সূচিপত্র
পরিমাপ পদ্ধতি
পরিমাপ পদ্ধতি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয়। পরিমাপের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বস্তু, উপাদান বা ঘটনার সঠিক মান জানার চেষ্টা করি, যা আমাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। পরিমাপের মাধ্যমেই আমরা প্রকৃতির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, আণবিক গতি ইত্যাদি সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারি।
পরিমাপের মৌলিক ধারণা:
পরিমাপের অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট জিনিসের মান বা পরিমাণ নির্ধারণ করা। এটি একে অপরের সাথে তুলনা করার মাধ্যমে জানা যায়। যখনই কোনো বস্তু বা ঘটনার পরিমাণ পরিমাপ করা হয়, তখন তাকে একটি নির্দিষ্ট এককে (unit) প্রকাশ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা কোনো কিছুর দৈর্ঘ্য পরিমাপ করি, তবে তা মিটার, সেন্টিমিটার, কিলোমিটার ইত্যাদি এককে প্রকাশ করা হয়।
পরিমাপের মৌলিক একক:
দৈর্ঘ্য: দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য সবচেয়ে সাধারণ একক হচ্ছে মিটার (m)। আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI system)-এ দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য মিটারকে মৌলিক একক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
ভর: ভর পরিমাপের জন্য কিলোগ্রাম (kg) ব্যবহার করা হয়। এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অধীনে যে কোনো বস্তুর ভর নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।
সময়: সময় পরিমাপের জন্য সেকেন্ড (s) ব্যবহৃত হয়। এটি পৃথিবীতে কোনো ঘটনার চলমানতা বা অবস্থান প্রদর্শন করে।
তাপমাত্রা: তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য সেলসিয়াস (°C) এবং কেলভিন (K) ব্যবহৃত হয়।
বাতাসের চাপ: এর পরিমাপের একক হচ্ছে পাস্কাল (Pa)।
পরিমাপ পদ্ধতির প্রকারভেদ:
পদার্থবিজ্ঞান ভিত্তিক পরিমাপ (Physical Measurement):
এটি মূলত দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, আণবিক গতি ইত্যাদির পরিমাপের সাথে সম্পর্কিত। পদার্থবিজ্ঞানে পরিমাপের জন্য সাধারণত আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI system) অনুসরণ করা হয়। এখানে বিভিন্ন পরিমাপের জন্য একক এবং যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।
রাসায়নিক পরিমাপ (Chemical Measurement):
রাসায়নিক পরিমাপের ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণ, পরিসংখ্যান এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়। এতে রাসায়নিক ঘনত্ব, ঘনত্ব পরিবর্তন, দ্রাব্যতা ইত্যাদির পরিমাপের জন্য যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
জীববিজ্ঞানের পরিমাপ (Biological Measurement):
জীববিজ্ঞানের পরিমাপে জীবন্ত জিনিসের নানা বৈশিষ্ট্য যেমন শ্বাসপ্রশ্বাস, হার্ট রেট, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপ করা হয়। এই ধরনের পরিমাপ অনেক সময় জটিল এবং ভেরিয়েবল হতে পারে, যেহেতু জীবন্ত পরিবেশে অনেক পরিবর্তন হতে পারে।
পরিমাপের উপকরণ:
পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত উপকরণ বা যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সঠিক ফলাফল পেতে হলে সঠিক যন্ত্র বা উপকরণের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কিছু প্রধান পরিমাপ যন্ত্রের তালিকা দেয়া হলো:
স্কেল/রুলার (Scale/ Ruler): দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য এটি সবচেয়ে সাধারণ যন্ত্র।
থার্মোমিটার (Thermometer): তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
ব্যালান্স (Balance): এটি ভর পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এটি দুটি অংশে ভাগ হয়: এক্সপ্রেস ব্যালান্স এবং ডিজিটাল ব্যালান্স।
স্টপওয়াচ (Stopwatch): সময় পরিমাপের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়, বিশেষত ছোট সময়সীমার জন্য।
প্রেসার গেজ (Pressure Gauge): বাতাসের চাপ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI System):
SI System বা International System of Units হল এককগুলির একটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত সিস্টেম। এটি পৃথিবীর সব দেশের মধ্যে একটি সাধারণ পরিমাপ পদ্ধতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এটি বিজ্ঞান, শিল্প, বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয়। এটি মিটার (m), কিলোগ্রাম (kg), সেকেন্ড (s), অ্যাম্পেয়ার (A), কেলভিন (K), মোল (mol) এবং ক্যান্ডেলা (cd) সহ সাতটি মৌলিক একক ব্যবহার করে।
পরিমাপের গুরুত্ব:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে: পরিমাপের মাধ্যমেই আমরা প্রকৃতির বিভিন্ন ঘটনা বা বস্তু সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারি। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপ অপরিহার্য।
শিল্প ও নির্মাণ ক্ষেত্রে: কোনো নির্মাণ কাজ, মেশিন তৈরি, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন ইত্যাদির ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপ অপরিহার্য। ভুল পরিমাপের কারণে নির্মাণ কাজ নষ্ট বা বিপদজনক হতে পারে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে: রোগীর স্বাস্থ্য পরিমাপ, যেমন তাপমাত্রা, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ইত্যাদি পরিমাপ খুব গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য পরিমাপ প্রয়োজন।
দৈনন্দিন জীবনে: দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজ যেমন বাজারের মাল, রান্না, গাড়ির গতিবেগ ইত্যাদির পরিমাপ সঠিকভাবে করতে হয়।
পরিমাপের ভুল ও সংশোধন:
পরিমাপের ফলে কখনো কখনো ভুল হতে পারে। এই ভুল সাধারণত দুটি কারণে হয়:
যন্ত্রের ত্রুটি: যদি যন্ত্রের ক্যালিব্রেশন সঠিক না হয় বা যন্ত্রটি সঠিকভাবে কাজ না করে তবে তা ভুল ফলাফল প্রদান করতে পারে।
মানবীয় ত্রুটি: কখনো কখনো পরিমাপক ব্যক্তি ভুলভাবে পরিমাপ করে বা যন্ত্র সঠিকভাবে ব্যবহার না করলেও ভুল হতে পারে।
এই ধরনের ভুল পরিমাপ এড়ানোর জন্য যন্ত্রের সঠিক ক্যালিব্রেশন, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং মনোযোগ সহকারে কাজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
i) বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন : (MCQ)প্রতিটি প্রশ্নের মান 1
1. নীচের কোনটি দৈর্ঘ্যের একক নয়?
a ) মাইক্রন
b পারসেক
c)আলোকবর্ষ
d) কেলভিন
Ans - কেলভিন
2.নীচের রাশিগুলির মধ্যে কোনটি স্কেলার রাশি?
a) বেগ
a) ওজন
c)বল
d) তড়িৎ প্রবাহ মাত্রা
Ans - বেগ
3.আলোকবর্ষ কোন্ ভৌত রাশির একক?
a) দূরত্ব
b) আলোক তীব্রতা
c) সময়
d) আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য
Ans- দূরত্ব
4. SI পদ্ধতিতে দীপন প্রাবল্যের একক হল
a)কেলভিন
b)ক্যান্ডেলা
c)আলোকবর্ষ
d)পারসেক
Ans - ক্যান্ডেলা
5. নীচের কোনটি স্কেলার রাশি
a) ভরবেগ
b)বেগ
c) কার্য
d) বল
Ans- কার্য
6. এক ন্যানোমিটার = কত মিটার ?
a) 10-3
b) 10-9
c) 10-10
d) 10-6
Ans -10-3
7. দৈর্ঘ্যের বৃহত্তম একক কোনটি?
a) অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল একক
b) মিটার
c) পারসেক
d) আলোকবর্ষ
Ans - পারসেক
8. কোনটি ক্ষুদ্রতম একক
a) পারসেক
b) ফার্মি
c) মিটার
d) মিলিমিটার
Ans- ফার্মি
9. মাত্রাহীন ভৌতরাশির মাত্রীয় সংকেত
a) m0L0T0
b) m0L1T0
c)m0L0T1
d) M1
Ans - m0L0T0
10. সাধারণ তুলা যন্ত্রের সাহায্যে মাপা হয়
a)বস্তুর ভর
b)বস্তুর ওজন
c)বস্তুর ঘনত্ব
d)বস্তুর আয়তন
Ans- বস্তুর ভর
11. ক্ষমতার মাত্রীয় সংকেত হল
a) MLT2T3
b) MLT1
c) MLT2T1
d) MLT-2T3
Ans - MLT2T3
12. কার্যের মাত্রীয় সংকেত হল—
a) MLT-1
b) ML2T-3
c)ML2T2
d)ML2T1
Ans - ML2T2
ii) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :প্রতিটি প্রশ্নের মান 1
1.একটি স্কেলার রাশির উদাহরণ দাও।
Ans সময় একটি স্কেলার রাশি।
2. একটি ভেক্টর রাশির উদাহরণ দাও।
Ans গতিবেগ একটি ভেক্টর রাশি।
3. একটি এককবিহীন রাশির নাম লেখো ।
Ans আপেক্ষিক গুরুত্ব একটি এককবিহীন ভৌতরাশি।
4. . চাপ-এর মাত্রীয় সংকেত লেখো।
Ans চাপ-এর মাত্রীয় সংকেত [ML-1T-2]
5. 4°C উয়তায় 1 কিলোগ্রাম বিশুদ্ধ জলের আয়তন কত ?
Ans- 4°C উয়তায় 1 কিলোগ্রাম বিশুদ্ধ জলের আয়তন 1 লিটার।
6. বস্তুর ভর কীসের সাহায্যে মাপা হয়?
Ans- বস্তুর ভর সাধারণ তুলাযন্ত্রের সাহায্যে মাপা হয়।
7. স্প্রিং-তুলার সাহায্যে কোন্ রাশি মাপা হয় ?
Ans -স্প্রিং-তুলার সাহায্যে বস্তুর ওজন মাপা হয় ৷
8. দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য কী ধরনের ঘড়ি ব্যবহার
করা হয়।
Ans- দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য স্টপ-ওয়াচ বা বিরাম ঘড়ি ব্যবহার করা হয়।
9. 1 আলোক বর্ষ = কত কিমি?
Ans - 1 আলেক বর্ষ = 9.46 × 102 কিমি ।
iii) সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর
প্রতিটি প্রশ্নের মান 2
1. ভৌতরাশি বা প্রাকৃতিক রাশি কাকে বলে ও উদাহরণ দাও ।
Ans পরিমাপযোগ্য যে-কোনো প্রাকৃতিক বিষয়কে ভৌতরাশি বা প্রাকৃতিক রাশি বলা হয়।
উদাহরণ : দৈর্ঘ্য, ওজন, সময়, বেগ ইত্যাদি।
2. ভেক্টর রাশি কাকে বলে? উদাহরণ দাও ।
Ans ভেক্টর রাশি : যেসব ভৌত রাশির মান এবং অভিমুখ দুই-ই আছে, তাদের ভেক্টর রাশি বলা হয়। উদাহরণ : বেগ, ওজন, ভরবেগ ইত্যাদি।
3. ফার্মি মৌলিক একক না লব্ধ একক?
Ans ফার্মি একটি মৌলিক একক।
4. লিটার মৌলিক একক না লব্ধ একক?
Ans লিটার একটি লব্ধ একক।
5. দৈর্ঘ্যের বৃহত্তম একক কোনটি?
Ans দৈর্ঘ্যের বৃহত্তম একক হল পারসেক ।
6. দুটি মৌলিক রাশির উদাহরণ দাও।
Ans দৈর্ঘ্য এবং ভর হল মৌলিক রাশি।
7. SI পদ্ধতিতে দুটি মৌলিক এককের নাম লেখো।
Ans - SI পদ্ধতিতে দুটি মৌলিক একক হল মিটার এবং সেকেন্ড। (মিটার হল দৈর্ঘ্যের একক এবং সেকেন্ড
সময়ের একক) ।
8. আলোকবর্ষ কোন্ ভৌতরাশির একক?
Ans - আলোকবর্ষ দৈর্ঘ্য পরিমাপের বড়ো একক।
9. ফার্মি ও মিটারের মধ্যে সম্পর্ক কী ?
Ans 1 ফার্মি = 10-15 মিটার।
10. কোন উষ্ণতায় জলের ঘনত্ব সর্বাধিক? এই ঘনত্বের মান কত ?
Ans 4°C উষ্ণতায় জলের ঘনত্ব সর্বাধিক। 4°C উষ্ণতায় জলের ঘনত্বের মান 1g/cm3 |
11. বস্তুর ওজন ও ভরের মধ্যে সম্পর্ক কী?
Ans - বস্তুর ওজন = বস্তুর ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ।
12. 1 amu = কত গ্রাম
Ans 1 amu = 1.66 x 10-24 গ্রাম।
13. দীপন প্রাবল্যের SI একক কী?
Ans দীপন প্রাবল্যের SI একক ক্যান্ডেলা
14. দৈর্ঘ্যের দুটি বড়ো এককের নাম লেখো।
Ans দৈর্ঘ্যের দুটি বড়ো একক হল আলোকবর্ষ, পারসেক ।
15. দৈর্ঘ্যের দুটি ছোটো এককের নাম লেখো।
Ans দৈর্ঘ্যের দুটি ছোটো একক হল ন্যানোমিটার, ও ফার্মি।
16. ডালটন বা u এককে কী মাপা হয়?
Ans - ডালটন বা u এককে অণু, পরমাণুর ভর মাপা হয়।
17. মাইক্রন এককে কী মাপা হয়?
Ans- মাইক্রন এককে অতিক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীবদের দৈর্ঘ্য ও ব্যাসার্ধ মাপা হয়।
18. বস্তুর ভর কীসের সাহায্যে মাপা হয়?
Ans- বস্তুর ভর সাধারণ তুলাযন্ত্রের সাহায্যে মাপা হয়।
19.স্প্রিং-তুলার সাহায্যে কোন্ রাশি মাপা হয়?
Ans স্প্রিং-তুলার সাহায্যে বস্তুর ওজন মাপা হয় ।
iv ) সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর
প্রতিটি প্রশ্নের মান - 2/3
1. ভৌতরাশি বা প্রাকৃতিক রাশি কাকে বলে? ও উদাহরণ দাও ।
Ans পরিমাপযোগ্য যে-কোনো প্রাকৃতিক বিষয়কে ভৌতরাশি বা প্রাকৃতিক রাশি বলা হয়।
উদাহরণ : দৈর্ঘ্য, ওজন, সময়, বেগ ইত্যাদি।
2. ভেক্টর রাশি কাকে বলে? উদাহরণ দাও ।
Ans ভেক্টর রাশি : যেসব ভৌতরাশির মান এবং অভিমুখ দুই-ই আছে, তাদের ভেক্টর রাশি বলা হয় । উদাহরণ : বেগ, ওজন, ভরবেগ ইত্যাদি।
3. ভৌতরাশি কয় প্রকার ও কী কী?
Ans ভৌতরাশি বা প্রাকৃতিক রাশি দুই প্রকার।
যথা— স্কেলার রাশি এবং ভেক্টর রাশি।
4. স্কেলার রাশি কাকে বলে? উদাহরণ দাও ।
Ans স্কেলার রাশি : যেসব ভৌতরাশির কেবলমাত্র মান আছে, কিন্তু কোনো দিক বা অভিমুখ নেই, তাদের স্কেলার বলে।
5. একক কাকে বলে ?
Ans কোনো ভৌতরাশির একটি নির্দিষ্ট ও সুবিধাজনক পরিমাণকে প্রমাণ ধরে প্রদত্ত রাশিটির বা সমজাতীয় রাশিসমূহের পরিমাপ করা হয়। ওই নির্দিষ্ট ও সুবিধাজনক পরিমাণকে ওই রাশিটির একক বলা হয়। উদাহরণ : দৈর্ঘ্যের একক মিটার বা সেন্টিমিটার
6. এককের প্রয়োজনীয়তা কী?
Ans কোনো ভৌতরাশির পরিমাপের জন্য একক অবশ্যই প্রয়োজন। একক ছাড়া কোনো ভৌতরাশির পরিমাপ সম্পর্কে পরিষ্কার ও সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। কোনো ভৌতরাশিকে সুস্পষ্ট এবং সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে হলে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার সঙ্গে একক লিখতে হবে। যেমন—রাম অনেক লম্বা বললে, কিংবা রামের উচ্চতা 2 বললে রামের উচ্চতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না। কিন্তু রামের উচ্চতা 2 মিটার বলা হলে রামের উচ্চতা সম্পর্কে সঠিক ও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তাই একক ছাড়া পরিমাপ অর্থহীন।
7. মৌলিক রাশি কাকে বলে? উদাহরণ দাও ।
Ans যেসব ভৌতরাশি সংজ্ঞায়িত করতে অন্য কোনো ভৌতরাশির দরকার হয়, না এবং যে রাশিগুলির সাহায্যে অন্যান্য ভৌতরাশি গঠিত হয় তাদের প্রাথমিক রাশি মৌলিক রাশি বলে। উদাহরণ : দৈর্ঘ্য, ভর, সময়।
8.লব্ধ রাশি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
Ans- এক বা একাধিক মৌলিক রাশির সমবায়ে গঠিত ভৌত রাশিকে লব্ধ রাশি বলে। যেমন— গতিবেগ, কার্য
9. মৌলিক এককের উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও ।
Ans- মৌলিক একক: যে এককগুলি পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং যে এককগুলির সাহায্যে অন্যান্য ভৌতরাশির একক গঠন করা হয়, তাদের মৌলিক একক বা প্রাথমিক একক বা মূল একক বলা হয়। যেমন—দৈর্ঘ্যের SI একক মিটার, সময়ের SI একক সেকেন্ড।
10. আলোকবর্ষ কাকে বলে ? এটি মূল একক না লব্ধ একক ?
Ans আলোকবর্ষ : শূন্য মাধ্যমে আলো এক বছর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে আলোকবর্ষ বলে।
1 আলোকবর্ষ = 9.46 × 102 km 9.46 x 1015 m আলোকবর্ষ দৈর্ঘ্যের একক, তাই এটি মূল একক।
11.প্রমাণ মিটারের সংজ্ঞায় নির্দিষ্ট উষ্ণতার উল্লেখ করা
হয় কেন?
Ans উষ্ণতা পরিবর্তনে ধাতু বা ধাতু-সংকর দিয়ে তৈরি দণ্ডের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন হয়। উষ্ণতা বাড়লে দণ্ডের দৈর্ঘ্য বাড়ে, এবং উষ্ণতা কমলে দণ্ডের দৈর্ঘ্য কমে। একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতা দণ্ডের দৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট থাকে। তাই প্রমাণ মিটারের সংজ্ঞায় নির্দিষ্ট উষ্ণতা (0°C বা 273K) উল্লেখ করা হয়।
12. লিটারের সংজ্ঞায় 4°C বা 277K উষ্ণতায় উল্লেখ করতে হয় কেন ?
Ans লিটারের সংজ্ঞায় 4°C বা 277K উষ্ণতা উল্লেখ করা হয়। কারণ 4°C উষ্ণতা জলের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং আয়তন সবচেয়ে কম। এই উষ্ণতা এক কিলোগ্রাম বিশুদ্ধ জলের আয়তন কে এক লিটার ধরা হয়। জলের উষ্ণতা 4°C -এর কম বা বেশি হলে জলের ঘনত্ব কমে, ফলে 1 কিলোগ্রাম জলের আয়তন 1 লিটার থেকে বেশি হয়। তাই নির্দিষ্ট আয়তন বোঝাতে লিটারের সংজ্ঞায় 4°C উষ্ণতা উল্লেখ করা হয়।
আরো নতুন নতুন পোস্ট পেতে ক্লিক করুন
নিউটনের প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় গতিশক্তির ব্যবহার
চুম্বক কয় প্রকার ও তার ব্যবহার
তরলের চাপ বা আর্কিমিডিসের নীতি
0 Comments