুপুর

সেনাপতি শংকর

পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি

মন ভালো করা

পশু পাখির ভাষা

চিঠি

ঘাস ফড়িং

কুমোরে পোকা বাসা বাড়ি



Post a Comment

0 Comments