ঘাসফড়িং কবিতার প্রশ্ন উত্তর | অরুণ মিত্র | GhashForing Question Answer | Class 6 | Wbbse

 

ঘাসফড়িং কবিতার প্রশ্ন উত্তর | অরুণ মিত্র | GhashForing Question Answer | Class 6 | Wbbse



সূচিপত্র

  • লেখক পরিচিতি
  • পাঠ প্রসঙ্গ
  • বিষয় সংক্ষেপ 
  • নামকরণ
  • অতি সংক্ষিপ্ত
  • বাক্যের উদ্দেশ্য বিধেয়
  • বিশেষ্য বিশেষণ রূপান্তর
  • বাক্য পরিবর্তন
  • অনুসর্গ উপসর্গ
  • সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন

ঘাস ফড়িং

অরুণ মিত্র


কবি পরিচিতি

আধুনিক বাংলা কবিতার একজন বিশিষ্ট কবি হলেন অরুণ মিত্র। অধুনা বাংলাদেশের যশোহর জেলায় ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ২ নভেম্বর কবির জন্ম হয়। পিতা হীরালাল মিত্র, মাতা যামিনীবালা। পারিবারিক পরিবেশেই সাহিত্যচর্চার সুযোগ এসেছিল তাঁর, সুতরাং কৈশোরকালেই তাঁর সাহিত্যরচনায়  হাতেখড়ি হয়। যশোহরে প্রাথমিক শিক্ষার অবসানে তিনি চলে আসেন কলকাতায়। উচ্চশিক্ষায় তাঁর অধ্যয়নক্ষেত্র ছিল সুরেন্দ্রনাথ ও বঙ্গবাসী কলেজ। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-য় তাঁর কর্মজীবন শুরু, পরে চলে আসেন ‘অরণি' পত্রিকায়। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে ফ্রান্সে গিয়ে ফরাসি ভাষা-সাহিত্যেও ডক্টরেট হয়ে ফিরে আসেন ।বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তাঁর পারদর্শিতা তো ছিলই, ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যেও তিনি বিশেষজ্ঞে পরিণত হন । ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। সমাজতান্ত্রিক মনোভাবের এই কবি উদার মানবতাবাদে বিশ্বাস করতেন। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ফ্রান্সে অতিবাহিত করার সূত্রে বৈদেশিক সাহিত্য এবং বোদ্ধাদের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য তাঁর সাহিত্যবোধকে প্রাণিত করেছিল। তাঁর একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বোধগম্যতা ছিল সত্য, তবে সেই বোধের রাজনৈতিক বন্ধনে তিনি তাঁর কবিতাকে আবদ্ধ রাখতে চাননি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রান্তরেখা’। এ ছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হল—‘ঘনিষ্ঠ তাপ’, ‘শুধু রাতের শব্দ নেই”, ‘খুঁজতে খুঁজতে এতদূর’,‘শেষ সরাইখানা’, ‘উৎসের দিকে’, ‘মঞ্চের বাইরে মাটিতে”, ‘উচ্ছন্ন পৃথিবীর সুখ-দুঃখ’, ‘এই অমৃত এই গরল’ইত্যাদি। ফরাসি সাহিত্য নিয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য একটি প্রবন্ধগ্রন্থ 'ফরাসি সাহিত্য প্রসঙ্গে’। ‘শুধু রাতের শব্দ নেই” কাব্যের জন্য ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি লাভ করেন ‘রবীন্দ্র’ পুরস্কার। ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে ‘খুঁজতে খুঁজতে এতদূর' কাব্যটি তাঁকে এনে দেয় ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কার’। তিনি ‘আনন্দ’ পুরস্কারও লাভ করেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘ডিলিট’ উপাধি প্রদান করে। ফরাসি সরকার প্রদান করে ‘লিজিয়ন অব অনার'। অনুবাদকর্মেও তিনি ছিলেন অক্লান্ত। ২০০০ খ্রিস্টাব্দের ২২ আগস্ট কবি দেহত্যাগ করেন।

পাঠ প্রসঙ্গ


প্রকৃতি আমাদের মনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে । অর্থাৎ প্রকৃতি থেকে কিছুতেই দূরে সরে থাকতে পারি না আমরা । যাকে আমরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করি, সেই সবুজ ঘাসও আমাদের মনকে নাড়া দিতে পারে। আবার ঘাসের মাথায় যে ফড়িংটি নিজের মতো করে খেলে বেড়ায় তার মধ্যে থেকে আমরাও আনন্দের উপকরণ খুঁজে পেয়েছি ।

বিষয় সংক্ষেপ


কর্ম উপলক্ষ্যে কবি অরুণ মিত্রকে জন্মভূমি থেকে দূরে বিদেশ থাকতে হয়েছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা তাতে এতটুকুও কমেনি। তাঁর অন্তরে সযত্নে রক্ষিত হয়েছিল মাতৃভূমির আঁচলের হাওয়া। কারণ মাতৃভূমির প্রতিটি ধূলিকণাও কবির চেতনাকে আলোড়িত করে তুলেছিল । তারই পরিচয় পাওয়া যায় ‘ঘাসফড়িং' কবিতাটিতে। জন্মভূমিকে ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে কবির ভাব হয়েছিল একটি ‘ঘাসফড়িং’-এর সঙ্গে। ঝিরঝিরে বৃষ্টির পরে কবি যখন ভিজে নরম ঘাসে পা ফেলেছেন, তখনই তাঁর দৃষ্টি পড়েছিল ঘাস ফড়িংটির উপর। আর তখনই ঘাস ফড়িংটির সঙ্গে কবির বন্ধুত্ব হয়েছিল । তার উপর থেকে চোখ সরিয়ে নিতে পারেননি কবি। ঘাসফড়িংটি ছোটো সবুজ মাথা তুলে নানা ধরনের খেলা দেখিয়ে মুগ্ধ করেছিল কবিকে। কবি তা ভুলতে পারেননি। ঘাস ফড়িংটিকে ছেড়ে আসতে কবির একেবারেই মন চাইছিল না । তাই কবি তাকে কথা দিয়েছিলেন যে মাতৃভূমিতে তিনি আবার ফিরে আসবেন, তাঁর বন্ধুর কাছে। কারণ কবির মনে সৃষ্টি হওয়া জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা সবুজ এবং সততই সজীব। তাই আজ যখন ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, কবির মনে পড়ে যায় মাতৃভূমির কথা, বন্ধু ‘ঘাসফড়িং’-এর কথাও। আর মনের মধ্যে আলোড়িত হয় যে তাঁকে আবার জন্মভূমির টানে, বন্ধুর টানে জন্মভূমির ভিজে ঘাসের বুকে ফিরে যেতেই হবে।

নামকরণ

নামকরণ সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রধানত নামকরণে কবি জন্মভূমি থেকে দূরে সরে থাকলেও, মনের ভিতরে রয়ে যায় জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা ও টান ,রচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগাম ধারণা করা যায় ঝিরঝিরে বৃষ্টির পরে একদা কবি যখন নরম ভিজে ঘাসে পা রেখেছেন, তখনই তিনি একটি ঘাসফড়িং কে দেখতে পান। ঘাসফড়িং টি কবির মনকে হরণ করে নিয়েছিল। ঘাসফড়িং টি সবুজ মাথা তুলে নানারকম খেলা দেখিয়েছিল। তাকে ছেড়ে যেতে কিছুতেই মন চাইছিল না কবির। কবির মন বেদনায় পূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাই কবি তাকে কথা দিয়েছিলেন যে মাতৃভূমিতে আবার ফিরে আসবেন তিনি, ফিরে তিনি আসবেনই ঘাসফড়িং বন্ধুর কাছে। একদিকে জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা, আর-একদিকে বন্ধুকে কথা দেওয়া— দুইয়ের টানে তাঁকে যেন আসতেই হবে প্রকৃতি মায়ের কোলে। কর্ম উপলক্ষ্যে গেছে মাতৃভূমির প্রতি প্রবল আকর্ষণ। তাই ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হলেই তাঁর মনে পড়ে জন্মভূমির কথা, মনে পড়ে ভিজে ঘাসের মাথায় বসা বন্ধু ঘাসফড়িং-এর কথা । আর মনের মধ্যে আলোড়িত হয়—তাঁকে আবার জন্মভূমির টানে ভিজে ঘাসের বুকে ফিরে যেতেই হবে। একটি ঘাসফড়িং কীভাবে কবির মনকে আকৃষ্ট করেছে তা-ই অরুণ মিত্রের ‘ঘাসফড়িং' কবিতার বিষয় হয়ে উঠেছে। কবি মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন ফড়িংটির প্রতি আন্তরিক টানে। কবি মনে বেদনা তৈরি হয়—তাও ঘাসফড়িংটিকে কেন্দ্র করেই। এভাবে ঘাসফড়িংটি কবির চেতনা জুড়ে অবস্থান করছে। তাই আলোচ্য কবিতার নামকরণ ‘ঘাসফড়িং’ সার্থক হয়েছে বলে মনে করি।


১. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও :


১.১ কবি অরুণ মিত্র কোন্ বিদেশি ভাষায় বিশেষজ্ঞ ছিলেন?


উত্তর কবি অরুণ মিত্র ফরাসি ভাষায় বিশেষজ্ঞ ছিলেন।


১.২ তাঁর লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।


উত্তর কবি অরুণ মিত্রের লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম শুধু রাতের শব্দ নেই’, ‘খুঁজতে খুঁজতে এতদূর’।


২ বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ আলাদা করে দেখাও:


২.১ ভাব না করে পারতামই না আমরা।


উত্তর উদ্দেশ্য—আমরা।


বিধেয়—ভাব না করে পারতামই না।


২.২ সবুজ মাথা তুলে কত খেলা দেখাল ঘাসফড়িং।

উত্তর উদ্দেশ্য—ঘাসফড়িং।


বিধেয়—সবুজ মাথা তুলে কত খেলা দেখাল ৷


২.৩ আমার ঘরের দরজা এখন সবুজে সবুজ।


উত্তর উদ্দেশ্য—আমার ঘরের দরজা।


বিধেয়—এখন সবুজে সবুজ।


২.৪ ভিজে ঘাসের ওপর আমাকে যেতেই হবে আবার । 

উত্তর উদ্দেশ্য—আমাকে।


বিধেয়—ভিজে ঘাসের ওপর যেতেই হবে আবার।


৩ নীচের শব্দগুলি বাক্যে ব্যবহার করে একটি অনুচ্ছেদ তৈরি করো: ভাব, ভিজে, নতুন, আত্মীয়তা, মনখারাপ, সবুজ, ঝিরঝির।


উত্তর আমাদের বাড়ির পাশের সবুজ মাঠটির সঙ্গে আমার খুব ভাব। মাঠের নরম ভিজে সবুজ ঘাসের উপর দিয়ে চলার সময় আমার মনে হয় যেন এক নতুন পৃথিবীর উপর দিয়ে হেঁটে চলেছি। মাঠটির পাশের বড়ো উঁচু নারকেল গাছগুলোর সঙ্গে ছোটোবেলা থেকেই আমার গভীর আত্মীয়তা গড়ে উঠেছে। বিকেলবেলায় একবার মাঠে গিয়ে বসতে পারলেই আমার যে-কোনো মনখারাপ নিমেষে উধাও হয়ে যায়। বর্ষাকালে মাঠটি যেন আরও সবুজে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ঝিরঝর করে যখন বৃষ্টি পড়ে, আমার প্রিয় মাঠটি যেন সেই সুযোগে তখন প্রাণভরে স্নান করে নেয়। আমি জানলায় দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে সে দৃশ্য দেখি।

আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 6


ভরদুপুর

সেনাপতি শংকর

পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি

মন ভালো করা

পশু পাখির ভাষা

চিঠি

ঘাস ফড়িং

কুমোরে পোকা বাসা বাড়ি


৪ নীচের বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণে এবং বিশেষণ শব্দগুলিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো:
আত্মীয়তা, ঘাস, সবুজ, নতুন ।


৪.১ আত্মীয়তা।


উত্তর আত্মীয়তা (বিশেষ্য)—আত্মীয় (বিশেষণ)।


৪.২ ঘাস।


উত্তর ঘাস (বিশেষ্য)—ঘেসো (বিশেষণ)।


8.3 সবুজ।


উত্তর সবুজ (বিশেষণ) –সবুজতা (বিশেষ্য)।


8.8 নতুন।


উত্তর নতুন (বিশেষণ)—নতুনত্ব (বিশেষ্য)।


৫ নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করো:


৫.১ সবুজ মাথা তুলে কত খেলা দেখাল ঘাসফড়িং। (যৌগিক বাক্যে)


উত্তর ঘাসফড়িং সবুজ মাথা তুলল এবং কত খেলা দেখাল ৷


৫.২ একটা ঘাসফড়িং-এর সঙ্গে আমার গলায় গলায় ভাব হয়েছে। (জটিল বাক্যে)


উত্তর যার সঙ্গে আমার গলায় গলায় ভাব হয়েছে, সে একটা ঘাসফড়িং।


৫.৩। যেই ঝিরঝির বৃষ্টি থেমেছে অমনি আমি ভিজে ঘাসে পা দিয়েছি। (সরল বাক্যে)।


উত্তর ঝিরঝির বৃষ্টি থামামাত্রই আমি ভিজে ঘাসে পা দিয়েছি।


৫.৪ আমার ঘরের দরজা এখন সবুজে সুবজ। (যৌগিক বাক্যে)


উত্তর আমার ঘরের দরজা এখন সবুজ এবং আরও সবুজ ।


৬. নীচের বাক্যগুলি থেকে শব্দবিভক্তি এবং অনুসর্গ খুঁজে নিয়ে লেখো:


৬.১ তার কাছ থেকে চলে আসার সময় আমার কী মনখারাপ।


উত্তর তার, কাছ, সময়, মনখারাপ–শূন্য' বিভক্তি; চলে—‘এ’ বিভক্তি; থেকে—অনুসর্গ; আসার, আমার—‘র’বিভক্তি।


৬.২ আমি কথা দিয়ে এসেছি।


উত্তর আমি, কথা, এসেছি—শূন্য' বিভক্তি; দিয়ে—অনুসর্গ।


৬.৩ ঝিরঝির বৃষ্টির পর আমি ভিজে ঘাসে পা দিয়েছি

উত্তর ঝিরঝির, আমি, ভিজে, পা, দিয়েছি—'শূন্য' বিভক্তি; বৃষ্টির—‘র' বিভক্তি, ঘাসে—‘এ’ বিভক্তি; পর—অনুসর্গ।


৬.৪ ভিজে ঘাসের ওপর আমাকে যেতেই হবে আবার

উত্তর ভিজে, আবার, হবে—‘শূন্য' বিভক্তি; আমাকে——কে’ বিভক্তি; ঘাসের—‘এর' বিভক্তি; ওপর—অনুসর্গ।


৭ নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো:


৭.১ কবির সঙ্গে ঘাসফড়িং-এর নতুন আত্মীয়তা কীভাবে গড়ে উঠল ?


উত্তর কবি অরুণ মিত্র তাঁর ‘ঘাসফড়িং' কবিতায় ঘাসফড়িং -এর সঙ্গে তাঁর নতুন বন্ধুত্বের কথা বলেছেন। একদিন যখন ঝিরঝিরে বৃষ্টি শেষ হয়েছে, তখন কবি তার বাড়ির পাশে মাঠে ঘাসের দিকে তাঁর দৃষ্টি পড়ে একটি ঘাসফড়িং সবুজ মাথা তুলে অনেকরকম খেলা দেখিয়েছিল। ফড়িংকে দেখে কবি মুগ্ধ হয়ে যান এবং এভাবেই কবির সঙ্গে ঘাসফড়িং-এর নতুন আত্মীয়তা গড়ে উঠেছিল।।


৭.২ কবির কৌতূহল ও ভালো লাগায় ঘাসফড়িং কীভাবে সাড়া দিল বলে তোমার মনে হয় ?


উত্তর ঝিরঝিরে বৃষ্টির পরে বৃষ্টিভেজা ঘাসে পা দিয়েই ঘাসফড়িংকে কবি দেখেন এবং শুরু হয়ে যায় তাদের ভাব পাতানো অর্থাৎ গড়ে ওঠে আত্মীয়তা। ফড়িংটির প্রতি কবির কৌতূহল, ভালো লাগার ব্যাপারটা যেন ফড়িংটিও অনুভব করতে পেরেছিল। তাই সেও আনন্দের সঙ্গে সবুজ মাথা তুলে নানা ধরনের খেলা দেখিয়ে নতুন বন্ধুকে মুগ্ধ করতে চেয়েছিল এবং এভাবেই সেই ঘাসফড়িং কবির কৌতূহল ও ভালোলাগায় সাড়া দিয়ে বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তাকে স্বীকার করে নিয়েছিল।


৭.৩ ঘাসফড়িং-এর কাছ থেকে চলে আসার সময় কবির মনখারাপ হল কেন বুঝিয়ে দাও ৷


উত্তর ঘাসফড়িং কবির মানসিকতায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সে নানা খেলা দেখিয়ে কবিকে মুগ্ধ করেছিল। কবি তার প্রতি আন্তরিক টান অনুভব করেছিলেন। তাই তাদের মধ্যে আত্মীয়তাও তৈরি হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই আত্মীয়ের থেকে দূরে সরে যেতে কখনোই ভালো লাগে না। কবিরও তাই ভালো লাগেনি। বন্ধুকে ছেড়ে থাকা দুঃখজনক ঘটনা, তা মনকে বেদনায় পরিপূর্ণ করে তোলে। এই কারণেই ঘাসফড়িং-এর কাছ থেকে চলে আসার সময় কবির মনখারাপ হয়েছিল।


৭.৪ বলে এলাম আমি আবার আসব”–পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির কোন্ মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে?


উত্তর উপরিক্ত অংশটি কবি অরুণ মিত্রের ‘ঘাসফড়িং’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এক বর্ষার দিনে কবির সঙ্গে আত্মীয়তা গড়ে উঠেছিল ঘাসফড়িং-এর। ফড়িং নানা খেলা দেখিয়ে কবিকে মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু কর্মের তাগিদে কবি ফড়িংটি কে ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তবে সেই বিচ্ছেদ বেদনা কবিকে আকুল করে তুলেছিল। তাই বিদায় নেওয়ার সময় কবি তাঁর বন্ধুকে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি আবার ফিরে আসবেন বন্ধুর কাছে। কবির এরূপ আচরণের মধ্য দিয়ে নতুন আত্মীয়ের প্রতি ভালোবাসা ও গভীর একাত্মতার প্রকাশ ঘটেছে। সেই সঙ্গে মাতৃভূমির প্রতিও তাঁর অন্তরের আকর্ষণের পরিচয় পাওয়া যায় ।


৭.৫ “আমার ঘরের দরজা এখন সবুজে সবুজ।”- কবির এরূপ সবুজের সমারোহ দেখার কারণ কী ?


উত্তর উপরিক্ত অংশটি কবি অরুণ মিত্রের ‘ঘাসফড়িং’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। ঘাসফড়িং এর সঙ্গে একদা এক বর্ষাভেজা দিনে আত্মীয়ত গড়ে উঠেছিল কবির। তবে কর্মের তাগিদে তাকে ছেড়ে চলে। যেতে বাধ্য হয়েছিলেন কবি। কিন্তু ফিরে আসার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন কবি। কারণ গ্রামবাংলা কবির মাতৃভূমি, আর তা তো সবুজে-শ্যামলে পরিপূর্ণ। কবির মনের আবেগ তো সতত নবীন, সততই সবুজ। কবির নতুন বন্ধু—সেও তো সবুজবরণ। জন্মভূমির প্রতি, ফড়িং-বন্ধুর প্রতি কবির ভালোবাসার রং তো সবুজই। সেই সবুজের টানেই তো কবি বন্ধুর কাছে ফিরে আসবেন। এই কারণেই কবির চোখে সর্বত্রই সবুজের সমারোহ ধরা পড়েছে।


৭.৬ “ভিজে ঘাসের ওপর আমাকে যেতেই হবে আবার।” -কোন্ ভিজে ঘাসের ওপর' কবিকে ফিরতেই হবে? সেখানে তিনি যেতে চান কেন ?


উত্তর কবি অরুণ মিত্র একদা ঝিরঝিরে বৃষ্টির পর ভিজে ঘাসে যেই পা রেখেছেন তখনই এক ঘাসফড়িং তাঁর দৃষ্টিগোচর এবং তখনই তাদের মধ্যে আত্মীয়তা তৈরি হয়। এখানে সেই ভিজে ঘাসের কথাই বলা হয়েছে, যেখানে ফড়িং-বন্ধুর সঙ্গে কবির  আত্মীয়তা তৈরি হয়েছিল। বন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কবি বন্ধুকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি আবার বন্ধুর কাছে ফিরে আসবেন ঝিরঝিরে বৃষ্টি কবিকে মনে করিয়ে দিয়েছে নতুন আত্মীয়ের কথা, তার প্রতিশ্রুতির কথা আর আত্মীয়ের প্রতি মনের গোপনে লুকিয়ে রাখা ভালোবাসারও জাগরণ ঘটেছে কবির মনে। তাই কবি আবার ফিরে যেতে ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন সেই ভিজে ঘাসের বুকে। যেখানে তার আপনজন  অপেক্ষা করে আছে।


৭.৭ প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার নিবিড় টান কীভাবে কবি অরুণ মিত্রের ‘ঘাসফড়িং' কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।


উত্তর কবি অরুণ মিত্রের শৈশব কেটেছে গ্রামবাংলার বুকে, ফলে প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ শিশুকাল থেকেই নিবিড়ভাবে অনুভব করেছেন তিনি। তাঁর প্রকৃতি-চেতনা শুধুমাত্র কথার কথা নয়, তা অন্তরের মাধুর্যে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা দুর্বল ঘাস থেকে শুরু করে সামান্য এক ঘাসফড়িংও তাঁর মনে স্থান করে নিয়েছে পরম সমাদরে। বৃষ্টিভেজা ঘাসে পা দিয়ে কবির চোখ পড়েছে এক ঘাসফড়িং-এর দিকে। ছোটো মাথা তুলে সেই ফড়িং নানারকমের খেলা দেখায়—আর সেই খেলা দেখেই আনন্দিত কবি। সেই মুহূর্তেই কবির সঙ্গে আত্মীয়তা তৈরি হয়েছে ফড়িং-এর। তাই তাকে ছেড়ে আসতে কবির মন খারাপ হয়ে যায় তাকে বিদায় জানানোর সময় কবি ফিরে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন। আসলে এই ‘আসা’ তো শুধু ফড়িং-এর জন্য নয়, কবি জানেন, পল্লির প্রকৃতির প্রতি কবির যে ভালোবাসা তাকে আজও টানে ।

আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন Class 6


ভরদুপুর

সেনাপতি শংকর

পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি

মন ভালো করা

পশু পাখির ভাষা

চিঠি

ঘাস ফড়িং

কুমোরে পোকা বাসা বাড়ি

Post a Comment

0 Comments